১৮ জানুয়ারি, ২০২৬

ভারতের শেয়ারবাজারে বিদেশি বিনিয়োগের ধস: রুপির দরপতনে উদ্বেগ

ভারতের শেয়ারবাজারে বিদেশি বিনিয়োগের ধস: রুপির দরপতনে উদ্বেগ

ভারতের শেয়ারবাজার থেকে বিদেশি পোর্টফোলিও বিনিয়োগকারীদের (FPI) অর্থ সরিয়ে নেওয়ার প্রবণতা থামছেই না।

২০২৫ সালের ধারাবাহিকতায় নতুন বছর ২০২৬ সালেও ভারতীয় বাজার থেকে বিপুল পরিমাণ পুঁজি প্রত্যাহার করে নিচ্ছেন বিদেশিরা।

ন্যাশনাল সিকিউরিটিজ ডিপোজিটরি লিমিটেডের (এনএসডিএল) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এ বছরের প্রথম আড়াই সপ্তাহেই বিদেশিরা প্রায় ২২ হাজার ৫৩০ কোটি রুপির শেয়ার বিক্রি করেছেন।

উল্লেখ্য, গত বছর (২০২৫) ভারতীয় বাজার থেকে ১ লাখ ৬৬ হাজার কোটি রুপির বিশাল বিনিয়োগ সরিয়ে নিয়েছিলেন বিদেশি বিনিয়োগকারীরা। তবে আশার কথা হলো, বিদেশিরা মুখ ফিরিয়ে নিলেও ভারতের অভ্যন্তরীণ ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা বাজারকে স্থিতিশীল রাখতে বড় ভূমিকা রাখছেন। বছরের শুরুতেই তাঁরা ৩৪ হাজার ৭৬ কোটি রুপি নতুন করে বিনিয়োগ করেছেন।

বিনিয়োগ চলে যাওয়ার নেপথ্য কারণ
বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদেশি বিনিয়োগ কমার পেছনে প্রধানত দুটি কারণ কাজ করছে: ১. বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা: যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত বাণিজ্য চুক্তি এখনো সম্পন্ন না হওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থার অভাব দেখা দিয়েছে। ২. রুপির রেকর্ড অবমূল্যায়ন: ডলারের বিপরীতে রুপির মান ধারাবাহিকভাবে কমতে থাকায় বিদেশিরা বিনিয়োগ করা থেকে বিরত থাকছেন।

রুপির রেকর্ড পতন: খাদের কিনারায় অর্থনীতি
শেয়ারবাজারের পাশাপাশি ভারতের মুদ্রা রুপিও ইতিহাসের কঠিনতম সময় পার করছে। গত ডিসেম্বর মাসেই ডলারের বিপরীতে রুপির দর ৯০ অতিক্রম করেছিল। গতকাল রোববারের তথ্য অনুযায়ী, প্রতি ডলারের বিপরীতে রুপির দর দাঁড়িয়েছে ৯০.৮৭ রুপি, যা ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়গুলোর একটি।

গত বছর রুপির মান প্রায় ৫ শতাংশ কমেছে, যার ফলে এশিয়ার সবচেয়ে দুর্বল মুদ্রার খেতাব পেয়েছে এটি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ট্রাম্প-মোদি ফোনালাপ কিংবা মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধিদের সফর সত্ত্বেও পরিস্থিতির বিশেষ উন্নতি হয়নি। এছাড়া আমদানিকারকদের মধ্যে ডলার কেনার বাড়তি চাহিদাও রুপির ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।

ভবিষ্যতের পূর্বাভাস
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ২০২৬ সালের মাঝামাঝি সময় থেকে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে ভারতের মতো উদীয়মান বাজার সমৃদ্ধির সম্ভাবনা থাকায় বিদেশিরা আবার ফিরে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। তখন সেনসেক্স ও নিফটির গ্রাফ পুনরায় ঊর্ধ্বমুখী হবে। তবে তার আগে বাজারে বড় কোনো সরকারি প্রণোদনা বা বাণিজ্য চুক্তির মতো ইতিবাচক খবর আসা জরুরি।