২৭ জানুয়ারি, ২০২৬

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি চালু, নীতিমালা জারি

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি চালু, নীতিমালা জারি

বেসরকারি স্কুল ও কলেজের এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলির পথ অবশেষে সুগম হলো। নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, এখন থেকে শিক্ষকরা স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে আবেদন করে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় বদলি হতে পারবেন। এই নির্দেশিকা জারির পর থেকে সারা দেশের প্রায় ৬ লাখ শিক্ষকের মধ্যে আনন্দের জোয়ার বইছে।

বদলির সাধারণ নিয়ম ও যোগ্যতা
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, বদলি প্রক্রিয়ায় কোনো ব্যক্তির হস্তক্ষেপ থাকবে না, পুরোটি হবে সফটওয়্যার নিয়ন্ত্রিত। প্রধান শর্তগুলো হলো:

চাকরির মেয়াদ: প্রথম যোগদানের পর ন্যূনতম দুই বছর পূর্ণ হলে বদলির আবেদন করা যাবে। একবার বদলি হওয়ার পর পুনরায় আবেদন করতে হলে নতুন কর্মস্থলে অন্তত দুই বছর থাকতে হবে।

বদলির সুযোগ: একজন শিক্ষক তাঁর সমগ্র কর্মজীবনে সর্বোচ্চ তিনবার বদলি হওয়ার সুযোগ পাবেন।

অগ্রাধিকার এলাকা: শিক্ষকরা নিজ জেলায় বদলির আবেদন করতে পারবেন। নিজ জেলায় শূন্যপদ না থাকলে নিজ বিভাগের যেকোনো জেলায় আবেদন করা যাবে। এছাড়া স্বামী বা স্ত্রীর নিজ জেলা কিংবা কর্মস্থলেও বদলি হওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।

জ্যেষ্ঠতা ও অগ্রাধিকার নির্ধারণ
একটি পদের বিপরীতে একাধিক আবেদন জমা পড়লে সরকার নির্দিষ্ট কিছু মানদণ্ড অনুযায়ী অগ্রাধিকার ঠিক করবে:

নারী ও দূরত্ব: নারী শিক্ষক এবং বর্তমান কর্মস্থল থেকে দূরত্বের বিষয়টি গুরুত্ব পাবে।

পরিবার: স্বামী বা স্ত্রীর কর্মস্থল (সরকারি, আধা-সরকারি বা এমপিওভুক্ত হলে) অগ্রাধিকারের ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হবে।

জ্যেষ্ঠতা: এমপিও নীতিমালা অনুযায়ী জ্যেষ্ঠতা গণনা করা হবে এবং দূরত্বের ক্ষেত্রে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মডেল অনুসরণ করা হবে।

প্রতিষ্ঠানের ওপর সীমাবদ্ধতা
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে নীতিমালায় কিছু সীমাবদ্ধতাও রাখা হয়েছে:

একটি প্রতিষ্ঠান থেকে এক বছরে সর্বোচ্চ দুইজন শিক্ষক বদলি হতে পারবেন।

একই বিষয়ের একাধিক শিক্ষক এক বছরে বদলি হতে পারবেন না।

একজন শিক্ষক আবেদনের সময় সর্বোচ্চ তিনটি পছন্দের প্রতিষ্ঠানের নাম দিতে পারবেন।

স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ
অসম্পূর্ণ বা ভুল তথ্য দিলে আবেদন বাতিল হবে এবং ইচ্ছাকৃত ভুল তথ্য দিলে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালক এই বদলি কার্যক্রম নিষ্পত্তি করবেন এবং পুরো প্রক্রিয়াটি তদারকি করবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এনটিআরসিএ-র নতুন নিয়োগ সুপারিশের আগেই প্রতিবছর বদলি কার্যক্রম সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।