৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বেতন বাড়ার ইঙ্গিত

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বেতন বাড়ার ইঙ্গিত

ঢাকা সরকারের নবম জাতীয় বেতন কাঠামো (পে-স্কেল) বাস্তবায়ন নিয়ে সারাদেশের কয়েক লাখ এমপিওভুক্ত শিক্ষক ও কর্মচারীর মধ্যে একদিকে যেমন আশার আলো দেখা দিয়েছে, অন্যদিকে সুযোগ-সুবিধার বৈষম্য নিয়ে তৈরি হয়েছে চরম উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা।

সংশ্লিষ্টদের তথ্যমতে, নতুন পে-স্কেল কার্যকর হলে শিক্ষকদের মূল বেতন বাড়লেও বাড়ি ভাড়া, চিকিৎসা ও শিক্ষা ভাতার মতো মৌলিক সুবিধাগুলোতে সরকারি কর্মচারীদের তুলনায় তারা অনেকটাই পিছিয়ে থাকবেন।

মূল বেতন বাড়ার নিশ্চয়তা: অর্থ মন্ত্রণালয় ও পে কমিশনের একাধিক সদস্য জানিয়েছেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা সরাসরি সরকারি কর্মচারী না হলেও তারা সরকারের নির্ধারিত বেতন কাঠামোর (গ্রেড) আওতায় বেতন পান। যদিও এটি 'অনুদান' হিসেবে বিবেচিত হয়, তবে নতুন পে-স্কেল অনুমোদিত হলে শিক্ষকদের মূল বেতন সেই অনুযায়ী বৃদ্ধি পাওয়ার কথা। শিক্ষা প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মতে, নতুন কাঠামোতে মূল বেতন বাড়লে তার সাথে উৎসব ভাতা ও বৈশাখী ভাতার পরিমাণও আনুপাতিক হারে বাড়বে।

সুবিধা বঞ্চনার চিত্র: মূল বেতন বাড়ার স্বস্তি থাকলেও অন্যান্য ভাতার ক্ষেত্রে বৈষম্য থেকেই যাচ্ছে। প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী:

বাড়ি ভাড়া: সরকারি চাকরিজীবীরা ৪৫ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ি ভাড়া পেলেও এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা পাবেন মূল বেতনের মাত্র ১৫ শতাংশ।

চিকিৎসা ভাতা: নতুন পে-স্কেলে সরকারি চাকরিজীবীদের চিকিৎসা ভাতা ৪ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত করার প্রস্তাব থাকলেও শিক্ষকরা বর্তমানের ৫০০ টাকাতেই সীমাবদ্ধ থাকার শঙ্কা রয়েছে।

শিক্ষা ও টিফিন ভাতা: সরকারি কর্মচারীরা সন্তানদের জন্য শিক্ষা ভাতা ও মাসিক টিফিন ভাতা পেলেও এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জন্য এসব খাতের কোনো বরাদ্দ নেই। নেই কোনো বিনোদন ভাতাও।

অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগ: বেতন বৈষম্য নিয়ে শিক্ষকরা বলছেন, একই বাজারে পণ্য কিনতে হলেও সরকারি ও বেসরকারি (এমপিওভুক্ত) শিক্ষকদের আয়ের বড় এই ব্যবধান তাদের জীবনযাত্রাকে কঠিন করে তুলছে। শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের দাবি, পে-স্কেল বাস্তবায়নের পাশাপাশি এই দীর্ঘদিনের সুযোগ-সুবিধার বৈষম্য কমিয়ে না আনলে শিক্ষক সমাজে হতাশা আরও বাড়বে।

উল্লেখ্য, বর্তমানে সারাদেশের কয়েক লাখ শিক্ষক-কর্মচারী অধীর আগ্রহে নবম পে-স্কেলের চূড়ান্ত ঘোষণা ও কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের দিকে তাকিয়ে আছেন।