২৬ জানুয়ারি, ২০২৬

নাটোর-৪ আসন: ঝুঁকিপূর্ণ ৩০ কেন্দ্রে থাকবে বিশেষ নজরদারি

নাটোর-৪ আসন: ঝুঁকিপূর্ণ ৩০ কেন্দ্রে থাকবে বিশেষ নজরদারি

প্রচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে নাটোর-৪ (গুরুদাসপুর-বড়াইগ্রাম) আসনের নির্বাচনী মাঠ। ভোট প্রার্থণায় বিএনপি-জামায়াতের প্রার্থী, কর্মী-সমর্থকেরা চৌকাঠ প্রচারণা শুরু করেছেন। তবে দুই দলের নেতাকর্মীরা ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে সুষ্ঠু ভোট নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

সহকারি রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানিয়েছে, গুরুদাসপুরে মোট ৬৮টি কেন্দ্রের মধ্যে প্রাথমিকভাবে রাজনৈতিক বিবেচনায় ১৪টি ও বড়াইগ্রামের ৯৯টি কেন্দ্রের মধ্যে ১৬টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ ধরা হয়েছে। এর মধ্যে গুরুদাসপুরের নাজিরপুর ইউনিয়নের ১৩টি কেন্দ্রই ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। নারী-পুরুষ মিলিয়ে এই ইউনিয়নে ৩৫ হাজার ৪৭৪ জন ভোটার রয়েছেন। ভোট নিয়ে এই এলাকায় রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংঘাত সংঘর্ষের ঝুঁকিও রয়েছে।

বিএনপির রাজনৈতিক সূত্র বলছে, গুরুদাসপুরের নাজিরপুর ইউনিয়নটি জামায়াত অধ্যুষিত বলে মনে করা হচ্ছে। এই ইউনিয়নের সব কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় উদ্বেগ উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে। তাছাড়া বড়াইগ্রাম উপজেলাতেও কিছু কেন্দ্রও ঝুঁকি তৈরি করছে। 

বিএনপি-জামায়াতের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র নিয়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা থাকলেও ইতিমধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ সব কেন্দ্রে অন্তত চারটি করে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে বলে জানান সহকারি রিটার্নিং কর্মকর্তা ইউএনও ফাহমিদা আফরোজ। তিনি বলেন, নির্বাচনী ম্যাজিষ্ট্রেট, পুলিশ, আনসার সদস্য, র‌্যাব, বিজিবি সার্বক্ষণিক মোতায়েন থাকবে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে। বিশেষ করে ঝুঁকির কথা বিবেচনায় রেখে বিশেষ নজরদারির জন্য সেনা সদস্যদের টহলও জোরদার করা হবে।

সূত্র জানিয়েছে, দুই উপজেলার ৪ লাখ ৪৩ হাজার ৬০০ ভোটার ১৬৭টি কেন্দ্রে ভোট প্রদান করবেন। এর মধ্যে গুরুদাসপুরের ৬৮টি কেন্দ্রে  ১ লাখ ৯০ হাজার ২২৮ জন ভোটার এবং বড়াইগ্রামের ৯৯টি কেন্দ্রে ২ লাখ ৫৩ হাজার ৩৭২ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এই আসনে জামায়াত-বিএনপিসহ জাতীয় পার্টি, ইসলামী আন্দোলন ও আমার বাংলাদেশ পার্টির মোট ৫জন প্রার্থী নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় রয়েছেন।

সাংবাদিকদের সঙ্গে ‘ঝুঁকিমুক্ত ভোট গ্রহণ ও গণভোট কী’ শীর্ষক আলোচনা সভা করেছেন সহকারি রিটার্নিং কর্মকর্তা ইউএনও ফাহমিদা আফরোজ। সোমবার দুপুরে গুরুদাসপুর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সহকারি রিটার্নিং কর্মকর্তা ইউএনও ফাহমিদা আফরোজ বলেন, ঝুঁকিমুক্ত ভোট গ্রহণ এবং রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা এড়াতে নির্বাচনী টিম সার্বক্ষণিক কাজ করছে। প্রার্থীদের আশ^স্ত করে তিনি বলেন, আচরণবিধি ভাঙ্গলে রাজনৈতিক দলের প্রার্থীদের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। নিরপেক্ষ পরিচ্ছন্ন নির্বাচন উপহার দিতে নির্বাচনী টিম গভীরভাবে কাজ করছে। কোনো প্রার্থী বা সমর্থকদের সুষ্ঠু ভোট নিয়ে উদ্বেগের কারণ নেই।

তিনি বলেন, ভোটার উপস্থিতি বাড়াতে প্রত্যন্ত গ্রামের তৃণমূল ভোটারদের গণভোট সম্পর্কে ধারণাও দেওয়া হচ্ছে। দলমত নির্বিশেষে ভোটাররা যাতে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি পছন্দের প্রার্থীর পাশাপাশি গণভোটেও ঝুঁকিমুক্ত ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন সে জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছেন তিনি।