২৬ জানুয়ারি, ২০২৬

বাংলাদেশি সাংবাদিকদের অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড বাতিল করল আইসিসি

 বাংলাদেশি সাংবাদিকদের অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড বাতিল করল আইসিসি

ভারতে গিয়ে খেলতে অস্বীকৃতি জানানোর জেরে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশ দলকে বাদ দেওয়ার পর এবার নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। আসন্ন এই টুর্নামেন্ট কাভার করার জন্য আবেদন করা সকল বাংলাদেশি সাংবাদিকের অ্যাক্রিডিটেশন (স্বীকৃতিপত্র) বাতিল করে দিয়েছে সংস্থাটি। ফলে এবার মাঠ থেকে বিশ্বকাপ সংবাদ সংগ্রহের সুযোগ হারাচ্ছেন দেশের ক্রীড়া সাংবাদিকরা।

অ্যাক্রিডিটেশন বাতিলের কারণ
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় আইসিসির পক্ষ থেকে ই-মেইলের মাধ্যমে আবেদনকারী সাংবাদিকদের জানানো হয় যে, তাদের আবেদনের অনুকূলে কার্ড ইস্যু করা সম্ভব হচ্ছে না। আইসিসি তাদের বার্তায় উল্লেখ করেছে, যেহেতু বাংলাদেশ দল এই আসরে অংশ নিচ্ছে না, তাই সেই দেশের সাংবাদিকদেরও টুর্নামেন্ট কাভার করার অনুমতি দেওয়ার সুযোগ নেই।

সাংবাদিকদের ক্ষোভ ও হতাশা
আইসিসির এই সিদ্ধান্তে দেশের ক্রীড়া সাংবাদিকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন:

ঐতিহাসিক রীতি লঙ্ঘন: ১৯৯৯ সালে বাংলাদেশ প্রথম বিশ্বকাপ খেলার আগে থেকেই এদেশের সাংবাদিকরা নিয়মিত বৈশ্বিক আসরগুলো কাভার করে আসছেন। কোনো দেশ অংশ না নিলেও সেই দেশের সাংবাদিকদের কার্ড না দেওয়া একটি নজিরবিহীন এবং বৈষম্যমূলক ঘটনা।

পেশাদারিত্বের অভাব: আইসিসি নির্ধারিত ফরমে এবং সময়সীমার মধ্যেই শতাধিক সাংবাদিক কার্ডের জন্য আবেদন করেছিলেন। অনেকে ভারত ও শ্রীলঙ্কায় যাওয়ার সব প্রস্তুতিও সম্পন্ন করেছিলেন। হুট করে এই গণ-প্রত্যাখ্যানকে পেশাদারিত্বের পরিপন্থী হিসেবে দেখছেন সাংবাদিকরা।

প্রেক্ষাপট: বাংলাদেশ বনাম আইসিসি দ্বন্দ্ব
উল্লেখ্য, নিরাপত্তা উদ্বেগের কথা জানিয়ে বিসিবি বাংলাদেশের ম্যাচগুলো ভারত থেকে সরিয়ে শ্রীলঙ্কায় নেওয়ার আবেদন করেছিল। কিন্তু আইসিসি সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করে এবং শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে ভারত সফরে সম্মতি না দেওয়ায় বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করে। এই ঘটনার রেশ ধরেই সাংবাদিকদের ওপর এমন বিধিনিষেধ এল বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সর্বমহলে প্রতিবাদের ডাক
বাংলাদেশ স্পোর্টস জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশন (বিএসজেএ) সহ বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন এই সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তারা মনে করেন, এটি কেবল সাংবাদিকদের অধিকার হরণ নয়, বরং দেশের ক্রিকেটপ্রেমী সাধারণ মানুষের আগ্রহের ওপরও এক বড় আঘাত। দেশের সর্বমহল থেকে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।