১১ জানুয়ারি, ২০২৬

গণবিক্ষোভ ঘিরে উত্তেজনা চরমে, আবারও মুখোমুখি যুক্তরাষ্ট্র–ইরান

গণবিক্ষোভ ঘিরে উত্তেজনা চরমে, আবারও মুখোমুখি যুক্তরাষ্ট্র–ইরান

ইরানে চলমান সরকারবিরোধী গণবিক্ষোভকে কেন্দ্র করে আবারও সরাসরি সংঘাতের পথে এগোচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। বিক্ষোভ দমনে ইরানি সরকারের কঠোর অবস্থানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি একাধিকবার সতর্ক করে বলেছেন, সহিংস দমননীতি অব্যাহত থাকলে যুক্তরাষ্ট্র সামরিকভাবে হস্তক্ষেপ করতে পারে।

ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি দিন দিন আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। বিভিন্ন মানবাধিকার সূত্রের দাবি অনুযায়ী, সাম্প্রতিক বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত অন্তত ৫০ জন নিহত হয়েছেন। একই সঙ্গে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ২ হাজার ৫০০ জনের বেশি বিক্ষোভকারীকে।

এই প্রেক্ষাপটে ইরানে সম্ভাব্য মার্কিন হস্তক্ষেপ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা হয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, গত শনিবার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর মধ্যে টেলিফোনে এ বিষয়ে কথা হয়।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো ধরনের সামরিক পদক্ষেপের আশঙ্কায় ইসরায়েল সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

অন্যদিকে, ওয়াশিংটনের হুমকির তীব্র সমালোচনা করেছে তেহরান। রোববার ইরানের পার্লামেন্টে দেওয়া বক্তব্যে স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি হামলার পথে যায়, তবে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও ইসরায়েলকে ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তু’ হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

এদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, সরকার কোনোভাবেই পিছু হটবে না। শুক্রবার দেওয়া এক ভাষণে তিনি বলেন, ‘কয়েক লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে ইসলামি প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। কিছু বিক্ষোভের চাপে আমরা পিছিয়ে যাব না।’

বিশ্লেষকদের মতে, পাল্টাপাল্টি হুমকির এই পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বড় ধরনের অস্থিরতার আশঙ্কা তৈরি করছে।