নাটোর-৪ (গুরুদাসপুর-বড়াইগ্রাম) সংসদীয় আসনের নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী মাওলানা মো. আব্দুল হাকিম তার নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়া বাইপাস এলাকায় এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তিনি এই ইশতেহার তুলে ধরেন।
ইশতেহারের মূল অঙ্গীকারসমূহ: একটি দুর্নীতিমুক্ত, সমাজকল্যাণমুখী এবং মানবিক ও উন্নত সমাজ গড়ার লক্ষ্যে মাওলানা আব্দুল হাকিম মোট ১৬টি অগ্রাধিকার ভিত্তিক উন্নয়ন প্রস্তাবনা পেশ করেন। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
সুশাসন: দুর্নীতিমুক্ত ও স্বচ্ছ প্রশাসনিক কাঠামো নিশ্চিত করা।
শিক্ষা ও নৈতিকতা: নৈতিক মূল্যবোধ সম্পন্ন মানবসম্পদ ও আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন।
স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা: সবার জন্য মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক নিরাপত্তা বলয় তৈরি।
শিল্পায়ন: অত্র অঞ্চলে গ্যাস নির্ভর শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি।
অবকাঠামো: যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতে কৃষি উন্নয়ন।
নারী অধিকার: নারীর মর্যাদা রক্ষা ও পারিবারিক নিরাপত্তা সুসংহত করা।
উপস্থিত ব্যক্তিবর্গ: ইশতেহার ঘোষণাকালে উপস্থিত ছিলেন বড়াইগ্রাম উপজেলা আমির অধ্যাপক মো. হাবিবুর রহমান, গুরুদাসপুর উপজেলা আমির অধ্যাপক মো. আব্দুল আলিম, বিশিষ্ট মহাকাশ বিজ্ঞানী মো. ফজলুল হক, এনসিপি’র জেলা সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক হাফিজুর রহমান ময়না এবং বিভিন্ন পর্যায়ের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় সাংবাদিকগণ।
পরিবর্তনের ইশতেহার
মাওলানা মো. আব্দুল হাকিম বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলাম ও ১১ দলীয় জোট মনোনীত নাটোর-৪ (গুরুদাসপুর-বড়াইগ্রাম) আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী।
১. সুশাসন ও দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন
ক. ঘুষ, দুর্নীতি, মাদক, চাঁদাবাজি, ধর্ষণ ও দলীয়করণের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স প্রদর্শন করা হবে।
খ. স্থানীয় সরকার দপ্তরে সকল প্রকার সেবা নিশ্চিত করা হবে।
গ. জনগণের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ জনকল্যাণে ব্যয়ের নিশ্চয়তা প্রদান করা হবে।
ঘ. সংসদে সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে সোচ্চার ভূমিকা পালন করা হবে।
ঙ. সকল প্রকার নিয়োগ, পদোন্নতি এবং বদলি উৎকোচ বিহীন ভাবে যোগ্যতা ও স্বচ্ছতার ভিত্তিতে তদারকি করা হবে।
২. কৃষি ও কৃষকের উন্নয়ন
ক. গুরুদাসপুর-বড়াইগ্রামের কৃষকদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা হবে।
খ. সেচ, সার, বীজ ও কীটনাশকের সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে।
গ. কৃষিপণ্য ও মাছ সংরক্ষণে হিমাগার নির্মাণ ও বাজারজাতকরণ সুবিধা বৃদ্ধি করা হবে।
ঘ. কৃষিভিত্তিক ক্ষুদ্র শিল্প স্থাপন করা হবে।
ঙ. সম্মানীত মৎস্য চাষীদের জন্য ‘ফিস প্রসেসিং সেন্টার’ স্থাপন করা হবে।
চ. স্থানীয় কৃষকের উৎপাদিত ফল ও ফসল বাজারজাতকরণ ব্যবস্থা আধুনিকায়ন করা হবে।
৩. ব্যবসা বান্ধব চাঁদাবাজমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করণ
ক. সকল প্রকার ব্যবসায়ীদের জন্য চাঁদাবাজমুক্ত নিরাপদ ব্যবসায়িক পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে।
খ. ব্যবসায়ীদের ক্ষুদ্র ও মাঝারী শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ায় সার্বিক সহায়তা প্রদান করা হবে।
৪. শিক্ষা ও নৈতিক মানবসম্পদ গঠন
ক. প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আধুনিক ও নীতি নৈতিকতা সম্পন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে।
খ. নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তকরণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
গ. সরকারি ভবন বিহীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নতুন ভবন বরাদ্দের ব্যবস্থা করা হবে।
ঘ. কওমী ও হাফিজিয়া মাদ্রাসা সমূহে নিয়মিত বরাদ্দের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে।
৫. স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক নিরাপত্তা
ক. বিদ্যমান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১০০ বেডে উন্নীত করণ ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নিয়োগের ব্যবস্থা করা হবে।
খ. সরকারি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম ও আইসিইউ ব্যবস্থা চালু করা হবে।
গ. মা ও শিশুর স্বাস্থ্যসেবায় বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ এবং ইউনিয়ন স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে সুচিকিৎসা নিশ্চিত করা হবে।
ঘ. বয়স্ক ভাতা, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ভাতা বাস্তবায়নে নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে।
ঙ. পাঁচ বছরের নিচে এবং ৬০ ঊর্ধ্ব বয়সীদের বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
চ. স্থানীয় সংবাদকর্মীদের জন্য কল্যাণমুখী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
৬. মুক্তিযোদ্ধা ও জুলাই যোদ্ধাদের মর্যাদা
ক. মুক্তিযোদ্ধা, জুলাই যোদ্ধা ও শহীদ জুলাই যোদ্ধাদের পরিবারকে সম্মান ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হবে।
খ. পরিবারের সদস্যদের কর্মসংস্থানের মাধ্যমে স্বাবলম্বী করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
৭. যোগাযোগ ও অবকাঠামো উন্নয়ন
ক. আইডিভুক্ত সকল কাঁচা সড়ক পাকা করা হবে।
খ. আধাপাকা রাস্তা ও ক্ষতিগ্রস্থ ব্রিজগুলো দ্রুত সংস্কার করা হবে।
গ. গ্রামীণ হাট-বাজারের উন্নয়ন নিশ্চিত করে নিরাপদ বাজার ব্যবস্থা চালু করা হবে।
ঘ. বনপাড়া-হাটিকুমরুল মহাসড়ককে চার লেনে উন্নীত করণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
ঙ. নাটোর থেকে বনপাড়া, বড়াইগ্রাম ও গুরুদাসপুর হয়ে সিরাজগঞ্জ পর্যন্ত রেললাইন স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
৮. যুব সমাজ ও কর্মসংস্থান
ক. বেকার যুবকদের দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করতে প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
খ. বিদেশ গমনেচ্ছু যুবকদের কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রশিক্ষিত করে ফ্রি পাসপোর্ট করে দেওয়া হবে।
৯. নারীর মর্যাদা ও পারিবারিক নিরাপত্তা
ক. কর্মজীবী নারীদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ সৃষ্টি করা হবে।
খ. কর্মহীন গৃহিণীদের নিজ গৃহে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প স্থাপন করে আয়বর্ধক কাজে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
গ. স্থানীয় শ্রমিকদের জন্য কল্যাণ ট্রাস্ট গঠন করা হবে।
১০. ধর্মীয় ও নৈতিক সমাজ গঠন
ক. ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা করা হবে।
খ. সমাজ থেকে সুদ, জুলুম ও অনৈতিক আচরণ দূরীকরণে প্রচেষ্টা করা হবে।
গ. প্রতিটি মসজিদে মক্তব শিক্ষা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
ঘ. হিন্দু-খ্রীষ্টান, আদিবাসী সম্প্রদায় ও অন্যান্য ধর্মের মানুষদের রাষ্ট্রীয় সুবিধা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে কোনো বৈষম্য করা হবে না।
১১. পরিকল্পিত নগরায়ন ও আবাসন
ক. নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের জন্য সাশ্রয়ী আবাসন প্রকল্প গ্রহণ করা হবে।
খ. পৌর শহর ও হাট-বাজারের বর্জ্য ও প্লাস্টিক রিসাইকেলিং করে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করা হবে।
গ. গুরুদাসপুর, বনপাড়া ও বড়াইগ্রাম পৌরসভার সেবা এবং উন্নয়ন ব্যবস্থা আধুনিকায়ন করা হবে।
ঘ. চলনবিল এলাকায় অর্থনৈতিক জোন প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
ঙ. বড়াইগ্রাম ও বনপাড়া পৃথক উপজেলা করার উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হবে।
১২. ক্রীড়া ও সংস্কৃতি
ক. দুই উপজেলায় দুটি পৃথক ও আধুনিক স্টেডিয়াম নির্মাণের কাজ দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে।
খ. ধর্মীয় এবং বাংলাদেশী ইতিহাস ঐতিহ্য চর্চায় ২ উপজেলায় পৃথক দুইটি সাংস্কৃতিক চর্চা কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে।
১৩. বিনোদন ও পর্যটন
ক. চলনবিলে ইকো ট্যুরিজম পার্ক স্থাপন করা হবে।
খ. পাড়িয়ারদিঘি, বিলশা ও পদ্দবিল পর্যটন ব্যবস্থা আধুনিকায়ন করা হবে।
গ. বিনোদন ও প্রাতঃ ভ্রমণের জন্য দুই উপজেলায় পার্ক ও উন্মুক্ত স্থান সংরক্ষণ করা হবে।
১৪. জ্বালানি ও বিদ্যুৎ
ক. নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
খ. পৌর এলাকা সমূহে আবাসিক গ্যাস সংযোগ ও গ্যাস নির্ভর শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
১৫. ডিজিটাল প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নির্মাণ
ক. শিক্ষিত বেকারদের প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণ দিয়ে অনলাইন উদ্যোক্তা ও ফ্রিল্যান্সিং এর মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সৃষ্টি করা হবে।
১৬. নাটোর-৪ উন্নয়ন ফোরাম গঠন
ক. দুই উপজেলার সাবেক ও বর্তমান বিশিষ্ট জন বিশেষ করে সরকারের সচিব-উপসচিব, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক, বিজ্ঞানী গবেষক, প্রকৌশলী, আইনজীবী, প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের সমন্বয়ে উন্নয়ন ফোরাম গঠন করা হবে।
গণভোটে আমি ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে- আপনিও ‘হ্যাঁ’ ভোট দিন। "হ্যাঁ-ভোট দিলে জুলাই সনদ পাশ হবে। যার ফলে, সরকারি ও বিরোধীদলের মতবিরোধ কমে যাবে। দেশের সব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে উভয় দলের মতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত হবে এবং সংবিধানের গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন করতে হলে গণভোট দিতে হবে। হ্যাঁ ভোট দিলে প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার ভারসাম্য সৃষ্টি হবে এবং কেউ আর স্বৈরাচার হতে পারবে না।"