সব
224 বার পড়া হয়েছে উপ্যাস

সেই মেয়েটি

পি আর প্ল্যাসিড

করোনা মুক্ত প্রভাত -সেই মেয়েটি

শীতের রাত। 
               মার্টিন ঢাকা থেকে প্রাইভেটকার ভাড়া করে দিনের আলো থাকতেই রওনা দেয় টাঙ্গাইল মধুপুরের উদ্দেশ্যে। গাজীপুর পর্যন্ত আসতেই তার অনেক সময় কেটে যায়। এদিকে মনি অপেক্ষা করছে কখন আসবে মার্টিন। বহু বছর পর তাদের দেখা হবে। মনের ভিতর গলাকাটা মুরগীর মত দাপড়াচ্ছে তার ইচ্ছেটা। একটু পরপর ফোন দেয় মনি মার্টিনকে। 

মার্টিন যখন দেশে আসার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। হঠাৎ একদিন মনি ফেইসবুকে মার্টিনকে নক করে। ইনবক্সে একটা প্রশ্ন করেছিলো, আমি এক মার্টিনকে চিনি। আপনি সেই মার্টিন কিনা? যেহেতু মনি ম্রং নামটা দেখেই সে বুঝতে পারে গারো হবে মেয়েটি। তবে মনি ম্রং এর আরো একটি নাম ছিল। সেই নামেই মার্টিনের মনে গেঁথে রয়েছে। যে কারণে প্রথম দেখার পর বেশ কিছু সময় ভেবেছে কে হতে পারে এই মনি ম্রং। তারপর সে পাল্টা প্রশ্ন লিখে, আমি একজনকে চিনতাম তুমি সেই মনি কিনা? ওর ডাক নাম ছিল ম্যানি।

মার্টিন বহু বছর পর দেশে যায় তার মাকে দেখতে। বাবা কিছুদিন আগে মারা গেলে দেশে গ্রামের বাড়িতে বৃদ্ধা মা একা থাকেন। মার্টিন চাইলেও মায়ের জন্য তেমন কিছু করতে পারে না। সে থাকে দেশের বাইরে। বেশী হলে মায়ের দেখভাল করতে মাস শেষে টাকা দিয়ে সাহায্য করতে পারে। কিন্তু বাংলাদেশে এখন টাকা দিলেই সব কিছু সম্ভব হয় না। সে চায় মায়ের দেখা শোনা করতে একজন মহিলা বাড়িতে মায়ের সাথে দিন-রাত থাকুক। মাঝে মধ্যে হয়তো এলাকারই গরীব কোনো পরিবার এগিয়ে আসে তার মায়ের দেখা শোনা করতে কিন্তু বেশীদিন থাকে না। এর কারণ বহুবিধ। 
  

মার্টিনের মায়ের বয়স নব্বই ছাড়িয়েছে। মেজাজ আগের থেকে বয়সের কারণেই কিছুটা খিটখিটে ধরনের হয়ে গেছে। আগে বেশ ভালোই ছিল। মার্টিনের বাবা মারা যাবার পর একদিকে শোক অন্যদিকে এতবড় বাড়িতে একা থাকায় অনেকটা একাকিত্ব এবং কিছুদিন আগে পরপর কয়েকবার স্ট্রোক করেছিল যে কারণে মেজাজ খিটখিটে হয়ে যায়।

যারাই বাড়িতে কাজ করতে আসে তারা কেউই কিছুদিন কাজ করার পর থাকেত চায় না। টাকা প্রয়োজন আছে সবারই। টাকার বিনিময়ে থাকবে কাজ করবে এখানে খাবে স্বাধীন ভাবে, মাস শেষে টাকা পাবে মনে করে রাজী হয় কাজটি সহজ মনে করে।

কিন্তু কিছুদিন যেতে না যেতে বুঝতে পারে অন্য কোনো সমস্যা না হলেও বুড়ো মানুষের মন জয় করে চলা তাদের জন্য অত সহজ না। বলতে গেলে ধারনার চেয়েও কঠিন। তাই কেউ হয়তো বলে বিদায় নিয়ে চলে যায় আবার কেউ হয়তো কাউকে কিছু না বলে চলে যায় পালিয়ে। তখনই মার্টিনের মা মার্টিন কখনো ফোন করলে তার কাছে কান্না কাটি করে অভিযোগ করতে শুরু করে।

দেশে আসার আগে মনির সাথে মার্টিন বিষয়টি আলোচনা করেছিল। মনি সব শুনে বলেছিল, সে তার মায়ের জন্য কাউকে বলে রাখবে। সে দেশে এসে তাদের এলাকায় গেলে হয়তো গরীব বা অসচ্ছল কোনো মহিলার খোঁজ করে রাখবে, এরপর চাইলে নিজে কথা বলে সে নিয়ে আসতে পারবে। এ জন্যই মনিদের এলাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়া। 

এর আগে মার্টিন গারো এলাকায় অনেক এসেছে। তাদের বাড়িতেও ছোটবেলা থেকে গারো পুরুষ-মহিলাদের কাজ করতে দেখেছে তাই তার ধারণা ছিল মনিকে বললে পর হয়তো একটা ব্যবস্থা হয়ে যাবে। তাই মনিকে সে বলেছিল।

মনির সাথে মার্টিনের পরিচয় ১৯৮০ সালে। সে বছর মার্টিন সবে এস এস সি পরীক্ষা দিয়েছে। বনানী মেজর সেমিনারিতে ছেলে মেয়েদের জন্য সঙ্গীত শিক্ষার কোর্স করা হয়। সেখানে মার্টিন অংশ নিয়েছিল। মনিও অংশ নিয়েছিল একই প্রোগ্রামে। পুরো একমাস সময় এক দেয়ালের ভিতর দিন রাত চব্বিশ ঘন্টা সময় কাটিয়েছে ওরা। কত মধ্য রাত পর্যন্ত তারা মাঠে সবুজ ঘাসের উপর পাশাপাশি বসে সময় কাটিয়েছে। মার্টিন মনিকে খুব পছন্দ করতো। কিন্তু কখনো মুখ খুলে বলেনি তার এই ভালো লাগার কথা।

মার্টিন ইনিয়ে বিনিয়ে মনিকে বলতে চেয়েছিল তাকে তার পছন্দ কিন্তু মনি বারবার বলতে থাকে তার এক সম্পর্কের কথা। যেদিন ওরা আলাদা হয়েছিল সেদিন মার্টিন মনিদের সামনে অনেক সময় দাঁড়িয়ে থেকেছে। মনি বারবার বলছিল তাকে তার কোন আত্মীয় নিয়ে যেতে আসবে। এথেকে আর বলার ইচ্ছে হয়নি মার্টিনের। 

মার্টিন যখন দেশে আসার প্রস্তুতি নিচ্ছিল তখন একদিন মনি ফেইসবুকে মার্টিনকে নক করে। ইনবক্সে একটা প্রশ্ন করেছিলো, আমি এক মার্টিনকে চিনি। আপনি সেই মার্টিন কিনা? যেহেতু মনি ম্রং নামটা দেখেই সে বুঝতে পারে গারো হবে মেয়েটি। তবে মনি ম্রং এর আরো একটি নাম ছিল। সেই নামেই মার্টিনের মনে গেঁথে রয়েছে। যে কারণে প্রথম দেখার পর বেশ কিছু সময় ভেবেছে কে হতে পারে এই মনি ম্রং। তারপর সে পাল্টা প্রশ্ন লিখে, আমি একজনকে চিনতাম তুমি কি সেই মনি কিনা? ওর ডাক নাম ছিল ম্যানি।

যখন হ্যাঁ সূচক উত্তর দেয় তখনই ম্যাছেঞ্জারে কল দেয় মার্টিন। কল করে বলে কতকাল খুঁজেছি তোমাকে। আজ কিভাবে তোমাকে পেয়ে গেলাম। আছো কোথায়, কি করছো, আরো কত কি? প্রশ্ন বাণে ভাসিয়ে দেয় মনিকে এবং সে জানিয়ে দেয় শীঘ্রই সে যে দেশে যাবে। দেশে গিয়ে তার সাথে দেখা করবে। 

মার্টিনের মনে একটা বিষয়ই কাজ করেছে, সে তার মনিকে পেয়েছে এতকাল পর। মনের ভিতর আনন্দ আর আনন্দ। তার ভিতর সেই বনানীতে দেখা মনি এখনো যেনো তেমনই আছে। সংক্ষেপে জানতে চায় সে, কোথায় কি করছে? মনি প্রথম বলতে চায়নি।

কৌশলে মার্টিন জেনে নেয় মনি এখন যে তার স্বামীর সাথে সংসার করছে না। সন্তান সবাই বেশ বড় হয়েছে। তাদের বিয়ে দিয়ে সে এখন একা। ছোট একটা চাকরী করতো তা এখন করছে না। বাড়িতে একাই থাকে। নাতিদের নিয়ে তার সময় কেটে যাচ্ছে বেশ ।

দেশে যাবার প্রস্তুতি নিয়ে ব্যস্ত তাই বেশী লম্বা করেনি তাদের কথা। দিন তারিখ জানিয়ে বলে, এই সময়ের মধ্য কোনো একদিন সে ফোন করে চলে আসবে। এরপর সত্যি সত্যি দেশে গিয়ে একদিন ফোন দেয় মার্টিন মনিকে। মনি মনে মনে খুব খুশী। ফোন দিলে সে তার ঠিকানা বলে। ঠিকানা বলতে শুধু বলেছে মধুপুর আসার আগে ময়মনসিংহ শহরে পৌছার পর যেনো তাকে ফোন দেওয়া হয়। ।

ময়মনসিংহ পৌছে ফোন দেয় মনিকে। ফোন দিলে বলে তুমি এক কাজ করো, ওখান থেকে পঁচিশ মাইল বাজারে এসে আমাকে ফোন দিও। ফোন দিলে তোমাকে রিসিভ করতে যাবো। 

পঁচিশ মাইল নাম শুনে মার্টিন প্রশ্ন করে, আরে! পঁচিশ মাইল আমি চিনি তো। ওখানে আমি গিয়েছি বেশ কয়েকবার। ওখানেই কি বাড়ি তোমার? 

আমার বাড়ি পঁচিশ মাইল বাজারের একদম সাথেই।

ততক্ষণে চারিদিক অন্ধকার। গাড়ির চালক রাস্তা ঠিক চিনতে পারে না। জায়গায় জায়গায় গাড়ি থামিয়ে মানুষের কাছে জিজ্ঞেস করে পথ চলে।

একসময় এক ভাঙ্গা রাস্তা পেরিয়ে নীরব নীথর পথ দিয়ে গাড়ি চলার সময় গ্রামের দু'চারজন মানুষকে রাস্তার ধার দিয়ে চলতে দেখে মার্টিন চালককে প্রশ্ন করে, ভাই এই এলাকায় ডাকাতি টাকাতি হয় কি না? আমার কিন্তু ভয় হচ্ছে খুব। 

এক সময়  এই এলাকায় দিনের বেলাতেও মানুষ হাঁটতে ভয় পেত। এখন আর সেই দিন নেই। দেশের সরকার চুরি ডাকাতি সব বন্ধ করেছে। দেশের মানুষ আগের থেকে এটুকু অন্তত শান্তিতে আছে। বলতে বলতে সামনে দেখে কয়কজন পুলিশের লোক রাস্তায় টহল দিচ্ছে। চালক বলে, আপনার লোকদের কল দিয়ে বলেন, আমরা চলে এসেছি প্রায়। তারা যেনো বাজারে এসে দাঁড়ায়।

মার্টিন বলে ভিন্ন কথা। চালকের কথায় মার্টিন মনিকে ফোন না দিয়ে বলে, দেশে শুনেছি রাস্তায় এই টহল দেওয়া পুলিশ গুলোই নাকি ডাকাতির সাথে জড়িত বেশী। এই দেশে তো যা শুনি, রক্ষক পুলিশই বড় ভক্ষক। 

গাড়ি এসে পঁচিশ মাইল বাজারে এসে থামে। গাড়িতে বসেই ফোন দেয় মনিকে। মনি বলে তোমরা পাশে দেখ একটা হোটেল আছে, ওখানে বসো। আমি কয়েক মিনিটের মধ্যেই আসছি।
---------------
(চলবে)

করোনায় ১৫ দেশে ৪০৬ বাংলাদেশির মৃত্যু

রেজাউল হত্যায় তিন বন্ধুর কারাদন্ড

মোটর সাইকেল হাতিয়ে নিতে  রেজাউল ইসলাম নামে এক সহকর্মীকে বালিয়াডাঙ্গীতে ডেকে এনে  গলায় রশি পেচিয়ে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা ও আগুনে পুড়িয়ে লাশ গোপনের চ ...

করোনায় ১৫ দেশে ৪০৬ বাংলাদেশির মৃত্যু

উল্লাপাড়ায় চাঞ্চল্যকর তানিয়ার আত্মহত্যার প্ররোচক প্রেমিক গ্রেপ্তার

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় চাঞ্চল্যকর তানিয়া আত্মহত্যা প্ররোচনাকারী প্রেমিক খোশ মামুন সুমনকে (২৫) গ্রেফতার করেছে উল্লাপাড়া মডেল থানা পুলিশ। বৃহস্পতিব ...

করোনায় ১৫ দেশে ৪০৬ বাংলাদেশির মৃত্যু

হাতিয়ায় কলেজ ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা

গভীর রাতে ঘরে ঢুকে কলেজ ছাত্রীকে (১৮) ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে থানায় মামলা হয়েছে। ভুক্তভোগী কলেজ ছাত্রী বাদী হয়ে প্রেমলাল দাস (৩০)কে আসামী করে বৃহস্পতি ...

করোনায় ১৫ দেশে ৪০৬ বাংলাদেশির মৃত্যু

সাপাহার থানার নতুন ওসি তারেকুর রহমান

নওগাঁয়ের মান্দা থানার ওসি তদন্ত তারেকুর রহমান সরকারকে অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হিসাবে একই জেলার সাপাহার থানায় পদায়ন করা হয়েছে। চলতি মাসের গত ২৭ তারিখে ত ...

করোনায় ১৫ দেশে ৪০৬ বাংলাদেশির মৃত্যু

স্বাধীনতা পুরস্কার পেলেন যারা

এ বছরও প্রদান করা হলো স্বাধীনতা পুরস্কার। এবার বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের জন্য আট বিশিষ্ট ব্যক্তি ও এক প্রতিষ্ঠানকে এ পুরস্কারে ভূষিত করা হলো। 

ব ...

করোনায় ১৫ দেশে ৪০৬ বাংলাদেশির মৃত্যু

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ১৪ নভেম্বর পর্যন্ত ছুটি বাড়লো

আগামী ১৪ নভেম্বর পর্যন্ত সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার করোনাভাইরাসের সংক্রমণ এড়াতে। বৃহস্পতিবার এক ভার্চুয়াল সংবাদ ...

করোনায় ১৫ দেশে ৪০৬ বাংলাদেশির মৃত্যু

সিইসির সঙ্গে বিএনপির বৈঠক ঢাকা-১৮ ও সিরাজগঞ্জ-১ নিয়ে

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সঙ্গে বৈঠক করেছে বিএনপির প্রতিনিধি দল ঢাকা-১৮ ও সিরাজগঞ্জ-১ আসনে উপ-নির্বাচনে বিভিন্ন অনিয়ম তুলে ধরে। বৈঠক শেষে প্রতিনিধি দলের ...

করোনায় ১৫ দেশে ৪০৬ বাংলাদেশির মৃত্যু

মহানবীর অনুসারীদের অপমান করেছে ফ্রান্স: খোমেনি

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ খোমেনি বলেছেন হযরত মোহাম্মদ (স.)-এর ব্যাঙ্গচিত্র প্রকাশ করে ফ্রান্স মহানবীর অনুসারীদের অপমান করেছে। বার্তায় ...

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন