বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, অনেক ত্যাগ ও সংগ্রামের বিনিময়ে অর্জিত এই নির্বাচন দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এই নির্বাচনে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারলে আগামী পাঁচ বছর বাংলাদেশ একটি শান্তিপূর্ণ ও স্থিতিশীল অবস্থায় থাকবে। তবে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে ব্যর্থ হলে দেশ আবারও গভীর সংকটে পড়বে।
আজ মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পৌর কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত এক নির্বাচনী সভায় তিনি এসব কথা বলেন। ঠাকুরগাঁও-১ (সদর) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হিসেবে নিজের সমর্থনে এই সভার আয়োজন করে পৌর বিএনপি।
ধর্ম নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অভিযোগ
নির্বাচনী প্রচারণায় ভোটারদের বিভ্রান্ত করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, “ভোটের সময় নানাভাবে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা চলছে। বিশেষ করে ধর্মকে ব্যবহার করে মিথ্যা প্রচারণা চালানো হচ্ছে। এসব কারণে সাধারণ মানুষের সিদ্ধান্ত নিতে ভুল হতে পারে, যা আমাদের সামগ্রিক ভবিষ্যতের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।”
অস্তিত্বের মূলে একাত্তর
মুক্তিযুদ্ধকে বিএনপির রাজনৈতিক দর্শনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে উল্লেখ করে মহাসচিব বলেন, “১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধ আমাদের অস্তিত্ব। এই যুদ্ধ আমাদের একটি নতুন দেশ ও ভূখণ্ড দিয়েছে এবং সন্তানদের জন্য সুন্দর ভবিষ্যতের সুযোগ তৈরি করেছে। একাত্তরই আমাদের মূল ভিত্তি, এবং একে কেন্দ্র করেই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী একাত্তরকে পেছনে ফেলে দিতে চায়। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, একাত্তরকে অস্বীকার করা মানে নিজেদের অস্তিত্বকেই অস্বীকার করা।
চার প্রশ্নে আপসহীন বিএনপি
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে মির্জা ফখরুল দলের মৌলিক অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, বিএনপি চারটি মৌলিক বিষয়ে কোনো আপস করবে না: ১. ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধ। ২. গণতন্ত্র রক্ষা। ৩. উন্নয়নের স্বার্থ। ৪. অসাম্প্রদায়িকতা।
এই ভিত্তিগুলোকে ধারণ করেই বিএনপি একটি সমৃদ্ধ ও স্থিতিশীল বাংলাদেশ গড়তে চায় বলে তিনি মন্তব্য করেন। সভায় স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।