১৬ জানুয়ারি, ২০২৬

জামায়াতের জোট থেকে বেরিয়ে ২৬৮ আসনে একক লড়াই করছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ

জামায়াতের জোট থেকে বেরিয়ে ২৬৮ আসনে একক লড়াই করছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ

আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৬৮টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।

জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ (এনসিপি) গঠিত ১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের সঙ্গে আসন সমঝোতা চূড়ান্ত না হওয়ায় দলটি এই বিশাল সংখ্যক আসনে এককভাবে প্রার্থী দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

আসন সমঝোতায় জটিলতা
নির্বাচন কমিশন (ইসি) সূত্রে জানা গেছে, সারা দেশে ইসলামী আন্দোলনের মনোনীত ২৬৮ জন প্রার্থী ইতিমধ্যে তাদের মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। যদিও জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোটের পক্ষ থেকে আসন সমঝোতার চেষ্টা চালানো হচ্ছিল, কিন্তু ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ নিজেদের শক্ত অবস্থানের ভিত্তিতে অধিক সংখ্যক আসনে লড়তে অনড় রয়েছে। জোটের পক্ষ থেকে তাদের জন্য ৫০টির মতো আসন ছেড়ে দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হলেও দলটি তা গ্রহণ করেনি।

একক শক্তির মহড়া
বিগত নির্বাচনগুলোতেও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এককভাবে বিপুল সংখ্যক আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে চতুর্থ প্রধান রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিল। এবারও সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে তারা তাদের ‘হাতপাখা’ প্রতীক নিয়ে ভোটের মাঠে শক্ত অবস্থান জানান দিতে চায়। দলের নীতিনির্ধারকরা জানিয়েছেন, তৃণমূল পর্যায়ে শক্তিশালী সাংগঠনিক ভিত্তি থাকায় তারা ২৬৮টি আসনে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী।

জোটের বর্তমান অবস্থা
অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীসহ ১০টি দল মিলে গঠিত ‘১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্য’ গতকাল রাতে ২৫৩টি আসনে তাদের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে। ইসলামী আন্দোলনের জন্য ৪৭ থেকে ৫০টি আসন ফাঁকা রাখা হলেও দলটি এখন পর্যন্ত জোটে যোগ দেওয়ার কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি। সমঝোতার দরজা এখনো খোলা রাখা হয়েছে বলে জোটের নেতারা জানিয়েছেন।

নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী, আগামী ২০ জানুয়ারি মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন। ওই সময়ের মধ্যে সমঝোতা না হলে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ২৬৮টি আসনেই স্বতন্ত্র শক্তিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।