২৩ জানুয়ারি, ২০২৬

ধ্বংসের মুখে বাংলাদেশের তায়কোয়ানদো: অনিয়ম, লুটপাট ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ

ধ্বংসের মুখে বাংলাদেশের তায়কোয়ানদো: অনিয়ম, লুটপাট ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ

বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে এক সময়কার গৌরবোজ্জ্বল খেলা ‘তায়কোয়ানদো’ এখন ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে।

ফেডারেশনের বর্তমান অ্যাডহক কমিটির শীর্ষ কর্মকর্তাদের সীমাহীন স্বেচ্ছাচারিতা, আর্থিক কেলেঙ্কারি এবং অ্যাথলেটদের ওপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগে এক চরম ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে এই ডিসিপ্লিনটি।

অভিযোগের তির বর্তমান অ্যাডহক কমিটির সহ-সভাপতি (ফুটবল অঙ্গন থেকে আগত) হাসানুজ্জামান খান বাবলু এবং সাধারণ সম্পাদক লে. কর্নেল এরশাদুল হকের দিকে।

জাতীয় প্রতিযোগিতায় নজিরবিহীন বৈষম্য
২০২৫-২৬ সালের জাতীয় প্রতিযোগিতাকে ঘিরে ফেডারেশনের নজিরবিহীন দুর্নীতির চিত্র সামনে এসেছে। অভিযোগ উঠেছে:

জেলা বাদ দেওয়া: ২৫-২৮টি জেলার পরিবর্তে মাত্র ৪-৫টি পছন্দের জেলাকে গোপনে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

সেনাবাহিনীকে বর্জন: টানা ২৫ বছরের চ্যাম্পিয়ন দল ‘বাংলাদেশ সেনাবাহিনী’কে কৌশলে টুর্নামেন্টের বাইরে রাখা হয়েছে।

সেরা অ্যাথলেট বহিষ্কার: এসএ গেমসে স্বর্ণপদক জয়ী দিপু চাকমাসহ শীর্ষ ৮ জন অ্যাথলেটকে ভিত্তিহীন অভিযোগে বহিষ্কার করা হয়েছে, যা দেশের ক্রীড়া ইতিহাসে এক কলঙ্কজনক অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ক্যাম্পে অমানবিক পরিবেশ ও আর্থিক লুটপাট
১৪তম সাউথ এশিয়ান গেমসের প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে অ্যাথলেটদের সঙ্গে করা আচরণ মধ্যযুগীয় বর্বরতাকেও হার মানিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

ভাতা আত্মসাৎ: দৈনিক ৩৫০ টাকা ভাতার স্থলে খেলোয়াড়দের দেওয়া হয়েছে মাত্র ১৭০-১৮০ টাকা।

চিকিৎসা ও খাদ্যের অভাব: নিম্নমানের খাবার এবং কোনো মেডিকেল টিম না থাকায় খেলোয়াড়দের শারীরিক সক্ষমতা হুমকির মুখে পড়েছে।

নারী অ্যাথলেটদের হয়রানি: নারী খেলোয়াড়দের ‘মেনস্ট্রুয়াল ব্রেক’ না দিয়ে অসুস্থ অবস্থায় লাইনে দাঁড় করিয়ে রাখা এবং কোচদের অশালীন মন্তব্যের শিকার হতে হয়েছে।

অপরাধীদের অভয়ারণ্য ও প্রশাসনিক দখলদারিত্ব
ফেডারেশনের কোচ নিয়োগ এবং প্রশাসনিক পদেও উঠেছে গুরুতর অভিযোগ:

মামলার আসামি যখন কোচ: ৫ই আগস্টের ছাত্র আন্দোলনে সশস্ত্র হামলার অভিযোগে অভিযুক্ত ফৌজদারি মামলার আসামি কামরুজ্জামান চঞ্চলকে জাতীয় দলের কোচ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

অবৈধ নিয়োগ: ধানমণ্ডি মহিলা কমপ্লেক্স থেকে দক্ষ প্রশিক্ষকদের তাড়িয়ে দিয়ে সাধারণ সম্পাদকের ঘনিষ্ঠজনদের অবৈধভাবে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ব্ল্যাকলিস্ট কালচার: ফেডারেশনের দুর্নীতির বিরুদ্ধে মুখ খুললেই দক্ষ সংগঠক ও খেলোয়াড়দের ‘সাইলেন্ট ব্ল্যাকলিস্ট’ করে রাখা হচ্ছে।

ফেডারেশনের এই দখলদারিত্ব, আর্থিক দুর্নীতি এবং অ্যাথলেটদের ওপর নির্যাতনের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড় ও সংগঠকরা। তারা বর্তমান অযোগ্য কমিটি ভেঙে দিয়ে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (NSC) সরাসরি হস্তক্ষেপ এবং একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠনের জোর দাবি জানিয়েছেন। তায়কোয়ানদো অঙ্গনের সাধারণ মানুষের একটাই চাওয়া—কতিপয় ব্যক্তির ব্যক্তিগত স্বার্থ থেকে মুক্ত করে খেলাটিকে পুনরায় আন্তর্জাতিক মানে ফিরিয়ে নেওয়া।