৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

আজ রাত থেকে মোবাইল ও ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ে কঠোর বিধিনিষেধ

আজ রাত থেকে মোবাইল ও ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ে কঠোর বিধিনিষেধ

আসন্ন ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাকার অবৈধ ব্যবহার ও অপব্যবহার রোধে মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) এবং ইন্টারনেট ব্যাংকিং সেবা সীমিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

আজ রোববার কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

কখন থেকে কার্যকর? এই সিদ্ধান্ত আজ রাত ১২টা থেকে কার্যকর হবে এবং আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের দিন রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত (টানা ৯৬ ঘণ্টা) বহাল থাকবে।

এমএফএস লেনদেনে নতুন সীমা (বিকাশ, রকেট, নগদ ইত্যাদি): প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, সাধারণ গ্রাহকরা এই সময়ে লেনদেনের ক্ষেত্রে নিচের সীমাবদ্ধতার সম্মুখীন হবেন:

একক লেনদেন: একজন গ্রাহক অন্য কাউকে (P2P) প্রতিবার সর্বোচ্চ ১,০০০ টাকা পাঠাতে পারবেন।

দৈনিক সীমা: দিনে সর্বোচ্চ ১০টি লেনদেনের মাধ্যমে মোট ১০,০০০ টাকা পাঠানো যাবে।

অপরিবর্তিত সেবা: তবে কেনাকাটার বিল (মার্চেন্ট পেমেন্ট) এবং গ্যাস-বিদ্যুৎ বা অন্যান্য পরিষেবা বিল (ইউটিলিটি বিল) প্রদানের ক্ষেত্রে স্বাভাবিক নিয়ম চালু থাকবে।

ইন্টারনেট ব্যাংকিং সেবা বন্ধ: ইন্টারনেট ব্যাংকিং বা বিভিন্ন ব্যাংকের অ্যাপ ব্যবহার করে এক অ্যাকাউন্ট থেকে অন্য অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানোর সুবিধা (IBFT) এই ৯৬ ঘণ্টা সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। এছাড়া এমএফএস প্রতিষ্ঠানগুলোর লেনদেন বহির্ভূত অন্যান্য আনুষঙ্গিক সেবাও এই সময়ে সাময়িকভাবে স্থগিত থাকতে পারে।

কঠোর নজরদারি ও রেসপন্স সেল: নির্বাচন উপলক্ষে কোনো ধরনের আর্থিক অপরাধ বা অস্বাভাবিক লেনদেন ঠেকাতে এমএফএস প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রতিটি লেনদেন নিবিড় পর্যবেক্ষণে (Close Monitoring) রাখতে বলা হয়েছে।

প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে নিজস্ব 'জরুরি রেসপন্স সেল' গঠন করতে হবে।

কোনো সন্দেহজনক লেনদেন চোখে পড়লে তাৎক্ষণিকভাবে নিকটস্থ থানায় রিপোর্ট করতে হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চাহিদা মোতাবেক প্রয়োজনীয় সকল সহযোগিতা প্রদান করবে ব্যাংক ও এমএফএস প্রতিষ্ঠানগুলো। নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতেই এই অস্থায়ী বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।