বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা সমর্থকদের বিপদে ফেলে দেশ ছেড়েছেন। তবে আওয়ামী লীগের নিরপরাধ সমর্থকদের পাশে বিএনপি থাকবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
আজ বুধবার বিকেলে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের রায়পুর ইউনিয়নের মোলানী বাজার এলাকায় আয়োজিত এক পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন। এদিন তিনি ওই ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণা ও পথসভা করেন।
আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনা প্রসঙ্গে
নির্বাচনী আমেজ ও আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতি নিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, “এবার তো নৌকা নাই, নৌকা পালাইছে। হাসিনা ভারতবর্ষে চলে গেছে। মাঝখানে তাঁর যে সমর্থক আছে, তাদের বিপদে ফেলে গেছে। আমরা সেই বিপদে তাদের পাশে দাঁড়িয়েছি। আওয়ামী লীগের নিরপরাধ সমর্থনকারীদের পাশে থাকবে বিএনপি।”
হিন্দু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও ভোটাধিকার
সংখ্যালঘু ভোটারদের অভয় দিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “হিন্দু ভাই-বোনদের বলছি, আপনারা কোনো চিন্তা করবেন না। আমরা আপনাদের সঙ্গে আছি। যাঁরা অন্যায় করেছেন, কেবল তাঁদেরই শাস্তি হবে। কিন্তু যাঁরা সাধারণ মানুষ, অন্যায় করেননি, তাঁদের আমরা আগলে রাখব।”
দীর্ঘ বিরতির পর একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রত্যাশা জানিয়ে তিনি বলেন, “১৫ বছর আমরা ভোট দিতে পারিনি। সব ভোট পুলিশ-প্রশাসন আর ফ্যাসিষ্ট হাসিনার লোকেরা নিয়ে গেছে। এবার আশা করছি সঠিক ভোট হবে। যাঁর ভোট তিনি দিতে পারবেন, যাঁকে খুশি তাঁকে দিতে পারবেন।”
জামায়াতে ইসলামীকে কঠোর সমালোচনা
ছেপড়িকুড়া এলাকার এক পথসভায় নাম উল্লেখ না করে জামায়াতে ইসলামীকে ইঙ্গিত করে বক্তব্য দেন ফখরুল। সাবেক জোটসঙ্গী এই দলের সাম্প্রতিক সমালোচনার জবাবে তিনি বলেন, “আজ খবরের কাগজ খুলে দেখি আমাদের আরেকটা দল, যারা ২০০১ সালে আমাদের সঙ্গে সরকারে ছিল, যাদের দুজন মন্ত্রীও ছিল—তারা এখন বলছে আমরা নাকি ওই সময় দুর্নীতি করেছি। তাহলে তুমি কি ধর্মপুত্র যুধিষ্ঠির ছিলা? ওই সরকারে তো তুমিও ছিলা। দুর্নীতির দায় তো তোমার ঘাড়েও পড়ে। তবে আমরা কোনো দুর্নীতি করিনি, বরং দেশকে এগিয়ে নিয়েছি।”
দেশের বর্তমান পরিস্থিতি
দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ে অস্বস্তি থাকলেও সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। ফখরুল বলেন, “আমরা এখন একটু স্বস্তিতে আছি। শান্তিতে রাতের বেলায় ঘুমাতে পারছি। তবে পুরোপুরি আরামে নেই কারণ জিনিসের দাম বাড়ছে। যদি সুষ্ঠুভাবে একটা সরকার নির্বাচন করতে পারি, তবে আমরা আরও ভালো থাকব।”