Login





Register

muktoprovat
English Edition
Image

আমরা জীবনে চলার পথে বহু মানুষকে "ভালোবাসা" দিয়ে দিয়ে থাকি। হয়তো আমরা কেউ বা অতিরিক্ত ভালোবাসা দিয়ে খুবই 'আনন্দ বোধ' করি। কিন্তু প্রত্যেক মানুষের জীবনে অনেক ভালোবাসা থাকলেও তা দিতে দিতে চায় না।

তবে এই আলোচনায় বলতে চাই, - কারো কম ভালোবাসা কিংবা কারো বেশি ভালোবাসা। এই মানুষরাই মানুষকে- ভালোবেসে কাছে নিবে বা আদর করবে।

এতে দোষের কিছুই নেই, মানুষ ভালবাসতেই পারে, এটাই তো  স্বাভাবিক। কিন্তু সমস্যা যা, তা এখানে বলতে চাচ্ছি তাহলো, অতিরিক্ত বা বেশি ভালোবাসা। এমন "অতিরিক্ত ভালোবাসা বা অতিরিক্ত কদর'' করা মোটেই উচিত নয়। 

আপনার "অতিরিক্ত ভালোবাসার প্রকাশটাকে" অবশ্যই নিয়ন্ত্রণে রাখুন। অতিরিক্ত ভালোবাসার ফলেই মানুষরা নিজের দাম বাড়িয়ে ফেলবে আর আপনার ভালবাসার দাম সে মানুষ দিতেই চাইবে না।

বর্তমানে এমন সমাজে প্রকৃত ভালোবাসা পাওয়া খুবই দুষ্কর হয়ে গিয়েছে। বহু মানুষ আছে যারা অতিরিক্ত ভালোবাসা গ্রহণের আশা করে, কিছুদিন পরে সেই মানুষ ভালোবাসা প্রদানকারী মানুষকে যেন খুবই কষ্ট দেয়।

এ পৃথিবীতে চলার পথে অনেক কিছুই আপনার জীবনে আসবে। আপনি জীবনে অনেক কিছুই অর্জন করতেও পারবেন। কিন্তু কোন কিছুই ''অতিরিক্ত'' ভালো হবে না। কোন কিছুর স্বাদ অতিরিক্ত মানুষরা ধরে রাখতে পারে না, শুধুমাত্রই তাদের নিজের চরিত্রের কারণে।

মানুষকে অতিরিক্ত ভালোবাসা দিলে সেই মানুষ আপনাকে খুবই সস্তা ভাবতে শুরু করবে। এই পশুতুল্য মানুষ অতিরিক্ত ভালোবাসা পেলে- "হিতাহিত জ্ঞান" হারিয়েই আপনাকে নিয়ে হাসি ঠাট্টা, কটুবাক্য বা কটুকথা নিয়েই মত্ত হবে। এখানে বলে রাখি,-  মানুষ মাত্রেই ভুল হওয়া স্বাভাবিক, কিন্তু সেই ভুলকে সংশােধন করার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা যে চালাতে হবে, তা কখনোই করবে না।

তাই, অতিরিক্ত সুযোগ দিলে অবশ্যই তারা মাথায় উঠে বসবে, বেয়াদবি করবে। এই শ্রেণির উজবুক মানুষরাই অতিরিক্ত ভালোবাসা কিংবা অতিরিক্ত সুখ সহ্য করার  ক্ষমতা বা যোগ্যতা রাখেনা। আমি বলবো যে অতিরিক্ত ভালোবাসা আর অতিরিক্ত আবেগ খুব ভালো চরিত্রের মানুষকে এক সময় অনেক কাঁদাবে। তাকে অবহেলিত হতে হবে।

আবার কখনো অতিরিক্ত ভালোবাসার জন্য আপনার নিজস্ব কাজে বাগড়া দিবে কিংবা যে কোনো ভাবেই  বিপদে ফেলতে পারে। এখানে আরও পরিস্কার ভাবে বলতেই চাই, আপনি যেটা চান মাঝে মাঝেই চান কিন্তু অতিরিক্ত যদি চান, তা হলে আপনি সেটা হারিয়ে ফেলবেন।

তেমনি ভালবাসাটাও যদি আপনি অতিরিক্ত মাত্রায় দেখান, তাহলে একদিন আপনি ভালোবাসাকে হারিয়ে ফেলবেন। তাই বলবো যে অতিরিক্ত ভালোবাসা একদিন ''অতিরিক্ত কষ্টের কারণ' হয়ে যাবে। আমাদের শিক্ষা নেওয়া উচিত অতিরিক্ত কোন কিছুই ভালো নয়। তেমনি কারো কাছ থেকে অতিরিক্ত ভালোবাসা নেওয়া উচিত নয়।

বলে রাখি, যারা অতিরিক্ত ভালোবাসা পায় তারা ভালোবাসা ধরে রাখতে পারে না। তারা সব সময় ভালোবাসাকে অবহেলা এবং ঘৃনা করে। তবুও এখানে অবশ্যই বলবো, - আপনি মানুষকে ভালোবাসুন, কাছে নিন। তবে মানুষকে চিনে। জীবনের একটা সময়ে গিয়ে ভালোবাসা পাওয়ার জন্যে চিৎকার করেই কাঁদতে হবে। কিন্তু ভালোবাসা তখন আর ধরা দেবে না। কারণ, সময় ঠিকই প্রতিশোধ নিয়ে ফেলবে।

যারা অতিরিক্ত ভালোবাসা পায় তারাই ভালোবাসা ধরে রাখতে পারেনা। মনে রাখতে হবে যে ভালোবাসার মধ্যে হারানোর কোন ভয় নাই, সেই ভালবাসার প্রয়োগ করার জন্য প্রস্তুত হন। আসলে খাঁটি ভালোবাসা কিংবা প্রকৃত ভালোবাসা বর্তমান সময়ে মানুষের জ্ঞান সল্পতায় বহন করতে পারে না

। আমার জীবদ্দশায় দেখছি, অতিরিক্ত ভালোবাসা বেশিদিন বাঁচানো কঠিন, কারণ ঘুনেধরা বা পচনশীল মানুষের অহেতুক কিছু 'চাহিদা এবং প্রত্যাশা' বেশি লক্ষ্য করবেন, এরাই এক সময় অবহেলা করবে। আপনার জানা দরকার, অতিরিক্ত ভালোবাসা একদিন অতিরিক্ত একা করে দেবে। মানুষ আপনাকে অতিরিক্ত ভালোবাসার কারণে সস্তা বানিয়ে ছাড়বে। 

পরিশেষে এই আলোচনার নিরিখে বলবো, ভালোবেসে আমি ঠকেছি অনেক। তবুও মানুষের প্রতি ভালোবাসা অব্যাহত রাখতে চাই, আমার ভালোবাসায় কোন প্রকার স্বার্থ নেই, চাহিদাও নেই, আমার- ক্ষতি হয় হোক, কোন চাওয়া পাওয়া নেই।

আমি সৃষ্টি কর্তার কিছু বানীর প্রতি শ্রদ্ধাশীল। হাদিস কুদসিতে আছে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কথায় এসেছে। মহান "আল্লাহ তা আলা" বলেছেন যে, - ‘আমি ছিলাম গোপন ভান্ডার; ''ভালোবাসলাম মানুষকে'' প্রকাশ হতেই, তাই তো সৃজন করলাম সমুদয় সৃষ্টি। আল্লাহ তা আলার বড় কুদরতের জগতে ভালোবাসাটাই হলো, প্রথম সম্পাদিত ক্রিয়া বা কর্ম। তাই তো আমি মানুষকে ভালোবাসি।

লেখক: টিভি ও মঞ্চ অভিনেতা, চিত্রশিল্পী, সাংবাদিক, কলামিস্ট এবং অধ্যাপক।

স্বাধীনতার চেতনা: অনিয়ন্ত্রিত অনিয়ম থেকে  মুক্তির আশাবাদ

লেখক- বদরুল ইসলাম বাদল

Image
মানব সভ্যতার ইতিহাসে স্বাধীনতার জন্য অজস্র মানুষ প্রাণ দিয়েছে। বিশ্বে এখনো বহু জাতি স্বাধীনতার জন্য লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। হাজার বছর ধরে বাঙালীজাতি ভিনদেশীদের শাসনে শাসিত ছিল। সে সকল শাসকদের বৈষম্যমুলক আচরণে অতিষ্ঠ হয়ে স্বাধীনতার স্বপ্ন নিয়ে লড়াই করে দীর্ঘদিন। যার ধারাবাহিকতায় ১৯৭১সালে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে স্বাধীনতা অর্জন করে বাংলাদেশ। তবে স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছরের প্রান্তে এসে অনেকেরই প্রশ্ন, রক্তেকেনা স্বাধীনতার প্রকৃত স্বাদ কতটা পাচ্ছে সাধারণ মানুষ। সচেতন মহলের অভিমত যে, ভৌগোলিক স্বাধীনতার খোলসটা পরিপূর্ণ স্বাধীনতা নয়। রাষ্ট্র বিজ্ঞানের ভাষায়,"স্বাধীনতা হলো সামাজিক জীবনের তেমন পরিবেশ, যার মাধ্যমে মানুষ তার ব্যক্তিত্বের বিকাশের সব রকম সুযোগ অনায়াসে লাভ করে"। স্বাধীনতা লাভ করলেও দেশের কিছু মানুষ মানষিক ভাবে স্বাধীন হতে পারে নেই ।আবার সাধারণ মানুষ স্বাধীনতার পূর্ণ স্বাদ থেকে হচ্ছে বঞ্চিত । রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণের অভাবে বেড়ে যাচ্ছে বৈষম্য,ধনী দরিদ্রের পার্থক্য। সকল জায়গায় গনতান্ত্রিক ধারা বারবার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। রাজনৈতিক দল গুলোতে মানা হচ্ছে না দলের নীতিমালা। উপনিবেশিক প্রভুদের মতো রাজনৈতিক দলের মধ্যে কারণে অকারণে নেতাদের তোষামোদি, চামচামি সর্বত্র। সুবিধাভোগী একটি শ্রেণী রাজনৈতিক লেবাসে আত্মতৃপ্তির ঢেকুর তুলছে।নিয়ম-নীতি আদর্শ বিসর্জন দিয়ে স্বেচ্ছাচারীতায় কলুষিত করছে রাজনৈতিক ধ্যান, ধারণা, চেতনা।স্বাধীনতার মূল চেতনায় আঘাত বন্ধ করা যাচ্ছে না। পৃথিবীর বহু দেশ রক্তাক্ত সংগ্রামের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জন করেছে। তাদের স্বাধীনতার ইতিহাস নিয়ে কোন নাগরিকের দ্বিমত করার সুযোগ নাই।কারণ আইন আছে যে, স্বাধীনতার ইতিহাস বিকৃতি করা রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল'। দুঃখের বিষয় স্বাধীনতার এতদিন পরও সর্বজনীন গ্রহনযোগ্য স্বাধীনতার ইতিহাস রচনা সম্ভব হয় নাই আমাদের দেশে।তাই বিতর্ক বন্ধ করা যাচ্ছে না । যে যার মতো করে ইতিহাস ব্যাখ্য করছে।অহরহ হচ্ছে। অন্যদিকে যে স্বাধীনতার জন্য মানুষ প্রাণবাজি রেখে যুদ্ধ করেছে আমরা সেই চেতনায় আছি কিনা ? ঘুষ দেওয়া -নেওয়া বন্ধ হয়েছে কিনা , দ্রব্য মুল্যের ঊর্ধ্বগতি,শিক্ষিত বেকার, আইন শৃঙ্খলার অবনতি, বিচারহীনতার সুরাহা হয়েছে কিনা? মাদক, কালোবাজারি বন্ধ করা যাচ্ছে কি?সন্ত্রাস, দখল -বেদখল বন্ধ হয়েছে কিনা,অন্ন বস্ত্র বাসস্থানের ব্যবস্থা হয়েছে কিনা?সকল নাগরিকদের চিকিৎসা সেবার নিশ্চয়তা হয়েছে কিনা। সাধারণ জনগোষ্ঠী অভয় চিত্তে প্রশাসনের দোরগোড়ায় এসে নিজেদের সমস্যার এবং সমাধান নিয়ে কথা বলার সুযোগ পাচ্ছে কিনা?আইনের সমঅধিকার পাচ্ছে কিনা।মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারীরা বীর দর্পে রাজনৈতিক ও সামাজিক সুবিধা নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এমনতো হবার ছিল না। অনিয়ম সমূহ অনিয়ন্ত্রিত ভাবেই স্বাধীনদেশে চলছে। কবি নুরুল ইসলাম তার "একমুঠো স্বাধীনতা" কবিতায় যথার্থই বলেছেন , "অনিয়মের পাগলা ষাঁড় খেপেছে, ছুটেছে বেগে, কারে বলিবো ওরে থামা, ধৈর্য্য ভেঙ্গে উঠো জেগে। হায় স্বাধীনতা! তবে এর মানে অনিয়ম? যা কিছু করিবো ভোগ, অন্যের বেরিয়ে যাবে দম"? দেশে এখন "দখলবাজ"নামীয় হাওয়াই প্রতিষ্ঠান এর তত্পরতা সর্বত্র দিনদিন প্রসারিত হচ্ছে। টাকার বিনিময়ে রাতের অন্ধকারে দখলবেদখল করেই চলছে । মাছের ঘের,বালু বাণিজ্য,খাসজমি, পাহাড় নদীদখল নিয়ে এই শ্রেণি উদ্ভব স্বাধীনতা ভোগ করছে। অনেকে এরা রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় লালিত পালিত।বড় বড় রাজনীতিবিদের ক্যাডার। এই কি স্বাধীনতা?মুক্তিযুদ্ধের চেতনা? যদি তাই হয়ে থাকে,তখন শুধু বলার থাকে, হায় স্বাধীনতা! তুমি কি সেই গণমানুষের চাওয়া স্বাধীনতা?এমন স্বাধীনতার জন্য বঙ্গবন্ধু কৃষক শ্রমিক খেটে খাওয়া মানুষদের সাথে নিয়ে দেশ স্বাধীন করে নাই।তাই আইনের বিধিবিধান প্রতিষ্ঠিত না হলে অর্থবহ স্বাধীনতা অধরা রয়ে যাবে।আইনবিদদের অভিমত,"যেখানে আইন নাই, সেখানে স্বাধীনতা নেই "। শিল্পী হায়দার হোসেনের জীবনমুখী একটি গানের কলি , "কি দেখার কথা কি দেখছি কি শোনার কথা কি শুনছি ত্রিশ বছর পরেও আমি স্বাধীনতা টা কে খুঁজছি"। (পঞ্চাশ বছর পরে ও) দেশের মানুষ সমষ্টিগত ভাবে সংগ্রাম করেছিল শোষণমুক্ত সমাজ ব্যবস্থার পরিবর্তনের জন্য।কিন্তু বঙ্গবন্ধু হত্যার পরে পরাজিত গোষ্ঠী এবং সাম্রাজ্যবাদের মদদপুষ্ট সরকার সমষ্টিগত সকল চেতনা ভেঙে পেলে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার উল্টো পথে চলা শুরু করে। ব্যক্তিগত উন্নতির স্বপ্নই প্রধান হয়ে দাঁড়ায়।ধনীর সংখ্যা বাড়তে থাকে অপরদিকে দরিদ্র মানুষের সংখ্যাও উর্ধ্বমূখী হয়ে যায়। সমাজ এবং রাষ্ট্রে এ-ই বৈষম্য সৃষ্টির কারণ চিহ্নিত করা গেলেও নিস্তার পাওয়া যাচ্ছে না। রাজনীতিজ্ঞদের অভিমত, "শুরু হওয়া মুক্তিযুদ্ধ এখনো শেষ হয়ে যায় নাই ,তার একটি পর্যায় অতিক্রম করছি আমরা"। তাই , মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে বাস্তবায়িত করতে হলে শোষিতের গনতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলন করা ছাড়া কোন বিকল্প নেই। অনিয়ন্ত্রিত অনিয়ম থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করা হয় নাই, তাই নয়,কিন্তু সফলতা আসে নাই, কারণ এই শক্তিটি তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে ব্যাধি হিসেবে বিভিন্ন ছদ্মাবরণে ঝাঁকিয়ে বসেছে।এটাই পুঁজিবাদ। এই পূঁজিবাদ ব্যাধিটিই স্বাধীনতার চেতনা বেড়ে উঠার প্রতিবন্ধকতা। স্বাধীনতা মানে যার যা ইচ্ছে তাই করা নয়।নিজে স্বাধীনতা ভোগ করতে গিয়ে অন্যের স্বাধীনতার বিঘ্ন সৃষ্টি হলে তা প্রকৃত স্বাধীনতা নয়। নিজের সাথে অন্যের স্বাধীনতার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে। আর শুধু রাজনৈতিক স্বাধীনতাই অর্থবহ স্বাধীনতা নয়।দীর্ঘদিন উপনিবেশীক শাসনের ফলে আমাদের চিন্তা চেতনায় নতজানু মানষিক প্রবৃত্তির ছায়া স্থান করে নিয়েছে। তাই বঙ্গবন্ধু মুজিবের ভাষায়,"বৈষম্য ও উপনিবেশীক আমলের ধ্যান ধারণা থেকে মুক্তি,অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আগ্রাসন থেকে মুক্ত হওয়ার মধ্যেই প্রকৃত স্বাধীনতা"।গনতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা ও বাঙ্গালী জাতীয়তাবাদের সম্বলিত রুপই স্বাধীনতা।সুশাসন ও ন্যায়বিচার সংরক্ষণ নিয়ন্ত্রণেই প্রকৃত স্বাধীনতা পাবে নাগরিক। মুক্তিযোদ্ধাদের দেখা, "গণতন্ত্রের চর্চা, মানুষের মৌলিক অধিকার, থাকবে না দূর্নীতি, জুলুম এবং ধনী গরীবের বৈষম্য তাইই স্বাধীনতা"।সততা,নিষ্ঠা ও দেশপ্রেমেই স্বাধীনতা। শুধু ক্ষমতার স্বাধীনতা নয় স্বাধীনতাকে উপভোগ্য করতে বঙ্গবন্ধুর প্রদর্শিত পথই বাংলাদেশে মানবমুক্তির পথ, তা স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে সময়ের সাথে। লেখকঃ বদরুল ইসলাম বাদল সদস্য বঙ্গবন্ধু পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটি।
মুক্তিযুদ্ধ চেতনা স্বাধীনতা
জি আই পন্যের তালিকাভুক্ত হতে যাচ্ছে নাটোরের ‘কাঁচাগোল্লা’

কাঁচাগোল্লা

Image
কাঁচাগোল্লা। ঐতিহ্যবাহী কাঁচাগোল্লার ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) নিবন্ধনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে নাটোরের জেলা প্রশাসক। বুধবার বেলা দেড়টার দিকে এফিডেভিটের মাধ্যমে শিল্পমন্ত্রণালয়ের পেটেন্ট, ডিজাইন ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তর (ডিপিডিটি) বরাবর নাটোরের কাঁচাগোল্লার আবেদন প্রক্রিয়া নিশ্চিত করেছেন জেলা প্রশাসক শামিম আহমেদ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন মোঃ আশরাফুল ইসলাম, উপপরিচালক, স্থানীয় সরকার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোঃ নাদিম সারওয়ার, শাহাদাত হোসেন খান, নেজারত ডেপুটি কালেক্টরেট, নাটোর, ই-কমার্স ডেভেলপমেন্ট সেন্টার এর সদস্য প্রতাপ পলাশ ও মোঃ দেলোয়ার হোসেন প্রমুখ। জেলা প্রশাসক শামিম আহমেদ জানান, নাটোরের কাঁচাগোল্লার ইতিহাস সমৃদ্ধ হওয়ার কারণে বিদায়ের পূর্বক্ষণে জিআই নিবন্ধনের কাজটি শুরু করেছি। আশা করছি অল্প দিনের মধ্যে জিআই পণ্যের মর্যাদা লাভ করবে নাটোরের কাঁচাগোল্লা। তিনি আরও বলেন, জিআই তালিকাভুক্তির মধ্য দিয়ে নাটোরের ইতিহাস ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের পাশাপাশি দেশ বিদেশে কাঁচাগোল্লার ব্র্যান্ডিং ও চাহিদা বৃদ্ধি পাবে। কাঁচাগোল্লার ডকুমেন্টেশনে সহযোগিতা করায় ই-কমার্স ডেভেলপমেন্ট সেন্টার (ইডিসি)-কে ধন্যবাদ জানিয়েছন জেলা প্রশাসক। জানা যায়, মিষ্টি অনেক পছন্দ করতেন নাটোরের রানী ভবানী। তার রাজপ্রাসাদে নিয়মিত মিষ্টি সরবরাহ করতেন লালবাজারের মিষ্টি বিক্রেতা মধুসুধন পাল। একদিন মধুসুদন পালের ২০ জন কর্মচারীর সবাই অসুস্থ হয়ে গেলো। দোকানে ২ মণ ছানা রাখা ছিল। ছানাগুলো নষ্ট হয়ে যাবে ভেবে মধুসূদন ছানার উপর চিনির সিরা দিয়ে ভিজিয়ে দেন। এরপর এগুলো চেখে দেখেন এর স্বাদ হয়েছে অপূর্ব। এদিকে রানী ভবানীর লোকেরা মিষ্টি নিতে দোকানে আসলে তিনি সিরা দেওয়া ছানাগুলো পাঠিয়ে দেন। রানী ভবানী এই মিষ্টি খেয়ে প্রশংসা করেন এবং এর নাম জানতে চান। মধুসূদন পাল তখন কাঁচা ছানা থেকে তৈরি বলে এর নাম দেন কাঁচাগোল্লা। এটিই ছিল কাঁচাগোল্লার ইতিহাস। এই গল্প বেঁচে আছে মানুষের মুখে মুখে। নাম গোল্লা হলেও এটি দেখতে গোল নয়। তা তৈরি করা হয় ছানা, চিনি ও এলাচ দিয়ে। কাঁচাগোল্লার সাথে জড়িয়ে রয়েছে নাটোর বাসীর আবেগ ও ভালোবাসা। তাই আজ থেকে ২৫০ বছর আগে কাঁচাগোল্লা আবিষ্কৃত হয়ে আজও তার সুনাম বজায় রেখেছে। নাটোরের বিয়ে, বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও অতিথি আপ্যায়নে সরবরাহ করা হয় কাঁচাগোল্লা।
পণ্য জিআই নাটোর গোল্লা কাঁচা
ঈদ যাত্রায় বাস্তবতা

ঈদ যাত্রায় বাস্তবতা

Image
ফেসবুক বন্ধু আর সতীর্থদের ছবিতে আকাশ-বাতাস ভরে ঊঠেছে। একসাথে ইফতারে মুখরিত হয়েছে গ্রাম বাংলা। দীর্ঘ এক বছর পর আমরা ফিরে পেলাম চিরচেনা আমাদের ধর্মীয় সংস্কৃতি। নাড়ীর টান আটকে রাখবে কে? ঈদ যাত্রায় বিচ্ছিন্ন দু-একটি দুর্ঘটনা সবাইকে ব্যথিত করে। প্রিয়জনের সাথে মিলিত হতে গিয়ে ছেদও ঘটে। ২০২৩ সালের ঈদ-উল ফিতর আলাদা কিছু নয়। তবুও প্রিয়জনের সান্নিধ্যে! নাড়ীর টান, নারীর টান, মা-খালার টান, বুবুর টান। মাঝে দুই বছর করোনার জালে ঈদ আনন্দ হয়ে উঠেছিল বিষাদময়। করোনা কাটিয়ে এবার দ্বিতীয় বছর ঈদ উদযাপন। রাস্তায় ঈদ যাত্রীদের জন্য গাড়ী ছিল ঢের, তবে যাত্রীর সংখ্যা কম ছিল তা' বলা যাবে না। দীর্ঘ ছুটির কারণে প্রথম দুই দিন বুধবার-বৃহস্পতিবারে রাজধানী ঢাকা থেকে অনেক ঈদ যাত্রী নিজ গ্রামে গমন করেছেন। অনেকেই আবার শেষ কর্মদিবস মঙ্গলবার ঢাকা ছেড়েছেন। এখন টিকেট আর গাড়ীর সংকট নেই। মহাসড়ক জুড়ে নেই গাড়ীর সারি, নেই অপেক্ষারত সাধারণ মানুষ। গত বছর লম্বা ছুটির কারণে ঈদযাত্রার চিত্র কিছুটা এমনি ছিল। কিন্তু, আমরা বিগত এক দশক বা আরও বেশি সময় ধরে ঈদযাত্রার বিপরীত চিত্র দেখেছি। এ চিত্র ঈদের আগে শুক্রবারের। ২০ তারিখ বৃহস্পতিবার ছুটি ঘোষণা করার পরে ঈদযাত্রার চিত্র পাল্টে গেছে। তবে বাস্তবতা ছিল বৃহস্পতিবার। সেদিন ছিল গার্মেন্টস ছুটির দিন। দুপুরের পর থেকে মধ্যরাত অবধি জ্যামে ঈদযাত্রীদের কষ্ট পেতে হয়েছে। ২০ তারিখ সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা না হলে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের একত্রে ঈদযাত্রা করতে হতো। তখন হয়তো জটিলতা আরও বেড়ে যেতো। টিকেট প্রাপ্তি নিয়ে যাত্রীদের অভিযোগ শেষ হল না। কাউন্টারে টিকেট নেই! অনলাইনে শূন্য দেখায়। এসি টিকেট তো সাধারণ মানুষের ধরা-ছোঁয়ার বাইরে। এটা শুধুমাত্র নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের জন্য! এই বাস্তবতায় আমিসহ অনেকেই টিকিট কিনেছি, অনেকে গন্তব্য পৌঁছে গেছেন। এরপর যদি অ্যাপে দেখায় এসি ও নন-এসি টিকেট পর্যাপ্ত! তখন কেমন লাগে? মানে পুরাই সিন্ডিকেট! যাত্রীসকল এই ঘটনা বরাবরের মতো এবারেরও দেখেছেন। কিন্তু, সবাই নির্বিকার! এর প্রতিকার আছে কি? তাছাড়াও বাড়তি ভাড়া নেবার অভিযোগ অনেক পুরাতন এবং প্রকাশ্য। ঈদযাত্রা আনন্দের, বাড়তি ভাড়া হলেও তাই অনেকের আপত্তি নেই। বাবার কর্মস্থলের কারণে আমাদের তিন ভাই-বোনের জন্ম আর বেড়ে ওঠা নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলা সদরে। ছোট থেকে বেড়ে ওঠার কারণে এই এলাকায় মানুষের সাথে সম্পর্ক তৈরি হয়; যা এখন অনেক দূরে গেলেও মনে পড়ে। নাড়ির সম্পর্ক আমার দাদা ও নানা বাড়ির মানুষের সাথে। সিংড়া উপজেলার সেসকল শুভাকাঙ্ক্ষীদের সাথে দেখা হয়েছে, কথাও হয়েছে। ঈদে অনেক মানুষের সাথে দেখা হয়েছে, অনেকের সাথে দেখা হয়নি। অনেকেই পরপারে পাড়ি জমিয়েছেন। ঈদের নির্ধারিত ছুটির চেয়ে আমি বেশি ছুটি নিয়েছি, তবুও অনেকের অভিযোগ এলে বাড়িতে, দেখা হল না! এলে গ্রামে দেখা হল, তবুও কথা হল না! অতৃপ্ত মনকে কি দিয়ে বাঁধি? তাইতো বন্ধনহীন হৃদয়কে বলি, ''বহু বছর হয়নি কথা, একটা দিও কল; মধুতে মাখা কন্ঠ শুনে ভেজাবো এই মন। নাটোর থেকে রাজধানী ঢাকা আসার পথ এখন তেমন কষ্টদায়ক নয়। ঈদে বাড়ি যাবার সময় যতটা চাপ থাকে, আসার পথে ততটা নয়। ঈদে ফিরতি পথে বাড়তি ভাড়া গুণলেও বাড়তি আনন্দ নিয়েই ঢাকা ফিরছি। তবে এসি নন-এসি সিট নিয়ে আবারও বিতর্ক। মফস্বলি মানুষের জন্য এসি টিকেট নয়! এসি বাস শুধু শহুরে মানুষের জন্য! তবে সব মিলিয়ে এবারের ঈদযাত্রা সুখকর ছিল। লেখক-একজন ঈদযাত্রী। fattahtanvir@gmail.com নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলা থেকে।
বাংলাদেশ যাত্রা ঈদ
সূর্যের লালিমায় মেতেছে বৈশাখি আকাশ।

ইট-পাথরের শহর তিলোত্তমা নগরী ঢাকা। রাতের

Image

ইট-পাথরের শহর তিলোত্তমা নগরী ঢাকা। রাতের কষ্ট আড়াল করে নতুন দিনের স্বপ্ন নিয়ে সূর্য উদিত হচ্ছে। সূর্যের লালিমায় মেতেছে বৈশাখি আকাশ।

ছবিটি আগারগাঁও, ঢাকার কোনো এক ছাদ থেকে তোলা। তুলেছেন আমাদের মুক্তচিন্তার লেখক- ফাত্তাহ তানভীর রানা

বৈশাখী সূর্য ছাদ
অভিমান..

-ছবি লেখকের

Image

ইদানীং অভিমান বড্ড বেশি বেয়ারা হয়েছে তোমার, বোধহয় কোনোভাবেই তাকে আর বশে আনতে পারছ না
কথা শোনে না, সময়-অসময় চেনে না-নোটিস ছাড়াই বেড়াতে আসে আমার বাড়িতে
মাঝেমাঝে আমি বেশ পাজেল্ড হয়ে যাই-
এতো অভিমান রাখার খোঁয়াড় আমার কাছে যে নাই!
বেশ অভিমান জমা হয়েছে, বাড়তি চাপ নেওয়ার ক্ষমতা নাই, মগজ বাড়িতে আর জায়গা নাই-
কোথাও ভাড়ায় একটু মগজ পাব এমন আশাও নাই ইদানীং আমার
ভেবেছিলাম তোমার অভিমানগুলো বিদেয় করে নতুন কারও অভিমানের বাসস্থানের জোগান দিব আমার বাড়িতে- 

কিন্তু যে আশায় গুড়েবালি!

আচমকা এতো অভিমান যে পাঠাবে তার পূর্ব পশিম উত্তর দক্ষিণ কোন ধারণাই ছিল না আমার, মোখার রাজত্বের দিন তো কোনো অভিমানের ছায়া লক্ষ করিনি তোমার চোখেমুখে!
দিনে দিনে তুমি বেশ আনমনা হয়েছে-
আগের মতো এখন আর অভিমানগুলো ভেঙেচুরে সমুদ্রের নোনাজলে ফেলে দাও না
অপ্রয়োজনীয় বলে অবজ্ঞা কর না
অভিমানের ব্রান্ড কোয়ালিটি বাছ-বিচার কর না
যখন যেখানে যেটুকু পাও অনেক যত্নে কুড়িয়ে নাও, জমা কর
কাস্টমাইজ ছাড়াই কুরিয়ারে পাঠিয়ে দাও আমার ঠিকানায়
একবার জানতেও চাইলে না-
"নতুন কোনো অভিমান লাগবে কিনা আমার, আগের পাঠানো সব অভিমানের মেয়াদ ফুরালো কিনা?" 

কিছুই তোয়াক্কা করলে না, ড্যাম কেয়ার! 

আমার এখানে যে অভিমান রাখার জায়গা নেই তা তুমি ভালো করেই জান
তাছাড়া তুমি ব্যতীত আরও তো কেউ কেউ অভিমান পাঠায় আমাকে-
তাও-বা কি করে ইগনোর করি? 

তারাও তো একটা আশা করে পাঠায় আমাকে! 

প্রতিটা অভিমানের কিছু না কিছু আশা থাকে, প্রাপ্তিও থাকে-হোক না তা যৎসামান্য
কেউ কেউ অভিমান জমিয়ে জমিয়ে অনেক বেশি লভ্যাংশও খোঁজে, না পেলে আরও পাঠানোর ধমক দেয়, হুমকির কড়া বার্তা পাঠায়-

আমি আছি এক দারুণ বেকায়দায়! 

যদি বলি আমি এখন স্বার্থপর হবো-
বেছে বেছে কোয়ালিটি অভিমান নিব
মাত্র সাতদিন দশদিন মেয়াদের অভিমান নিব
দীর্ঘ মেয়াদি অভিমানগুলো সমুদ্রে পাঠাব
মেয়াদহীন অভিমান ভুলেই যাব
এরপরও যদি ভাঙতি কিছু অভিমান থেকেই যায়-
সিলগালা করে আকাশের ঠিকানায়
পাঠিয়ে দিব
আমি নৈসর্গিক নিস্তব্ধতায় মোড়া এক খোলা আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে নিশ্বাস নিব
অভিমানের আড়মোড়া ভেঙে
মেয়াদোত্তীর্ণ অভিমান ভুলে
আমরা কফির পেয়ালায় চুমুক বসাব

জনম জনমনের মতো অভিমানকে গুডবাই জানাব।

 

লেখক-

ড. নজরুল ইসলাম খান,

অধ্যক্ষ, প্রাবন্ধিক, কবি ও কথাসাহিত্যিক)

বিবেকের কাঠগড়ায় একজন রিপোর্টার 

-ছবি লেখকের

Image

ডাক্তারের সফল অপারেশনে মানুষ যেমন নবজীবন ফিরে পায় । ঠিক ওই ডাক্তারেরই একটি ভুল অপারেশনের কারনে জীবিত মানুষকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয় । তেমনি গণমাধ্যমের একজন রিপোর্টারের প্রতিটি রিপোর্ট একেকটি অপারেশনের চেয়েও বেশী গুরুত্বপূর্ণ ।

একটি রিপোর্ট শুধু একজন মানুষকে নয়, একটি জনগোষ্ঠী, একটি সংগঠন ও একটি জাতিকে নবজীবনে ফিরিয়ে আনতে পারে । আবার ওই রিপোর্টারের একটি ভুল রিপোর্টে একজন মানুষ, একটি জনগোষ্ঠী, একটি সংগঠন ও একটি জাতিকে ধূলিসাৎ করে দিতে পারে ।  

এমন কী কোন কোন ক্ষেত্রে একজন রিপোর্টারের একটি মাত্র রিপোর্ট গোটা বিশ্বে তোলপাড় ঘটিয়ে দিতে পারে । উইকিলিকস ও পানামা পের্পাসে প্রকাশিত রিপোর্টগুলো আমাদের সামনে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত । একটিমাত্র রিপোর্টের কারনে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানকে পদত্যাগ করতে হয়েছে ।

অনেক মন্ত্রী ও প্রভাবশালীদের যেতে হয়েছে জেলে। সুতরাং একজন রিপোর্টারের একটি রিপোর্টের গুরুত্ব এতটাই অপরিসীম যা ভাষায় বনর্না করা আমার পক্ষে সম্ভব নয় । একটি ভুল রিপোর্টের কারণে খ্যাতিমান ব্যক্তির মান সম্মান ধূলোয় মিশে যেতে পারে, ধ্বংস হয়ে যেতে একটি জনগোষ্ঠী, বিলীন হয়ে যেতে একটি সংগঠন ও বিপর্যয়ের মুখে পড়তে একটি জাতি ।

আবার ভুল রিপোর্টের কারণে সংশ্লিষ্ট রিপোর্টারের জীবনও বিপন্ন হতে পারে । সুতরাং রিপোর্টের ক্ষেত্রে বস্তুনিষ্ঠতা, তথ্যের সত্যতা যাচাই ও সাবধানতা অবলম্বন করা অপরিহার্য । একজন রিপোর্টার তার রিপোর্টের মাধ্যমে সকলকেই দিকনির্দেশনা দিয়ে থাকে ।

এমন কী ওই নির্দেশনার আলোকে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তেরও পরিবর্তন হয়ে থাকে । আর অপরাধ বিষয়ক রিপোর্টের ক্ষেত্রে একটি অনুসন্ধানী রিপোর্ট বিচারকের একটি রায়ের কাছাকাছি । কেননা ওই রিপোর্টই বলে দিচ্ছে কি অপরাধ সংঘটিত হয়েছে আর এ অপরাধের জন্য দায়ী ব্যক্তি কে। প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্যও থাকে সেখানে । সুতরাং একজন রিপোর্টারের ভুল ধরিয়ে দেয়ার জন্য বা ভুল সংশোধনের জন্য আদালতের কাঠগড়ার প্রয়োজন নেই ।

আইন কানুনের ফ্রেমে আটকিয়ে শাস্তির ভয় দেখানোর প্রয়োজন নেই । একজন রিপোর্টারের বিবেকই তার জন্য কাঠগড়া । ভুল সংশোধন করার জন্য একজন রিপোর্টারের বিবেকই তার জন্য যথেষ্ট । একটি ভুল রিপোর্ট প্রকাশিত হলে ওই রিপোর্টারের বিবেক তাকে দংশন করবেই ।

প্রতিদিন রিপোর্টারকে পরীক্ষা দিতে হয়, প্রতিদিন পাঠকের সামনে হাজির হতে হয় । একটি ভুল রিপোর্টের কারনে শুধু রিপোর্টারই দায়ী হয় না, বরং সে দায় সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমের সম্পাদক, প্রকাশক ও মালিকের উপর গিয়েও বর্তায় । এমন কী রিপোর্টারের ভুলের কারণে সম্পাদককেও জেল খাটতে হয় ।

প্রত্যেক রিপোর্টারই একজন মানুষ । আর একজন মানুষ হিসেবে ভুল ভ্রান্তি হওয়াটাই স্বাভাবিক। সাংবাদিকদেরকে জাতির বিবেক বলা হয় । আমরা জাতিকে বিবেকের মতো দিক নির্দেশনা দিয়ে তাকে একজন রিপোর্টারের একেকটি রিপোর্ট । এই কারণে রিপোর্টারদের আরো শাণিত ও নিরপেক্ষ হতে হবে ।

যাতে করে রিপোর্টে বস্তুনিষ্ঠতা ও নিরপেক্ষতা প্রকাশ পায় । অবশ্য আমাদের গণমাধ্যমগুলোর পলিসির কারণে সকল রিপোর্টে তা প্রকাশ করা সম্ভব হয়ে উঠে না। তবু বেশকিছু নীতিমালা আমাদের মেনে চলা উচিত ।

তা না হলে যে কোন সময় আমরা নিজেরাই বিপদের সম্মুখীন হতে পারি । আমাদের সামনে উদাহরণ হিসেবে অনেকসহকর্মী রয়েছেন, যারা রিপোর্টের কারণে নানা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন । হয় চাকুরি হারাচ্ছেন নতুবা মামলা- হামলার শিকার হচ্ছেন ।

বিধিমালা অনুযায়ী সাংবাদিককের জন্য একটি শপথনামাও রয়েছে। এই শপথনামায় ৯টি বিষয়ে শপথ পাঠ করতে হয় । তা হলো- ১) আমি দ্বিধাহীন সততার সঙ্গে সংবাদ এর প্রতিবেদন, ভাষ্য ও বিশ্লেষন প্রণয়ন করবো ২) আমি স্বেচ্ছায় কোন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করবো না এবং সত্যকে বিকৃত করবো না ৩) আমি সর্বাবস্থায় সংবাদ উৎসের গোপনীয়তা রক্ষা করবো ৪) আমি সর্বাবস্থায় নিজের পেশাগত সহমর্মিতা ও সৌভ্রাতৃত্ব রক্ষা করবো ৫) আমি কখনও কারও কাছ থেকে অবৈধ সুবিধা গ্রহণ করবো না অথবা বিচার বিবেচনাকে প্রভাবিত করতে পারে এরূপ ব্যক্তিগত স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়কে প্রশ্রয় দেব না ৬) আমি সংবাদ, সংবাদচিত্র এবং দলিলাদি সংগ্রহে সর্বক্ষেত্রে সততা অবলম্বন করবো ৭) আমি জনসমক্ষে প্রকাশের জন্য কোন সাক্ষাতকার গ্রহণের পূর্বে সাংবাদিক হিসেবে আত্মপরিচয় প্রদান করবো ৮) আমি দায়িত্বপালনকালে পেশাগত নৈতিকতা, সততা ও সম্মানবোধের প্রতি ব্রতী থাকবো ৯) আমি সাংবাদিকদের আচরণবিধি মেনে চলতে বাধ্য থাকবো।

এই শপথের নিচে সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকের স্বাক্ষর এবং সম্পাদকের স্বাক্ষর থাকে । আমরা অনেকেই এ শপথ পাঠ করি নাই । তবে এ শপথ পাঠ করে তার উপর অবিচল থাকলে সাংবাদিকতার মহান পেশার মহান মানুষের পরিণত হতে পারবো ।

এতে কোন সন্দেহ নেই । সংবাদপত্রে প্রকাশিত রিপোর্টের কারনে যে সকল মামলা হয়ে থাকে তার মধ্যে মানহানি মামলা অন্যতম । যে কোন ব্যক্তি সর্ম্পকে রিপোর্ট প্রকাশিত হলে ওই ব্যক্তি মানহানি মামলা দায়ের করতে পারেন ।

তথ্য প্রমাণসহ রিপোর্ট করা হলে এ ধরনের মামলায় শেষ পর্যন্ত রিপোর্টারের পক্ষেই রায় আসে । তবে ভুল রিপোর্ট করা হলে সে ক্ষেত্রে খেসারত দেয়া লাগতে পারে । মানাহানি মামলা ফৌজদারী আইনে করা যায় আর সিভিল আইনেও ক্ষতিপূরণ চেয়ে করা যায় ।

এ সকল মামলায় সংশ্লিষ্ট রিপোর্টারের সাথে সম্পাদক ও প্রকাশককেও আসামী করা হয়ে থাকে। তবে মানহানির মামলায় আদালতের নির্দেশ ছাড়া পুলিশ আসামীকে গ্রেফতার করতে পারবে না। আর আদালতও সমন দেয়া ছাড়া প্রথমেই গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করতে পারবে না ।

আইনের বিধান অনুসারে কোনো মানুষ উদ্দেশ্য মুলকভাবে যদি কোনো কথা, প্রতিক বা দৃশ্যমান কোনো কিছু তৈরি করে বা প্রকাশ করে অপর মানুষের মানহানি ঘটান তবে তা মানহানি হিসেবে বিবেচিত হবে । এছাড়া যদি কোনো মৃত মানুষের বিষয়ে মানহানিকর কোন কিছু বললে বা প্রকাশ করলেও তা মানহানির অপরাধ হবে। এমনকি কোনো কোম্পানির বিরুদ্ধে মানহানিকর কিছু বললে বা প্রকাশ করলেও তা মানহানির অপরাধের পর্যায় পড়বে।

তবে মানহানিকর তখনি হবে যখন বক্তব্যটি বা প্রকাশনাটি সংশ্লিষ্ট মানুষটিকে নৈতিক ভাবে হেয় করে বা তার চরিত্রকে নিচু করে। সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে রিপোর্টের কারনে আদালত অবমাননার মামলাও হয়ে থাকে। বাংলাদেশে আদালত অবমাননার জন্য সবচেয়ে বেশী শাস্তি পেয়েছে দৈনিক আমার দেশ পত্রিকা।

একটি রিপোর্টকে কেন্দ্র করে পত্রিকাটির সম্পাদক মাহমুদুর রহমান আদালত অবমাননার অভিযোগে সর্বোচ্চ আদালতের আদেশে ৬ মাসের সর্বোচ্চ সাজা ভোগ করেছেন। আর সংশ্লিষ্ট রিপোর্টার অলিউল্লাহ নোমান ১ মাসের সাজা ভোগ করেছেন।

সুতরাং রিপোর্ট করার সময় এমন কোন বিষয় রিপোর্টে প্রবেশ করানো উচিত হবে না, যা আদালত অবমাননা হতে পারে। সুতরাং আমাদেরকে রিপোর্ট করার ক্ষেত্রে অবশ্যই সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে।

অন্যথায় যে কোন সময় শুধুমাত্র পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সম্পাদক-প্রকাশককে নিয়ে মামলায় জড়িয়ে যেতে হবে । অবশ্য রিপোর্টারগন মামলা ও জেল জুলুমের ভয় করে না । মামলা ও জেল – জুলুমের চেয়ে বড় বিষয় হলো, আমার রিপোর্টের কারণে যাতে কোন নিরপরাধ মানুষের ক্ষতি না হয় ।

কেননা মানুষের সর্বশেষ আশ্রয়স্থল হলো গণমাধ্যম। যখন আইন-আদালতসহ দেশের কোথাও কোন প্রতিকার না পায় তখন মানুষ চেয়ে থাকে গণমাধ্যমের দিকে। ছুটে আসে সাংবাদিকের কাছে। মানুষের এই ভালোবাসা ও বিশ্বাস যেন আমরা চিরকাল অক্ষুন্ন রাখতে পারি সে প্রত্যয়ই আমাদের থাকা উচিত ।

জাতীয়ম বিবেক সাংবাদিক ডাক্তার
নির্বাচন নিয়ে কূটনৈতিকদের এতো মাতামাতি কেন

কূটনীতি

Image

হঠাৎই সরগরম হয়ে উঠেছে বাংলাদেশের নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে বিশ্ব কূটনৈতিক অঙ্গন। প্রশ্ন হলো বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে কূটনৈতিকদের এতো মাতামাতি কেন....?

এরইমধ্যে নির্বাচন প্রক্রিয়া জানতে  ঢাকা আসছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের নাগরিক নিরাপত্তা, মানবাধিকার ও গণতন্ত্রবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি উজরা জিয়া।

আবার নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করা হবে কিনা— তা যাচােই করতে আসছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রাক-নির্বাচন পর্যবেক্ষক প্রতিনিধি দল।  ইউরোপীয় ইউনিয়নের মনবাধিকারবিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধি ইমোন গিলমোর বাংলাদেশে আসছেন জুলাইয়ের তৃতীয় সপ্তাহে।

তবে সর্তসাপেক্ষে ঢাকা সফরে আসতে পারেন অর্থনীতিবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি হোসে ডব্লিউ ফার্নান্দেজ। কূটনৈতিক সূত্র এসব তথ্য জানিয়েছে।

বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে এখন এতো জল্পনা—কল্পনা বিশ্ব অঙ্গনে। তাহলে পেছন ফিরে তাকানো যাক— এমন একটা সময়ছিল যে সময় বাংলাদেশের নির্বাচনে অনিয়ম-দূর্নীতি, রাতের আধাঁরে ব্যালটে সীল মারা এবং প্রকাশ্য দিবালকে ব্যালট বাক্স ছিনতাই করা। হ্যাঁ এই কালো অধ্যায় বাংলাদেশের-ই। তখনো বিশ্ব মানচিত্রে সরব ছিল যুক্তরাষ্ট্র।

এ–তো গেল নির্বাচনের কথা। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্টের কাল রাত থেকে শুরু হওয়া নির্মম অধ্যায় তো তখনো শেষ হয়নি। সময় তখন ২০০৪ সাল। দিনপুঞ্জিতে ২১ আগষ্ট। গ্রেনেড ছুঁড়ে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টা করা হয়। সৃষ্টিকর্তার কৃপায় সেদিন শেখ হাসিনা প্রাণে বাঁচলেও আওয়ামী লীগের অনেক নেতা-কর্মী প্রাণ হারান। দেশ শাসনে তখন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার। তখনো বিশ্ব মানচিত্রে সরব ছিল যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু সেসময় যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা কী ছিল...?

ইতিহাস বলছে— যুক্তরাষ্ট্রের আক্ষরিক মানবাধিকার কেবল কালো অক্ষরেই সীমাবদ্ধ ছিল। সেসময়ে বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া এসব পরিকল্পিত ঘটনা প্রবাহে যুক্তরাষ্ট্র মুখে কুলুপ এঁটেছিল...! 

তাহলে কী যুক্তরাষ্ট্রের মুখে মানবাধিকারের কথা মানায়

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে আপামর জনতা মুক্তির জন্য লড়াইয়ে নেমে পড়েন। তখনকার সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের দোসর পাকিস্তানী সেনাদের হাতে বর্বরচিত নির্যাতনের শিকার হয়েছে নিরস্ত্র বাঙালি। 

বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঠেকাতে বঙ্গোপসাগরে সপ্তম নৌ-বহর পাঠায় যুক্তরাষ্ট্র। আজ তারাই কিনা বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে নানা রূপে হস্তক্ষেপ করতে চাচ্ছে।

 বিস্তারিত আসছে....

Image

আমরা জীবনে চলার পথে বহু মানুষকে "ভালোবাসা" দিয়ে দিয়ে থাকি। হয়তো আমরা কেউ বা অতিরিক্ত ভালোবাসা দিয়ে খুবই 'আনন্দ বোধ' করি। কিন্তু প্রত্যেক মানুষের জীবনে অনেক ভালোবাসা থাকলেও তা দিতে দিতে চায় না।

তবে এই আলোচনায় বলতে চাই, - কারো কম ভালোবাসা কিংবা কারো বেশি ভালোবাসা। এই মানুষরাই মানুষকে- ভালোবেসে কাছে নিবে বা আদর করবে।

এতে দোষের কিছুই নেই, মানুষ ভালবাসতেই পারে, এটাই তো  স্বাভাবিক। কিন্তু সমস্যা যা, তা এখানে বলতে চাচ্ছি তাহলো, অতিরিক্ত বা বেশি ভালোবাসা। এমন "অতিরিক্ত ভালোবাসা বা অতিরিক্ত কদর'' করা মোটেই উচিত নয়। 

আপনার "অতিরিক্ত ভালোবাসার প্রকাশটাকে" অবশ্যই নিয়ন্ত্রণে রাখুন। অতিরিক্ত ভালোবাসার ফলেই মানুষরা নিজের দাম বাড়িয়ে ফেলবে আর আপনার ভালবাসার দাম সে মানুষ দিতেই চাইবে না।

বর্তমানে এমন সমাজে প্রকৃত ভালোবাসা পাওয়া খুবই দুষ্কর হয়ে গিয়েছে। বহু মানুষ আছে যারা অতিরিক্ত ভালোবাসা গ্রহণের আশা করে, কিছুদিন পরে সেই মানুষ ভালোবাসা প্রদানকারী মানুষকে যেন খুবই কষ্ট দেয়।

এ পৃথিবীতে চলার পথে অনেক কিছুই আপনার জীবনে আসবে। আপনি জীবনে অনেক কিছুই অর্জন করতেও পারবেন। কিন্তু কোন কিছুই ''অতিরিক্ত'' ভালো হবে না। কোন কিছুর স্বাদ অতিরিক্ত মানুষরা ধরে রাখতে পারে না, শুধুমাত্রই তাদের নিজের চরিত্রের কারণে।

মানুষকে অতিরিক্ত ভালোবাসা দিলে সেই মানুষ আপনাকে খুবই সস্তা ভাবতে শুরু করবে। এই পশুতুল্য মানুষ অতিরিক্ত ভালোবাসা পেলে- "হিতাহিত জ্ঞান" হারিয়েই আপনাকে নিয়ে হাসি ঠাট্টা, কটুবাক্য বা কটুকথা নিয়েই মত্ত হবে। এখানে বলে রাখি,-  মানুষ মাত্রেই ভুল হওয়া স্বাভাবিক, কিন্তু সেই ভুলকে সংশােধন করার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা যে চালাতে হবে, তা কখনোই করবে না।

তাই, অতিরিক্ত সুযোগ দিলে অবশ্যই তারা মাথায় উঠে বসবে, বেয়াদবি করবে। এই শ্রেণির উজবুক মানুষরাই অতিরিক্ত ভালোবাসা কিংবা অতিরিক্ত সুখ সহ্য করার  ক্ষমতা বা যোগ্যতা রাখেনা। আমি বলবো যে অতিরিক্ত ভালোবাসা আর অতিরিক্ত আবেগ খুব ভালো চরিত্রের মানুষকে এক সময় অনেক কাঁদাবে। তাকে অবহেলিত হতে হবে।

আবার কখনো অতিরিক্ত ভালোবাসার জন্য আপনার নিজস্ব কাজে বাগড়া দিবে কিংবা যে কোনো ভাবেই  বিপদে ফেলতে পারে। এখানে আরও পরিস্কার ভাবে বলতেই চাই, আপনি যেটা চান মাঝে মাঝেই চান কিন্তু অতিরিক্ত যদি চান, তা হলে আপনি সেটা হারিয়ে ফেলবেন।

তেমনি ভালবাসাটাও যদি আপনি অতিরিক্ত মাত্রায় দেখান, তাহলে একদিন আপনি ভালোবাসাকে হারিয়ে ফেলবেন। তাই বলবো যে অতিরিক্ত ভালোবাসা একদিন ''অতিরিক্ত কষ্টের কারণ' হয়ে যাবে। আমাদের শিক্ষা নেওয়া উচিত অতিরিক্ত কোন কিছুই ভালো নয়। তেমনি কারো কাছ থেকে অতিরিক্ত ভালোবাসা নেওয়া উচিত নয়।

বলে রাখি, যারা অতিরিক্ত ভালোবাসা পায় তারা ভালোবাসা ধরে রাখতে পারে না। তারা সব সময় ভালোবাসাকে অবহেলা এবং ঘৃনা করে। তবুও এখানে অবশ্যই বলবো, - আপনি মানুষকে ভালোবাসুন, কাছে নিন। তবে মানুষকে চিনে। জীবনের একটা সময়ে গিয়ে ভালোবাসা পাওয়ার জন্যে চিৎকার করেই কাঁদতে হবে। কিন্তু ভালোবাসা তখন আর ধরা দেবে না। কারণ, সময় ঠিকই প্রতিশোধ নিয়ে ফেলবে।

যারা অতিরিক্ত ভালোবাসা পায় তারাই ভালোবাসা ধরে রাখতে পারেনা। মনে রাখতে হবে যে ভালোবাসার মধ্যে হারানোর কোন ভয় নাই, সেই ভালবাসার প্রয়োগ করার জন্য প্রস্তুত হন। আসলে খাঁটি ভালোবাসা কিংবা প্রকৃত ভালোবাসা বর্তমান সময়ে মানুষের জ্ঞান সল্পতায় বহন করতে পারে না

। আমার জীবদ্দশায় দেখছি, অতিরিক্ত ভালোবাসা বেশিদিন বাঁচানো কঠিন, কারণ ঘুনেধরা বা পচনশীল মানুষের অহেতুক কিছু 'চাহিদা এবং প্রত্যাশা' বেশি লক্ষ্য করবেন, এরাই এক সময় অবহেলা করবে। আপনার জানা দরকার, অতিরিক্ত ভালোবাসা একদিন অতিরিক্ত একা করে দেবে। মানুষ আপনাকে অতিরিক্ত ভালোবাসার কারণে সস্তা বানিয়ে ছাড়বে। 

পরিশেষে এই আলোচনার নিরিখে বলবো, ভালোবেসে আমি ঠকেছি অনেক। তবুও মানুষের প্রতি ভালোবাসা অব্যাহত রাখতে চাই, আমার ভালোবাসায় কোন প্রকার স্বার্থ নেই, চাহিদাও নেই, আমার- ক্ষতি হয় হোক, কোন চাওয়া পাওয়া নেই।

আমি সৃষ্টি কর্তার কিছু বানীর প্রতি শ্রদ্ধাশীল। হাদিস কুদসিতে আছে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কথায় এসেছে। মহান "আল্লাহ তা আলা" বলেছেন যে, - ‘আমি ছিলাম গোপন ভান্ডার; ''ভালোবাসলাম মানুষকে'' প্রকাশ হতেই, তাই তো সৃজন করলাম সমুদয় সৃষ্টি। আল্লাহ তা আলার বড় কুদরতের জগতে ভালোবাসাটাই হলো, প্রথম সম্পাদিত ক্রিয়া বা কর্ম। তাই তো আমি মানুষকে ভালোবাসি।

লেখক: টিভি ও মঞ্চ অভিনেতা, চিত্রশিল্পী, সাংবাদিক, কলামিস্ট এবং অধ্যাপক।

Image

প্রতিনিয়ত পরিবর্তন হচ্ছে সমাজ,বৃদ্ধি পাচ্ছে  শিক্ষিত মানুষের,মানুষ সভ্য হচ্ছে তবে  সমানতালে

বেড়ে চলছে অসভ্যতাও।বর্তমান  সমাজকে যতই আধুনিক দাবি করা হোক না কেন,  এখনো বহু খারাপ রীতিনীতির প্রচলন  রয়েগেছে, যার মূলোৎপাটন নাহলে তার ক্ষতিকর প্রভাব সমাজ পরিবর্তনকে দারুণভাবে বাধাগ্রস্ত করবে।

দেখা যায় বিভিন্নভাবে  নির্যাতিত হচ্ছে নারীসমাজ। যা সভ্যতার জন্য  কলংকের।নারী উন্নয়নে  সামাজিক নিরাপত্তায় যৌতুকমুক্ত সমাজ, বাল্যবিবাহ মুক্ত দেশ দেখার সপ্ন নিয়ে  অভিমত ব্যক্ত করতে গিয়ে বিশেষজ্ঞ মহল  মনে করেন, "যে কোন নারীর সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা হচ্ছে তার কাছে কিছু টাকা থাকা"।

নারীদের স্বাবলম্বিতা নিয়ে করোণা পরবর্তী  চকরিয়ার মতো উপশহরে নারী উদ্যোগক্তাদের অভিষেক  নারী উন্নয়নে নতুন দিগন্তের দ্বার উন্মোচিত হয়।তাদের কর্মতৎপরতা জেলাজুড়ে ব্যাপক প্রশংসা লাভ করে।

প্রতিবছরের মতো এবছর ফেব্রুয়ারিতে নারী উদ্যোক্তাদের উদ্যোগে  দুইটি মেলা অনুষ্ঠিত হয় চকরিয়া বিজয়মঞ্চ প্রাঙ্গণে। মেলা দুটো সফল হয়েছে  দাবী চকরিয়া হস্তশিল্প ও দেশীয় পন্য উৎপাদনমূখী সমবায় সমিতি লিমিটেড এবং আত্মপ্রত্যয়ী সংগঠনের শীর্ষ নেতৃত্বের।

তবে একই জায়গায় দুই দিনের ব্যবধানে আলাদা আলাদা মেলা আয়োজনকে সমর্থন করতে পারছে না, নারী উদ্যোক্তাদের নিয়ে আশাবাদী সচেতন অনেক বিশিষ্টজনেরা। তাদের ভাষ্যমতে দুই গ্রুপ যৌথ ভাবে  আয়োজন করতে পারলে মেলাটি আরও গুরুত্ববহ হতো,সমালোচনার উর্ধ্বে থাকতো। গ্রুপ ভিত্তিক দ্বন্দ্বের চাপ থেকে নেতিবাচক প্রভাব মুক্ত থাকতো সাধারণ  সদস্যারা।

যেকোন  কর্মজীবী  মহিলা পরিবারের শতভাগ  সমর্থন পাওয়ার মত সামাজিক পরিস্থিতি এখনো  তৈরি হয় নাই এই উপশহরে। সাংসারিক কাজ সামাল দিয়ে  অনেক বাধা অতিক্রম করে কাজে বের হতে হয়। এই দ্বন্দ্বটি অনেক পরিবারের মুরুব্বিদের কাছে  বাঁধা সৃষ্টির মুখ্য হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার হতে পারে, এমনও ধারণা অনেকের।

উদার রক্ষণশীল সমাজে আমাদের বেড়ে উঠা,তবে মহিলাদের বাইরে কাজ করা নিয়ে আমাদের  মানষিক বিকাশ পর্যাপ্ত নয়। অপ্রিয় হলেও সত্য যে,সমাজে বিভিন্ন ভাবে  নারীরা  অবহেলিত।বিভিন্ন কারণে অনেকের ঘর সংসারে ফাটল ধরে,ভেঙ্গে যায়।

তখন অনেকের জীবনধারণের কোন উপায় থাকে না।কাজ খুঁজে পায় না।অনেক পরিবারে বহু মেধাবী মেয়েরা বাবার দারিদ্রতার কারণে পড়ালেখা চালিয়ে যেতে পারে না। থমকে যায় জীবনের গতি।তখনই দরকার পড়ে কাজের।উপায় না পেয়ে কেউ যায় গার্মেন্টসে, কেউ ছোটখাট অন্য কাজে।

জীবনের সাথে লড়াই করে টিকে থাকার চেষ্টা করে।সেখানেও পদে পদে প্রতারণা প্রবঞ্চনার স্বীকার হয়ে পড়ে।  লেখাপড়া জানা অনেকেই উপযুক্ত  পেশা পায় না,তখন  হতাশা নেমে আসে জীবনে। সেই সময়টাতে  অনুভব করে একটি হাতের কাজ জানা হলে ভাল হয়।

  চকরিয়া হস্তশিল্প সমিতি এবং আত্মপ্রত্যয়ী নারীদের  স্বাবলম্বি হওয়ার পথপ্রদর্শক হয়ে কাজ করছে।সেইজন্য তাদের কার্যক্রমকে  সাধুবাদ জানিয়ে আরো বৃহত্তর পরিসরে অগ্রগতি কামনা করে সচেতন মহল।  

যখনই সফল  নারীদের  নিয়ে গল্প উঠে তখনই আমরা বেগম রোকেয়া,বিবি রাসেল,কানিজ আলামস খান সহ সাফল্যগাথা  ভাইরাল হওয়া আরো অনেক নারীদের কথা বলে থাকি।অন্যদিকে আমাদের চকরিয়াতেও অনেক নারী উদ্যোক্তার কথা বলা যেতে পারে, যাঁরা এই জনপদের জন্য সত্যিই  গর্বের এবং সন্মানের।

আমরাও বলতে পারি আমাদের  শারমিন জান্নাত ফেন্সির কথা,জিনিয়া মুছার কথা,ফাতেমা বেগম রাণী, তানিমা কবির সহ  অনেকের ।দেশসেরা নারীদের মতো  তাদেরও বলার মতো  আলাদা  গল্প  আছে,লড়াইয়ের কাহিনী রয়েছে।নিজের পরিবার এবং  সমাজ থেকে শুরু করে বিভিন্ন বাধা পেরিয়ে তাদের আজকের বর্তমান।

আমরাও গর্ব করতে পারি জিনিয়া মুছা, শারমিন জান্নাত ফেন্সি সহ  অন্যান্যদের  নিয়ে।একজন জিনিয়া মুছা  চকরিয়া উপজেলার মতো উপশহরে সপ্ন দেখছেন গার্মেন্টস কারখানা স্থাপন  করার।

যেখানে হাজার  মহিলা কাজ করবে, অনেকে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে নিজেদের মেধা এবং প্রজ্ঞাকে লাগানোর সুযোগ পাবে।

পারুক কিংবা নাইবা পারুক জিনিয়া মুছা চকরিয়াতে গার্মেন্টস করার স্বপ্ন দেখছেন, দেখাচ্ছেন, তাও কম প্রাপ্তি কিসের? তার দেখানো  পথ বেয়ে হয়তো অন্য কারও হাত ধরে চকরিয়াতেই হবে নারীদের উদ্যোগে গার্মেন্টস,আশাবাদী আমরা। জিনিয়া মুছা  এবং তার সংগঠন আত্মপ্রত্যয়ী ধারাবাহিক ভাবে নারীদের বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে  আসছেন।

অন্যদিকে জীবনের সাথে লড়াই করে স্বাবলম্বী হওয়ার মিশিলে আলো ছড়াচ্ছেন শারমিন জান্নাত  ফেন্সি। বিলুপ্ত প্রায় হাতের কাজ সহ সৃজনশীল অনেক কাজ নারীদের হাতে  তুলে দিয়ে স্বাবলম্বী হওয়ার আশার আলো দেখাচ্ছে।

এভাবে উভয় সংগঠনের অনেক সফল নারী উদ্যোক্তার  কথা বলা যেতে পারে।নারীরাও পারে এমন গল্পে আমাদের এলাকার নারীরাও এগিয়ে।তাঁরাই যুগ যুগ ধরে  সমাজ বিনির্মানের  স্থপতি।নজরুলের ভাষায়, "পৃথিবীর যাহা কিছু চির মহান- কল্যাণকর, অর্ধেক তার করিয়াছে নারী অর্ধেক তার নর"।

ইতিহাস সাক্ষী যুগে যুগে  নারীদের সাহচর্য ও প্রেরণায় অনেক পুরুষের সাফল্যের কথা । অন্যদিকে পুরুষের সহযোগিতা পেলে নারীরাও  যেতে পারে অনেক দুর। এনিয়ে হস্তশিল্প সমিতির সভাপতি শারমিন জান্নাত  ফেন্সির একটি ফেইসবুক স্ট্যাটাস এখানে  উল্লেখ করা যেতে পারে।

তিনি তার স্বামী সাংবাদিক মনসুর মহসীনের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে লিখেন যে," মনসুর মহসীন তোমার মত জীবন সঙ্গী পেয়ে সত্যি আমি ধন্য।তোমার মতো মানুষ পাশে আছে বলেই আমার অনেক কঠিন কাজও সহজ ভাবে হয়ে যায়"। অন্যদিকে জিনিয়া মুছার স্বামী আওয়ামী লীগ উপজেলা সম্পাদকের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে , তার শত ব্যস্ততার মাঝেও স্ত্রী জিনিয়াকে সাহস ও সহযোগিতা করে যাচ্ছেন।

এমনিভাবে যদি আমাদের উপশহরের সমস্ত  উদ্যোক্তাগণ  পারিবারিক সমর্থন পেয়ে থাকে, তখন আমরাও হয়তো  পেতে পারি একজন বিবি রাসেল। ঢাকার মেয়র বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আনিসুল হকের  ভাষায়,  মানুষ তার  স্বপ্নের চেয়েও বড়।আমি ও তাই বিশ্বাস করি। আমিও তাই বলবো, সপ্ন দেখ,সপ্ন দেখা বন্ধ করো না"।

তিনি প্রতিটি কাজকে শতভাগ ভালবাসা নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সাথে করার পরামর্শ দিয়ে টাইম ম্যানেইজমেন্টের উপর সর্বাধিক গুরুত্বের পরামর্শ দিয়ে থাকেন। উন্নয়নের সাফল্যের সূত্রে  নোবেলজয়ী মার্গারেট তেরেসার একটি উক্তি এখানে  সংযোজন করতে পারি " তুমি যদি কিছু বলতে চাও পুরুষদের দিয়ে বলাও, যদি কোন কাজ সম্পন্ন করতে চাও,নারীকে দিয়ে করাও"।

যতই জটিল সমস্যা হোকনা কেন আলাপ আলোচনার মাধ্যমে  গঠনমূলক সমাধান সম্ভব, শুধু দরকার ধৈর্য্য, সহনশীলতা সহমর্মিতা এবং সার্বজনীন চিন্তা।বিভক্ত নারী উদ্যোক্তাগণ যৌথভাবে একই মঞ্চে তাদের প্রদর্শনী নিয়ে আসলে  সবচেয়ে উপকৃত হবে নারীসমাজ,যা উভয়ের প্রধান এজেন্ডা।তখন  ডাবল খরচের পাশাপাশি প্রশাসনিক খরচও অর্ধেকের বেশি বেঁচে যাবে।

এপর্যায়ে ধৈর্য্য, সহনশীলতা এবং আত্মোপলব্ধি নিয়ে  বিশিষ্ট মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান এইড এর মহাসচিব সহেলী পারভীন এর এই উক্তিটির গুরুত্বকে সামনে নিয়ে আসলে সমাধান অনেক সহজ হবে মনে করি।যেমন, "নারীরাই নেতৃত্ব দিতো পৃথিবীর, যদি গর্ভধারণের সমান ঝুকি আর প্রসবের সমান বেদনা সহ্য করার মানসিকতা ও ধৈর্য্য রাখতে পারতো, সকল কাজেও মানবতার জন্য"।

অন্যদিকে সচেতনতা সৃষ্টি হল দীর্ঘমেয়াদী চলমান প্রক্রিয়া, যা একদিনে সব কিছু করা সম্ভব নয়।সবাই নিজনিজ অবস্থান থেকে ভাইরাল হওয়ার চেষ্টায় থাকলে ভবিষ্যৎ এই সব লোক দেখানো কাজে জনসাধারণের অনাগ্রহ জন্মাবে।

বিশিষ্ট মানবাধিকার কর্মী বদরুন নাহার কলি তাঁর বিশ্লেষক মন্তব্যে বলেছেন যে,"উপজেলা পরিসরের ছোট্ট আয়োজনকে ভাগ না করে একসাথে করতে পারলে আরও আলো ছড়াতো বেশি, আমার ধারণা এমনই।

বৃহত্তর স্বার্থে আমরা  নিজের ইগো ত্যাগ করবো  ইনশাআল্লাহ।তাতে আমাদের লক্ষ্য উদ্দেশ্যের সফলতা আসবে বেশী"।চকরিয়া থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক মাতামুহুরি এবং চকরিয়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মিজবাহ উল হক জোরালোভাবে যৌথ নারী উদ্যোক্তা মেলার  পক্ষে মতামত তুলে ধরে বলেন, "প্রতিযোগিতা হোক উৎপাদনমূখী,সচেতনতা মূলক।ফলে আগ্রহ বাড়বে ব্যাপক নারীদের"।

দেশের অর্থনীতির ভিত মজবুত রাখতে  নারী উদ্যোক্তা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকারি বেসরকারি সকলের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

তারাই আলোকিত করবে সমাজ ও পৃথিবীর।আগামী নারী উদ্যোক্তামেলা যৌথ এবং সবারই  অংশগ্রহণে প্রানবন্ত হয়ে উঠবে আশাবাদ সামাজিক আন্দোলনের সাথে জড়িত অভিজ্ঞ মহলের।স্বনামধন্য  শিক্ষক অধ্যাপক আ ক ম গিয়াস উদ্দিন মন্তব্য করতে গিয়ে বলেন, "যদি লক্ষ্য, উদ্দেশ্য এক অভিন্ন হয়, যৌথ আয়োজন নয় কেন? কোন সমস্যাই সমস্যা নয়,যদি তা সঠিকভাবে সমাধান করা যায়।আমাদের সেই লক্ষ্যেই অগ্রসর হতে হবে"।

লেখক-
কলামিস্ট এবং সমাজকর্মী

Image

নৈতিকতা এবং  মূল্যবোধের অবক্ষয় বর্তমানে সোস্যাল মিডিয়াতেও সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। মানুষ 'সামাজিক জীব' একথা আমরা বলে থাকি। কিন্তু আমি বলবো যে,- মানুষ হিংসুটে জীব। মানুষদের ভুলে গেলে চলবে না।

সব মানুষেরই তো 'কোনো না কোনো কর্মের' চাহিদা কিংবা কর্মের পরিধি বিস্তারের প্রয়োজন আছে। মানুষের কাছ থেকেই মানুষরা সব সময় সেই গুলোকে প্রত্যাশা করে।

প্রত্যেক সমাজে তার সদস্যদের আচরণ পরিচালনার জন্য সুনির্দিষ্ট নীতি থাকে। নীতিহীন সমাজ হয় 'উচ্ছৃঙ্খল, বিভ্রান্তিকর ও অনিশ্চিত''। তাইতো দেখা যাচ্ছে- সমাজের সঙ্গে সেস্যাল মিডিয়াতে নৈতিকতা ও মূল্যবোধের অবক্ষয়।

মানুষদের মধ্যেই - "রুচিহীন চিন্তা ভাবনা", বাজে মন্তব্য এবং গালিগালাজের মতো নানান অনাকাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন।নষ্ট হচ্ছে পবিত্র সম্পর্কগুলো।

চাওয়া-পাওয়ার ব্যবধান হয়ে যাচ্ছে অনেক বেশি।ফলে বেড়ে যাচ্ছে- অপরাধ এবং হিংসার প্রবণতা। মা-বাবার মতো আপনজনসহ ভাই-বোন, স্বামী-স্ত্রী, আত্মীয়স্বজন ও বন্ধু-বান্ধবের নির্ভেজাল সম্পর্কের জায়গাগুলোতেও ফাটল ধরেছে।

ঢুকে পড়েছে অবিশ্বাস। ফলে স্বামী-স্ত্রীর মধুর সম্পর্কেও সৃষ্টি হচ্ছে আস্থার সংকট। আর তো এই 'সোস্যাল মিডিয়ার কথা' বাদই দিলাম। এখানে মানুষের মধ্যে নুন্যতম "বিবেচনাবোধের" কোনোই জায়গায় নেই। মানুষকে মানুষ এতোটাই সস্তা মনে করছেন, তা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না।

আমরা নাকি সভ্য যুগের সামাজিক প্রাণির শ্রেষ্ঠ মানুষ। হ্যাঁ সামাজিকই তো! তাই একটা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমও পেয়েছি। আর সেখানে আমাদের চাহিদা নিয়ে অনেক কিছুই আপলোড করি।

আমাদের চাহিদা গুলো  অনুধাবন করে জুকার্বাগ তৈরী করেছেন ফেসবুক। এই ফেসবুকে সুবিধা যেমন আছে এবং অসুবিধাও রয়েছে। বর্তমানে ''ইন্টারনেট" ব্যবহার করে যারা, তারা গুগলের এক জরিপে পড়েছে।

শুধু মাত্র আমাদের বাংলাদেশেই প্রায় ৮০ ভাগ মানুষ -"ফেসবুক ব্যবহার" করেন। সংখ্যা দিয়ে হিসেব করলে এর পরিমাণ দাঁড়াবে প্রায় ৭ কোটি। তার মধ্যেই আবার অসংখ্য ভুয়া আইডিও রয়েছে।

ভুয়া মানুষেরা 'ভুয়া আচরণ কিংবা খারাপ' করবে- এটাই কি স্বাভাবিক নয়। আজকের দিনে ভুয়ামানুষ ক্রাইম করার জন্যই 'যোগাযোগ' রক্ষার্থে খুব গুরুত্ব পূর্ণ করে নিয়েছে - "সোস্যাল মিডিয়ার ফেসবুক"।

গদে বাঁধা কিছু ভূমিকা লিখে অথবা নিজের অসংগতি পূর্ণ- 'মনের ভাব' প্রকাশ করে সহজেই ফেসবুকে পোস্ট করছেন। কিন্তু বর্তমানে এ সমাজের সবচেয়ে বড় জলন্ত প্রশ্নটি হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ।

এই মাধ্যমটি কতটুকু 'সামাজিকতা' রাখতে পেরেছে? এই প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে আজকে থমকে যেতে হয়। তরুণপ্রজন্ম যখন নেশাখোরের মত সোস্যাল মিডিয়া- 'ফেসবুক' ব্যবহার করে, সেখানে বড়দের শ্রদ্ধা করে না তারা। ''ইনবক্সে গালি সহ অশ্লীল আচরণ'' করে কিংবা সেসব তরুণ ভুয়া ফেসবুক আইডি ব্যবহার করে অপকর্মও করে।

তাদের নৈতিকতা কী চরম- "প্রশ্নবিদ্ধ" নয়? এমন ফেসবুকে আপনার তথ্য আদান প্রদান করা কি 'আদৌ নিরাপদ' হবে? এই প্রশ্ন গুলো যখন চোখের সামনে ভাসে, তখন আমরা নিশ্চিত হয়েই- বলতে পারি বর্তমান সময়ে মূল্যবোধের সর্ব বৃহৎ অবক্ষয়ের- "প্রধাণ কারণই ফেসবুক"। 

এ আলোচনাটি পরিস্কার করা লক্ষ্যে বেশকিছু উদাহরণ টানতে পারি। স্বভাবই আপনাদের প্রশ্ন আসতেই পারে, সে প্রশ্ন হলো ফেসবুক আসার আগে কি মূল্যবোধ ঠিক ছিল? কিংবা আপেল ছুড়ির গল্প শুনিয়ে কেউ জিজ্ঞাস করেন মূল্যবোধ অবক্ষয়ের জন্য দায়ি কী এই ফেসবুক নাকি ফেসবুকের ব্যবহারকারী? এর প্রশ্ন গুলোর উত্তর খোঁজার জন্যই আমাদেরকে একটু বাংলাদেশের সমাজ বাস্তবতার দিকে আলোকপাত করতে হবে।

আজকে ৭ কোটির মত মানুষ ফেসবুকের সঙ্গে কোননা কোনভাবে সংযুক্ত আছে। এদের মধ্যে খুব বড় একটা অংশ সমাজ বাস্তবতা থেকে দূরে গিয়ে "ভার্চুয়াল জগত" নিয়েই পড়ে থাকতে পছন্দ করে।

ফলে তাদের আশেপাশে কি ঘটছে এই সম্পর্কে কোন হুশ থাকে না। ফেসবুকে যেহেতু ভুয়া আইডি খোলা যায়, তাই তো ভূয়া আইডির সুযোগ নিয়ে অনেকে নানা ধরণের উড়ো খবর দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করেন।

কারও সম্পর্কে অনেক আজে বাজে কিছু লিখে বা কোন স্থির বা চলমান চিত্র দিয়ে মান সম্মানে আঘাত হানে। ভুয়া আইডির উড়ো খবরে সাধারণ মানুষ বিভ্রান্ত হয়ে খুব সিরিয়াস কিছু ঘটান।

অবশ্যই এই সম্পর্কে খুব  বড় একটা উদাহরণ দেওয়া যায়, যেমন- "রামুর ঘটনা"। বাংলাদেশে ফেসবুকের কোন সার্ভার না থাকায় এটিকে নজরদারীর বাইর থাকে।

আর এসুযোগ কাজে লাগায়ে কু-চরিত্রের মানুষরা সোস্যাল মিডিয়ায় 'সন্ত্রাসী' করছে। ফেসবুকের পেজ গুলো অনেক সহজ লভ্য, তাই- সকল শ্রেণীর মানুষ এটিকে খুব সহজে- যত পারে ততই খুলে। তাদের পেজের এডমিন যেহেতু পাঠকের কাছে অজানা তাই, এই সুযোগে নেতিবাচক বা খারাপ তথ্যের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করছে খুব সহজেই।

বর্তমানে ফেসবুকের কারণেই মানুষের মধ্যে "গোপন ছবি কিংবা ভিডিও ধারণের প্রবনতা" বৃদ্ধি পেয়েছে। তাদের উদ্দেশ্য একটাই ফেসবুক দিয়ে আনন্দ নেয়া কিংবা ব্ল্যাক মেইল করা।

যাই হোক আর একটু বলি,- সেই সব মানুষের সেলফির প্রবনতা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ ফেসবুক। বেশ কিছু দিন আগে প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে যাদের মধ্যে ফেলফির প্রবনতা বেশীর কারণটা হলো- তারা কোন না কোন ভাবেই যেন মানসিক কষ্টে ভুগে।

বেশকিছু অসাধু শ্রেণীর মানুষ আইডি হ্যাক করে নানান মুখরোচক খবর ছড়ানোর কাজে লিপ্ত হয়। শেষ করার আগে কিছু কথা না বললেই নয়, আমাদের সমাজে অল্পশিক্ষিত মানুষরা ফেসবুক আইডি খোলার সুবাদে ইনবক্সে বিভিন্ন ভাবেই গালিগালাজ করে। তারা বয়সে ছোট হলেও বড়দেরকে তোয়াক্কা করে না।

সুতরাং এই আলোচনার মুল উদ্দেশ্য হলো,- ফেসবুকের মাধ্যমেই যেন আমাদের মূল্যবোধের অবক্ষয় সৃষ্টি। তো আমি জোর দিয়ে বলবো যে, বর্তমান সময়ে মূল্যবোধ অবক্ষয়ের প্রধান কারণই ''ফেসবুক''।।

লেখক: 
নজরুল ইসলাম তোফা, টিভি ও মঞ্চ অভিনেতা, চিত্রশিল্পী, সাংবাদিক, কলামিস্ট এবং অধ্যাপক

তৈমুর লং যেখানে নামাজ আদায় করতেন

—ছবি লেখকের সৌজন্যে

Image

১. দিল্লীর সুলতান ফিরোজ শাহ তুঘলক ১৩৫৪ খ্রিষ্টাব্দে যমুনা নদীর তীরে দিল্লীর পঞ্চম শহর ফিরোজাবাদের পত্তন করেন। ফিরোজাবাদ শহরে তিনি তার কোটলা বা দুর্গ প্রাসাদ নির্মাণ করেন যা ফিরোজ শাহ কোটলা নামে সমধিক পরিচিত।

প্রাচীর ঘেরা এই স্থাপত্যের একদিকে জামি মসজিদের ছাদবিহীন ধ্বংসস্তুপ বর্তমান। অতীতে এটি দিল্লীর সবচেয়ে বড় মসজিদ ছিল। তুঘলকবাদ ফোর্ট থেকে তুঘলক রাজবংশের রাজধানী ফিরোজাবাদে স্থানান্তর করার অন্যতম কারণ ছিল পানি সংকট। 

২. ফিরোজ শাহ কোটলা বর্তমানে একদম ধংসের প্রান্তে। এখানে পর্যটক খুব কম যাতায়াত করে। আমি কোটলায় ঢুকে ভাংগা অংশ দেখতেই নিরাপত্তারক্ষীদের একজন বললেন, ভেতরে আরও দেখার বাকী রয়েছে। সামনে এগুতেই বামদিকে লম্বা লোহার পিলারের মতো দেখতে পেলাম। বুঝতে বাকী রইলো না এটা সম্রাট অশোকের স্তম্ভ! ফিরোজ শাহ তুঘলক ১৩৫৬ সালে স্তম্ভটিকে পাঞ্জাবের আম্বালা থেকে আনিয়ে কোটলাতে পুনর্স্থাপনা করেন। এই স্তম্ভের উৎকীর্ণ লিপি থেকে জেমস প্রিন্সেপ ১৮৩৭ সালে ব্রাহ্মী লিপির পাঠোদ্ধার করেন।

৩. ডানদিকে বেশ ভাংগা বিল্ডিং। আবার, সিঁড়ি দিয়ে উপরে উঠতে হয়। আমি নীচ তলায় দেখতে গিয়ে লক্ষ্য করলাম, সেখানে ওযুখানার মতো লাগছে। নীচতলায় ধংস হওয়া বিল্ডিং এর অংশ বিশেষ দেখে, সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠলাম। একটা দরজা দিয়ে ভেতর ঢুকে দেখলাম পুরো উন্মুক্ত ভাংগা ছাদ। তবে সেখানে যাবার আগে সবাই জুতা খুলে প্রবেশ করছে। কয়েকজন মহিলাকে সেখানে যেতে দেখলাম। মনে হল উপরের অংশে কেউ বসবাস করছে। 

আমি যখন প্রথমবার দেখি, তখন বুঝে উঠতে পারিনি এটা জামি মসজিদ হতে পারে। কিছুক্ষণ পরে লক্ষ্য করলাম যে, কিছু মুসলিম নামাজ আদায় করছিলেন। মহিলাদের জন্য ছিল আলাদা জামাতের ব্যবস্থা। নামাজরত অবস্থায় না দেখলে বোঝা মুস্কিল ছিল যে, এটা মসজিদ ছিল! আমি যে দরজা দিয়ে ঢুকলাম, সেটাই ছিল ফিরোজাবাদ কোটলা মসজিদের প্রবেশ দুয়ার।

৪. মসজিদ বলতে আমরা যা বুঝি, মসজিদের তেমন কিছুই ছিল না। ছাদবিহীন মসজিদ শুধু প্রথম সারিতে জায়নামাজ পাতানো। তবে, বোঝা যায় দোতলার ছাদ পুরোটাই মসজিদ ছিল। কিন্তু, বৃষ্টি হলেই এখন দাঁড়ানোর ব্যবস্থা নেই। নীচতলার বিল্ডিং ঠিক থাকলেও, সেখানে কি ছিল সেখানে তা' আজকের প্রেক্ষিতে বোঝা যায় না।  ১৩৯৮ খ্রিষ্টাব্দে দিল্লী আক্রমণকারী তৈমুর লং এই মসজিদে প্রতি শুক্রবার নামাজ পড়তে আসতেন। তিনি মসজিদ দেখে এতটাই মুগ্ধ হয়েছিলেন যে, সমরখন্দে ততকালীন সময়ে একই রকম একটা মসজিদ নির্মাণ করেছিলেন। আমিও এই মসজিদে নামাজ আদায় করেছি।

মসজিদে একটা ইমাম রয়েছেন। তার সাথে কথা হলে তিনি জানালেন, এই মসজিদে এখনো নিয়মিত জুম্মার নামাজ আদায় করা হয়। সকাল ও সন্ধ্যায় কোটলা বন্ধ থাকায় নামাজ আদায় করা সম্ভব না হলেও দর্শনার্থীরা এলে অন্যান্য সময়ের নামাজ জামাতে আদায় করা হয়। এই মসজিদের তৈরি আমল থেকে কখনো নামাজ আদায় বন্ধ হয়নি। প্রশাসন ও দর্শনার্থীরা চাইলে তারাবির নামাজও আদায় করা হয়।  যেকোনো পরিস্থিতিতে এখনো এখানে এক হাজারের বেশি মানুষ একত্রে নামাজ আদায় করতে পারবেন।

৫. এমন এক ঐতিহাসিক মসজিদে কে নামাজ পড়তে না চায়? তবে সাধারণ মানুষের নামাজ পড়তে আসার বাধা হল টিকেট কেটে ভেতরে প্রবেশ করতে হবে।  পর্যটক ছাড়া যারা   নামাজ পড়তে আসেন তারাও নির্ধারিত ৩০ রূপির টিকেট কেটেই আসেন বলে নিশ্চিত হয়েছি। বাইরে আরও মসজিদ রয়েছে। তবুও এই মসজিদে আসার কারণ, সম্ভবত মসজিদটি দিল্লির অন্যতম পুরাতন অথবা, এর মনোস্তাত্ত্বিক মূল্য রয়েছে। আমি আশ্চর্য না হয়ে পারিনি।

এত পুরাতন মসজিদ, যেখানে ছাদ পর্যন্ত নেই! বৃষ্টি বা রোদে মুসল্লিরা বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়ে যাবেন। তবুও এই মসজিদেই নামাজ আদায় করতে আসছেন! মানুষের ভেতরে একটা মিথ নিশ্চয়ই কাজ করে। 

৬. সাধারণ মানুষের বিশ্বাস কোটলার মসজিদে প্রতি বৃহস্পতিবার জ্বীন জাতি নামাজ পড়তে আসে। সেদিন এখানে মানুষের জমায়েত বেশি হয়। তারা মনের বিভিন্ন ইচ্ছাপূরণের জন্য কাগজে চাহিদাপত্র লিখে নিয়ে আসেন। 

তাঁদের বিশ্বাস, এ ভাবেই জেনে নিয়ে অশরীরীরা তাঁদের মনের বাসনা পূর্ণ করবেন। ঘটনার সূত্রপাত ১৯৭৭ সালে। সেই সময় লাড্ডু শাহ নামের একজন সাধু ফিরোজ শাহ কোটলাতে অবস্থান করতে শুরু করেন। তখন হঠাৎই রটে যায়, ফিরোজ শাহ কোটলা নাকি অশরীরীদের আস্তানা। রটনা থেকে কালক্রমে সেটা সাধারণ মানুষের বিশ্বাসে পরিণত হয়।

অনেকেই মনে করেন, এটা মানুষের নিছক ভাবনা। অনেকেই ভাবছেন, জ্বীন জাতিকে ইসলামের ধর্মগ্রন্থ স্বীকৃতি দিয়েছে। সেবাগ্রহীতারা অনেকেই ফলাফল পেয়েছেন বিধায় সন্তুষ্ট হয়ে আবার আসছেন বলেও কেউ কেউ মনে করেন। আমি নিজেও কিছু কাগজ পরিত্যক্ত অবস্থায় দেখেছি, তবে অন্য ভাষায় বিধায় বুঝিনি।

৭. দিল্লি সালতানাতের আমলে ইন্দো-ইসলামিক স্থাপত্যরীতি অনুসরণ করে নির্মিত এই মসজিদে নেই কোন সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা। আসলে মসজিদটি এমন অবস্থায় রয়েছে যে,  তার মেহরাব, মিনার, খিলানের বর্ণনা দেয়া কঠিন। তবে কোটলার ধ্বংসপ্রায় দালানের অংশ বিশেষ দেখে এর স্থাপত্যরীতি সম্পর্কে ধারণা লাভ করা যেতে পারে। বর্তমানে মসজিদের কোন মিনার অবশিষ্ট না থাকলেও ধ্বংসপ্রায় মেহরাব বিদ্যমান। মেঝেতে কোয়ার্টজ পাথরের উপরে চুনের প্রলেপ লক্ষ্য করলাম। এছাড়াও ছাদ না থাকলেও তিনটি ধ্বংসপ্রাপ্ত দেয়াল রয়েছে।

মসজিদ ও কোটলার বিভিন্ন ধ্বংসপ্রায় অংশ দেখে ধারণা করা যেতেই পারে , দিল্লি সালতানাতের তুঘলক স্থাপত্যরীতিতে কোটলা নির্মিত হয়েছে। এর গ্রানাইড পাথর, চুন, সুরকি তুঘলকবাদ ফোর্ট ও হাউস খাসের বিভিন্ন ভবনের ধ্বংসাবশেষের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। মসজিদে ঢোকার সংস্কারহীন প্রধান ফটক এখনো কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে থাকলেও তা' অবহেলিত বোঝা যায়। ফটকটিতে কয়েকটি খিলান ও ধ্বংসপ্রায় গম্বুজ অবশিষ্ট রয়েছে। যা ইসলামি স্থাপত্য চিহ্ন বহন করছে। 

৮.  তুঘলক শাসকদের অধীনে স্থাপত্যবিভাগ ও নির্মাণ বিভাগ আলাদা ছিল। তুঘলক সাম্রাজ্যের তৃতীয় সুলতান ফিরোজ শাহ তুঘলক (শাসনকাল ১৩৫১-১৩৮৮) বহু ইমারত নির্মাণ করেছিলেন। তাঁর সময়ে নির্মিত ইমারতগুলোর স্থাপত্যকলার বৈশিষ্ট্যগুলো ইসলামি স্থাপত্যকলায় দেখা যায় অথবা ইসলামি স্থাপত্যকলার বৈশিষ্ট্য থেকে আলাদাও হতে পারে। এই সময়ে ইন্দো-ইসলামি স্থাপত্যে ভারতীয় স্থাপত্যের কিছু উপাদান যুক্ত হয়। যেমন, উঁচু স্তম্ভমূলের ব্যবহার, ইমারতের কোণা ছাড়াও স্তম্ভ; স্তম্ভের উপরে এবং ছাদে ঢালাইয়ের ব্যবহার।

৯. মসজিদে ঢোকার আগে বামপাশে একটা বড় বাউলি রয়েছে। যার বয়স মসজিদের জন্মের সময়ের বা দূর্গের পত্তনের সময়ের হবে। বাউলিতে পানি উত্তোলন আপাতত বন্ধ রয়েছে, সেখানে সংস্কার কাজ চলমান রয়েছে। সেই সময় বাউলি কোটলার বাসিন্দাদের পানির চাহিদা পূর্ণ করতো। বাউলিতে সাধারণ মানুষের প্রবেশ নিষেধ।  

১০. ফিরোজ শাহ কোটলার আশে পাশে এলাকায় বেশ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রয়েছে। ফিরোজ শাহ কোটলা ক্রিকেট স্টেডিয়াম ( অরুণ জেটলি ক্রিকেট স্টেডিয়াম),  আইটিও, রাজঘাট, পুতুল জাদুঘর, দিল্লি গেট, সুপ্রিম কোর্টসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রয়েছে। দিল্লি মেট্রোতে গেলে দিল্লিগেট মেট্রোস্টেশনের কাছেই কোটলার গেট।

কোটলা মসজিদের ছাদ পুনরায় নির্মাণ করে দিলে যেমন ইসলামি ঐতিহ্য সমুন্নত থাকতো, তেমনি মুসলিম সম্রদায়ের মানুষ নামাজ আদায় করতে পারতেন। একটা পুরাকীর্তি নতুনভাবে দর্শনার্থীরা দেখার সুযোগ পেতেন।

ভারতীয় উপমহাদেশে সাড়ে ছয়শত বছরের বেশি সময় ধরে নিয়মিত নামাজ আদায় করা হচ্ছে খুবই কম মসজিদে। ফিরোজ শাহ কোটলাতে অযত্নের প্রচ্ছন্ন ছাপ লক্ষ্যণীয়। মসজিদটি রক্ষণাবেক্ষণে আরকিওলজিকাল সার্ভে অব দিল্লির আরও সচেতন হওয়ার দরকার। 

লেখক: ব্যাংকার ও গল্পকার।

নীল আঁচল যখন বিছিয়ে দেয় মেঘ..

নীল আঁচল যখন বিছিয়ে দেয় মেঘ..

Image

নীল আঁচল যখন বিছিয়ে দেয় মেঘ, তখন নাম হয় নীলাচল। মেঘের রঙ হয়ে গেছে নীল, আকাশও নীল। একটা রেস্টুরেন্ট থেকে নীল আমার চোখে পড়েছে। বান্দরবান শহরকে নীল আঁচল দিয়ে বিছিয়ে নিয়েছে প্রকৃতি।
 

আঁচল নীল