১৬ জানুয়ারি, ২০২৬

ট্রাম্পকে শান্ত করল সৌদি-কাতার-ওমান

ট্রাম্পকে শান্ত করল সৌদি-কাতার-ওমান

ইরানের ওপর মার্কিন হামলা ঠেকাতে এবং মধ্যপ্রাচ্যে সম্ভাব্য ‘ভয়াবহ বিপর্যয়’ এড়াতে নজিরবিহীন কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়েছে সৌদি আরব, কাতার ও ওমান।

উপসাগরীয় এই তিন দেশ সম্মিলিতভাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে রাজি করিয়েছে যাতে ইরানকে তাদের সদিচ্ছা প্রমাণের জন্য আরও একবার সুযোগ দেওয়া হয়।

গতকাল বৃহস্পতিবার বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সৌদি আরবের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এই নেপথ্য তৎপরতার তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মরিয়া কূটনৈতিক তৎপরতা
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা জানান, ইরানে বিক্ষোভকারীদের ওপর দমন-পীড়নের জেরে যুক্তরাষ্ট্র যখন কঠোর সামরিক পদক্ষেপের প্রস্তুতি নিচ্ছিল, তখন শেষ মুহূর্তে মরিয়া হয়ে ওঠে এই তিন প্রতিবেশী দেশ। তিনি বলেন, “আমরা ওয়াশিংটনকে স্পষ্ট জানিয়েছিলাম যে ইরানের ওপর কোনো হামলা হলে এই অঞ্চলে অনিয়ন্ত্রিত ও ভয়াবহ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হবে।” এই কূটনৈতিক প্রচেষ্টার কারণে শেষ পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর কঠোর অবস্থান থেকে সরে আসেন।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের সুর পরিবর্তন
কয়েকবার কড়া হুমকির পর ট্রাম্প জানান, তিনি ‘অন্য পক্ষ থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সূত্রের’ মাধ্যমে নিশ্চয়তা পেয়েছেন যে ইরান বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ড দেবে না। এই নিশ্চয়তার পরই হামলার পরিকল্পনা থেকে পিছিয়ে আসে হোয়াইট হাউস।

যুদ্ধের উত্তাপ ও মার্কিন সমর প্রস্তুতি
হামলার আশঙ্কায় গত বুধবার কাতারের একটি প্রধান মার্কিন সামরিক ঘাঁটি থেকে কিছু কর্মী সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া সৌদি আরব ও কুয়েতে মার্কিন মিশনগুলোতে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

এদিকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে মধ্যপ্রাচ্যের দিকে একটি বিমানবাহী রণতরি পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনের নির্দেশে ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’ ও এর ‘স্ট্রাইক গ্রুপ’ দক্ষিণ চীন সাগর থেকে মধ্যপ্রাচ্যের অভিমুখে যাত্রা শুরু করেছে।

ইরানের পালটা হুঁশিয়ারি
তেহরান শুরু থেকেই হুঁশিয়ারি দিয়ে আসছে যে, তাদের ওপর হামলা হলে ওই অঞ্চলে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও যুদ্ধজাহাজগুলো তাদের লক্ষ্যবস্তু হবে। পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের অসংখ্য কৌশলগত সামরিক স্থাপনা রয়েছে, যা যেকোনো সংঘাতের ক্ষেত্রে উচ্চ ঝুঁকিতে থাকে।

উপসাগরীয় দেশগুলোর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্তমান ইতিবাচক পরিবেশ বজায় রাখতে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যে রণতরি পাঠানোর ঘটনায় ওই অঞ্চলে নতুন করে উত্তেজনা দানা বাঁধছে।