বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়োগে দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি বন্ধে ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
এখন থেকে অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, প্রধান শিক্ষক ও সুপারসহ সকল প্রশাসনিক পদে নিয়োগ দেবে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)।
একই সঙ্গে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জন্য বহু প্রতীক্ষিত ‘বদলি নীতিমালা, ২০২৬’ জারি করা হয়েছে।
নিয়োগে আর থাকছে না পরিচালনা পর্ষদ
এতদিন সহকারী শিক্ষক নিয়োগ এনটিআরসিএ করলেও প্রতিষ্ঠান প্রধান ও সহকারী প্রধান নিয়োগের ক্ষমতা ছিল পরিচালনা পর্ষদের হাতে। এতে প্রায়ই নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠত। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী:
নিয়োগ পরীক্ষা: এখন থেকে এনটিআরসিএ এসব পদে নিয়োগের জন্য ১০০ নম্বরের পরীক্ষা নেবে।
নম্বর বণ্টন: লিখিত বা বাছাই পরীক্ষায় ৮০ নম্বর, শিক্ষাগত যোগ্যতায় ১২ এবং মৌখিক পরীক্ষায় ৮ নম্বর থাকবে। পাস নম্বর ন্যূনতম ৪০ শতাংশ।
কর্মচারী নিয়োগ: স্কুল-কলেজের কর্মচারী নিয়োগের ক্ষমতাও পর্ষদ থেকে কেড়ে নিয়ে জেলা প্রশাসকের (ডিসি) নেতৃত্বাধীন কমিটির হাতে দেওয়া হয়েছে।
বদলি নীতিমালার মূল পয়েন্টসমূহ
বেসরকারি শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের দাবি মেনে কর্মজীবনে সর্বোচ্চ তিনবার বদলির সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এই প্রক্রিয়ার উল্লেখযোগ্য দিকগুলো হলো:
স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যার: পুরো বদলি প্রক্রিয়াটি হবে অনলাইন ও সফটওয়্যারভিত্তিক, যা স্বচ্ছতা নিশ্চিত করবে।
যোগ্যতা: প্রথম যোগদানের ২ বছর পূর্ণ হলে শিক্ষক বদলির আবেদন করতে পারবেন। এক কর্মস্থল থেকে বদলি হওয়ার পর পুনরায় বদলি হতে হলে সেখানেও ২ বছর থাকতে হবে।
অগ্রাধিকার: নিজ জেলা বা নিজ বিভাগে বদলির সুযোগ থাকবে। এছাড়া স্বামী বা স্ত্রীর কর্মস্থলে বদলিতে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
সীমাবদ্ধতা: একটি প্রতিষ্ঠান থেকে বছরে সর্বোচ্চ ২ জন শিক্ষক বদলি হতে পারবেন। একই বিষয়ে ১ জনের বেশি শিক্ষক বদলি হতে পারবেন না।
সময়সীমা: বদলির আদেশ জারির ১০ দিনের মধ্যে বর্তমান কর্মস্থল ছাড়তে হবে এবং পরবর্তী ১০ দিনের মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগ দিতে হবে।
৪ লাখ শিক্ষকের মুখে হাসি
বর্তমানে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে প্রায় ৪ লাখ এমপিওভুক্ত শিক্ষক রয়েছেন। নতুন এই নীতিমালার ফলে তাঁদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি দূর হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর ফলে ২০২৪ সালের আগের বদলি সংক্রান্ত পুরোনো প্রজ্ঞাপনগুলো রহিত করা হয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মতে, এই পরিবর্তনের ফলে দেশের ছয় লাখের বেশি এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীর পেশাগত জীবনে শৃঙ্খলা ফিরবে এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বা নিয়োগ বাণিজ্য বন্ধ হবে।