দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা অনিশ্চয়তা কাটিয়ে অবশেষে বাংলাদেশ জাতীয় দলে ফিরছেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান।
আজ শনিবার বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) এক গুরুত্বপূর্ণ সভায় সাকিবকে ঘিরে একাধিক ইতিবাচক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।
এখন থেকে সাকিবকে হোম ও অ্যাওয়ে—সব ধরনের সিরিজের জন্যই বিবেচনা করা হবে বলে বিসিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
মার্চের পাকিস্তান সিরিজেই ফেরার সম্ভাবনা
বিসিবির মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন সংবাদমাধ্যমকে জানান, ২০২৬ টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ অংশ না নিলেও আগামী মার্চে পাকিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ রয়েছে। সব ঠিক থাকলে এবং সাকিব শারীরিকভবে ফিট থাকলে এই সিরিজ দিয়েই তিনি আবার লাল-সবুজের জার্সি গায়ে মাঠে নামবেন।
মামলা মোকাবিলা করবে বিসিবি
সাকিবের ফেরার পথে অন্যতম বড় বাধা ছিল তাঁর বিরুদ্ধে থাকা বিভিন্ন মামলা। বিসিবির বোর্ড সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে যে, সাকিবের মাথায় থাকা মামলাগুলো বোর্ড নিজস্ব প্রক্রিয়ায় আইনিভাবে মোকাবিলা করবে। এই সিদ্ধান্ত সাকিবের দেশে ফেরা এবং নির্বিঘ্নে খেলা চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে বড় একটি সবুজ সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কেন্দ্রীয় চুক্তিতে ফিরছেন সাকিব
রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সাকিবের ভবিষ্যৎ নিয়ে যে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছিল, তা কাটাতে তাঁকে আবারও বিসিবির কেন্দ্রীয় চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বোর্ড। সর্বশেষ ২০২৪ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর কানপুরে ভারতের বিপক্ষে টেস্ট খেলেছিলেন তিনি। এরপর দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে মিরপুরে বিদায়ী টেস্ট খেলার ইচ্ছা থাকলেও নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে তিনি দেশে ফিরতে পারেননি।
বিসিবির সবুজ সংকেত ও সাকিবের ইচ্ছা
সম্প্রতি দুবাই থেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সাকিব জানিয়েছিলেন, তিনি দেশে ফিরে চেনা দর্শকদের সামনে থেকেই ক্রিকেটকে বিদায় জানাতে চান। বিসিবির আজকের সিদ্ধান্তের পর সাকিবের সেই ইচ্ছা পূরণের পথ প্রশস্ত হলো। তবে বোর্ড স্পষ্ট করে দিয়েছে, জাতীয় দলে নিয়মিত হতে হলে সাকিবকে তাঁর ফিটনেস প্রমাণ করতে হবে।
সাকিবের প্রত্যাবর্তন দেশের ক্রিকেট ভক্তদের মাঝে নতুন করে প্রাণসঞ্চার করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে, বিশেষ করে যখন জাতীয় দল এক কঠিন সময় পার করছে।