মিয়ানমারে শক্তিশালী ভূমিকম্পের ফলে রাজধানী ঢাকাসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে দুই দফায় ভূকম্পন অনুভূত হয়েছে। রিখটার স্কেলে প্রথম ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৫.৯ এবং দ্বিতীয়টির মাত্রা ছিল ৫.২।
ঘটনার বিবরণ: আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম দফায় রাত ৯টা ৩৪ মিনিট ১ সেকেন্ডে কম্পন অনুভূত হয়। এর উৎপত্তিস্থল ছিল মিয়ানমারের মিংডু (আকিয়াব শহরের কাছে), যা ঢাকা থেকে প্রায় ৫২১ কিলোমিটার দূরে। এর মাত্র ১৫ মিনিট পর রাত ৯টা ৫১ মিনিটে দ্বিতীয় দফায় ৫.২ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়।
সাতক্ষীরায় ভোরের কম্পন: উল্লেখ্য যে, আজই ভোর ৪টা ৩৬ মিনিটে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় জেলা সাতক্ষীরায় ৪.১ মাত্রার একটি মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছিল। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, এর উৎপত্তিস্থল ছিল সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলায় এবং গভীরতা ছিল ১৫০ কিলোমিটার।
বিশেষজ্ঞের মতামত: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. হুমায়ুন আখতার জানিয়েছেন, মিয়ানমারের এই অঞ্চলটি একটি সক্রিয় 'সাবডাকশন জোন'-এর মধ্যে পড়ে, যা দীর্ঘ ১৪০০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত। তবে উৎপত্তিস্থল অনেকটা দূরে হওয়ায় বাংলাদেশে বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা নেই।
ক্ষয়ক্ষতি: এখন পর্যন্ত দেশের কোথাও কোনো হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। তবে রাতের এই কম্পনে বহুতল ভবনের বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেকেই রাস্তায় নেমে আসেন।