৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

পোশাকশিল্পের সংকট কাটাতে সরকারের কাছে জরুরি সহায়তা চাইল বিজিএমইএ

পোশাকশিল্পের সংকট কাটাতে সরকারের কাছে জরুরি সহায়তা চাইল বিজিএমইএ

দেশের প্রধান বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী খাত তৈরি পোশাকশিল্পের সংকট মোকাবিলা এবং রপ্তানি প্রবাহ সচল রাখতে সরকারের কাছে নীতিগত ও জরুরি আর্থিক সহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)।

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের সচিব মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদারের সঙ্গে এক জরুরি বৈঠকে বিজিএমইএ-র একটি প্রতিনিধিদল এই আবেদন জানায়। সংগঠনটির সহসভাপতি মো. শিহাব উদ্দোজা চৌধুরীর নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলে আরও উপস্থিত ছিলেন সহসভাপতি মো. রেজোয়ান সেলিম, মিজানুর রহমান এবং পরিচালক ফয়সাল সামাদ।

পোশাক খাতের উদ্বেগজনক চিত্র
বৈঠকে বিজিএমইএ নেতারা জানান, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা ও অভ্যন্তরীণ প্রতিকূলতায় পোশাক খাত এক কঠিন ক্রান্তিকাল পার করছে। তাদের দেওয়া তথ্যানুযায়ী:

চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে পোশাক রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ২.৪৩% কমেছে।

২০২৫ সালের শেষ তিন মাসে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) প্রবৃদ্ধি কমেছে গড়ে ৯.৪৩%।

গত এক বছরে উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি ও ক্রয়াদেশ কমে যাওয়ায় প্রায় ৪০০টি কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে।

ফেব্রুয়ারি ও মার্চের বিশেষ সংকট
সংগঠনটি উল্লেখ করেছে যে, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন, সরকারি ছুটি এবং পবিত্র ঈদুল ফিতরের কারণে ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসে কর্মদিবস অনেক কমে আসবে। ৬০ দিনের মধ্যে কারখানা মাত্র ৩৫ দিন খোলা থাকলেও মার্চ মাসে নিয়মিত বেতনের সঙ্গে বোনাস ও অগ্রিম বেতন মিলিয়ে প্রায় দ্বিগুণ মজুরি পরিশোধ করতে হবে। এটি ক্ষুদ্র ও মাঝারি (এসএমই) কারখানাগুলোর জন্য অস্তিত্বের লড়াই হয়ে দাঁড়াবে।

বিজিএমইএ-র প্রধান দাবিগুলো:
১. বকেয়া নগদ সহায়তা: লিয়েন ব্যাংক ও বাংলাদেশ ব্যাংকে আটকে থাকা নগদ সহায়তার আবেদনগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি করে অর্থ ছাড় দেওয়া। ২. সফট লোন: শ্রমিকদের বেতন-ভাতা ও উৎসব বোনাস নিশ্চিত করতে ছয় মাসের বেতনের সমপরিমাণ অর্থ স্বল্প সুদে ও সহজ শর্তে ঋণ হিসেবে প্রদান করা। ৩. ব্যাংকিং সহায়তা: আর্থিক তারল্য সংকট কাটাতে এসএমই প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বিশেষ ব্যাংকিং সুবিধা নিশ্চিত করা।

বিজিএমইএ নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, সঠিক সময়ে এই সহায়তা না পেলে শিল্পে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে, যা দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য বড় ক্ষতির কারণ হবে।