শেরপুর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনের নির্বাচনী কার্যক্রম স্থগিত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
এই আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ নুরুজ্জামান বাদলের (৫১) মৃত্যুতে বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
নির্বাচন কমিশনের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে শেরপুরের জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা তরফদার মাহমুদুর রহমান জানান, নির্বাচনী আইনের ১৭ নম্বর অনুচ্ছেদের ১ উপ-ধারা অনুযায়ী, বৈধ কোনো প্রার্থীর মৃত্যুতে সংশ্লিষ্ট আসনের নির্বাচনী কার্যক্রম তাৎক্ষণিকভাবে বাতিল করার বিধান রয়েছে। শীঘ্রই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে এবং পরবর্তীতে নতুন তফসিল ঘোষণা করা হবে।
যেভাবে মৃত্যু হলো প্রার্থীর
পারিবারিক ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, নুরুজ্জামান বাদল দীর্ঘদিন ধরে কিডনিজনিত রোগে ভুগছিলেন। মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে হঠাৎ শ্বাসকষ্ট শুরু হলে তাকে প্রথমে শ্রীবরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে ময়মনসিংহ নেওয়ার পথে রাত ৩টার দিকে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তিনি শেরপুর জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
আসনটিতে উত্তপ্ত পরিস্থিতি
শেরপুর-৩ আসনটি আগে থেকেই রাজনৈতিকভাবে উত্তপ্ত ছিল। গত ২৮ জানুয়ারি ঝিনাইগাতীতে ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানে বিএনপি ও জামায়াত কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি রেজাউল করিম নিহত হয়েছিলেন। সেই রেশ কাটতে না কাটতেই এবার মূল প্রার্থীর মৃত্যুতে আসনটিতে শোকের ছায়া ও নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হয়েছে।
প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী যারা ছিলেন
নির্বাচন স্থগিত হওয়ার আগে এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ছিলেন:
মাহমুদুল হক রুবেল (বিএনপি - ধানের শীষ)
মুফতি আবু তালেব মো. সাইফুদ্দিন (ইসলামী আন্দোলন - হাতপাখা)
মো. মিজানুর রহমান (বাসদ মার্কসবাদী - কাঁচি)
ইসলাম বাদশা (বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র - মোটরসাইকেল)