২৪ জানুয়ারি, ২০২৬

প্রধান শিক্ষকের যোগসাজশে তিন মাসের বেশি সময় অনুপস্থিত এমপিওভুক্ত শিক্ষক

প্রধান শিক্ষকের যোগসাজশে তিন মাসের বেশি সময় অনুপস্থিত এমপিওভুক্ত শিক্ষক

গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার ভরতখালী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রেজাউল করিম মন্ডলের যোগসাজশে এমপিওভুক্ত কাব্যতীর্থ বিষয়ের শিক্ষক হরি প্রসাদ রায় তিন মাসের বেশি সময় ধরে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকলেও তার বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে বিদ্যালয়ের হিন্দু ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীদের পাঠদান চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

সরেজমিনে বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, শিক্ষক উপস্থিতি খাতায় গত অক্টোবর মাসের শেষ থেকে চলতি জানুয়ারি পর্যন্ত হরি প্রসাদ রায়ের ধারাবাহিক অনুপস্থিতির তথ্য লিপিবদ্ধ রয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক জানান, প্রধান শিক্ষকের প্রত্যক্ষ সহযোগিতার কারণেই তিনি দীর্ঘদিন বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থেকেও কোনো শাস্তির মুখে পড়েননি।

বিদ্যালয়ের একাধিক হিন্দু সম্প্রদায়ের শিক্ষার্থী অভিযোগ করে জানায়, নিয়মিত শিক্ষক না পাওয়ায় তারা কাব্যতীর্থ বিষয়ে মারাত্মকভাবে পিছিয়ে পড়ছে। শিক্ষার্থী শ্রী সুব্রত চন্দ্র বর্মন বলেন,“হরি স্যারের অসুস্থতার কারণে সেভাবে ক্লাস হয় না। প্রধান শিক্ষককে বলেও কোনো লাভ হচ্ছে না।” আরেক শিক্ষার্থী শ্রী শ্রাবণ কুমার বলেন, “প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়ার পর থেকে আজ পর্যন্ত ওই শিক্ষককে ক্লাসে পাইনি। তিনি ক্লাস না নিয়েই পরীক্ষায় না লিখলেও পাস করিয়ে দেন। এভাবে চললে আমরা বিষয়টি ভালোভাবে শিখতে পারব না।”

এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক হরি প্রসাদ রায় এর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ সম্ভব হয়নি। অভিযোগের বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রেজাউল করিম মন্ডল বলেন,“শিক্ষক অসুস্থ থাকার কারণে বিদ্যালয়ে আসতে পারেননি এমনটি আমাকে জানিয়েছেন। চিকিৎসা সংক্রান্ত কাগজ আমার কাছে দেওয়ার কথা বলেছেন। বিষয়টি নিয়ে শোকজ করা হবে।” তবে এতদিনেও কেন কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, বর্তমানে বিদ্যালয়ে কোনো ম্যানেজিং কমিটি না থাকায় রেজুলেশন না হওয়ায় পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হয়নি।

এদিকে, সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য প্রধান শিক্ষক এই প্রতিবেদককে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেন এবং আর্থিক সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব দেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এই প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক ২০০৮ সালে যোগদানের পর থেকে বিদ্যালয়টি ক্রমেই ভঙ্গুর হয়ে পড়েছে। নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির ফলে বিগত বছরগুলোতে অভিভাবকরা এই প্রতিষ্ঠান থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন।

স্থানীয় শহীদুল ইসলাম জানান, গত বছর প্রধান শিক্ষকের পদত্যাগ দাবিতে এলাকাবাসী ও অভিভাবকরা আন্দোলন করলেও অদৃশ্য শক্তির কারণে তিনি টিকে আছেন। স্থানীয় আমিত রায়হান বলেন,“এই প্রধান শিক্ষকের কারণে এমন কর্মকাণ্ড হরহামেশাই ঘটছে। তিনি আসার পর থেকে স্কুলের মান হারিয়ে গেছে। বিগত কয়েক বছরে কোনো এ-প্লাস নেই, টেনেটুনে পাশ, আর ফেল বাড়ছে। শিক্ষক আসা-যাওয়া এই স্কুলের রুটিন হয়ে গেছে।”স্থানীয় লিচু মিয়া বলেন,“স্কুলটাকে একদম গরুহাটি বানিয়ে ফেলেছে। কিছুদিন আগে পুকুরের পানি দিয়ে মাঠ নষ্ট করে ছাত্র ও কিশোরদের খেলাধুলা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। এই প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানটির বেহাল দশা দেখে আমরা হতাশ।”

এ বিষয়ে জেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ আতাউর রহমান বলেন,“আপনাদের মাধ্যমে আমি ভরতখালী উচ্চ বিদ্যালয়ের বিষয়টি জানতে পারলাম। খোঁজখবর নিয়ে যদি কোনো অনিয়ম পাওয়া যায়, তবে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”