৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

গভীর রাতে বাড়িতে আগুন, ঘুম থেকে চিরঘুমে মা-শিশু

গভীর রাতে বাড়িতে আগুন, ঘুম থেকে চিরঘুমে মা-শিশু

দুধের শিশুকে বুকে জড়িয়ে ঘুমিয়ে ছিলেন আতিয়া বেগম (২৭)। সকাল হয়েছে ঠিকই- তবে আতিয়া বেগমের সেই ঘুম আর ভাঙেনি। গভীর রাতে বাড়িতে লাগা আগুনে পুড়ে মারা গেছেন তিনি এবং তার দেড় বছর বয়সি শিশু রওজা মনি। গুরুত্বর দগ্ধ হয়েছেন বৃদ্ধ শ্বাশুড়ি মনিকা বেগম।

সোমবার রাত তিনটার দিকে আগুন লাগে গুরুদাসপুর উপজেলার ধারাবারিষা ইউনিয়নের ঝাউপাড়া গ্রামের দিনমজুর রান্টুর বাড়িতে। এই আগুনে অন্তত ১৮টি ছাগল পুড়ে মারা গেছে। পুড়ে ছাই হয়েছে দোকান, গোয়াল এবং শোবার ঘরসহ ৭টি ঘর। এতে প্রায় ২৫ লাখ টাকার মতো ক্ষতি হয়েছে বলে জানান প্রাণে বেঁচে যাওয়া রান্টু সরকার।

বিলাপ করতে করতে রান্টু সরকার বলেন, তিনিও স্ত্রী সন্তানর সঙ্গে ঘুমিয়ে ছিলেন। আগুন ছড়িয়ে পড়ার পর তিনি দৌড়ে ঘর থেকে বেড়িয়ে পড়েন। মুহুর্তে আগুন ভয়াবহ রূপ নেয়। প্রাণভয়ে শিশু সন্তান নিয়ে খাটের নিচে আশ্রয় নেন তার স্ত্রী। নিজে কোনো মতে প্রাণে বাঁচলেও বাঁচানো যায়নি তার স্ত্রী-সন্তানকে।

তিনি বলেন, ঘরবাড়ি, স্ত্রী ও দুধের সন্তানকে হারিয়ে তিনি পাগলপ্রায় হয়ে গেছেন। দগ্ধ হয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছেন তার মা মনেকা বেগমও। সব হারিয়ে তিনি এখন নিস্ব।

স্থানীয় ইউপি সদস্য বলেন, আগুন লাগার খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজন নেভানোর চেষ্টা করেন। তবে তাতে কোনো লাভ হয়নি। ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হলেও ততক্ষণে সব পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

প্রত্যক্ষদর্শী শাকিল ইসলাম বলেন, গোয়ালে দেওয়া কয়েল থেকে আগুন লাগে ধানের খড়ে। এরপর তা ছড়িয়ে পড়ে পুরো বাড়িতে। তিনিসহ স্থানীয় বাসিন্দারা পানি ঢেলে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। সব পুড়ে যায়ার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।  ততক্ষণে পুড়ে অঙ্গার হয় মা-মেয়ের প্রাণ। ভস্মীভূত হয় নগদ টাকা, সোনা, দোকানের মালামালসহ শোবার ঘর। আগুনে প্রতি বেশি নেকজার আলীর ১টি দোকান পুড়েছে। পুড়েছে ইসলামের ৮টি ছাগল। এই ঘটনায় গ্রামে শোকের ছাড়া নেমে এসেছে।

এদিকে খবর পেয়ে জামায়াতের এমপি প্রার্থী মাওলানা আব্দুল হাকিম ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ান। করেন আর্থিক সহায়তা।

গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগের চিকিৎসক ওহীদুজ্জামান রুবেল বলেন, গুরুত্বর দগ্ধ অবস্থায় মনিকা বেগমকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। ওই নারীর শরীরের প্রায় ৪০ শতাংশ পুড়ে গেছে। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

গুরুদাসপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বলেন, ঘটনাস্থলে গিয়ে পুড়ে মারা যাওয়া মা মেয়ের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

গুরুদাসপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা আফরোজ বলেন, শিশুসহ আগুনে পুড়ে মায়ের মৃত্যুর ঘটনাটি বেদনাদায়ক। শুকনো খাবারসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হয়েছে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটিকে।