মহামারী করোনা
৭ কোটি ভ্যাকসিন পাবে বাংলাদেশ, প্রতি ডোজের দাম ১৩৮-১৭০ টাকা দেশে করোনায় আরো ৩৯জনের মৃত্যু আগামী ছয়মাসেও দ্বিতীয় সংক্রমণের আশঙ্কা নেই দেশে করোনার সংক্রমন ফের বাড়ছে ফাইজারের টিকা করোনা প্রতিরোধে ৯৫ শতাংশ কার্যকরের দাবি করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবেলায় প্রস্তুত আছি: প্রধানমন্ত্রী
মোঃ আবুল বাশার
প্রকাশ : ২/১১/২০২০ ১২:২১:১০ PM

লোকসান এড়াতে ফুলকপি চাষ, বদলে যাচ্ছে ঠাকুরগাঁওয়ের কৃষকের ভাগ্য!

ধান চাষ করে বরাবরই লোকসান গুনতে হয়েছে। সেই লোকসান এড়াতে এবার শীতকালিন সবাজি ফুলকপি চাষ করেছেন কৃষক।

ধান চাষ করে বরাবরই লোকসান গুনতে হয়েছে। সেই লোকসান এড়াতে এবার শীতকালিন সবাজি ফুলকপি চাষ করেছেন কৃষক। এক্ষেত্রে অবশ্য উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শে ও সহায়তাও ছিল। তাদের সহযোগিতাতেই কৃষকরা আগাম জাতের এই ফুলকপি চাষ করেছেন। এখন ফুলকপির ভালো দামও পাচ্ছেন।

ঠাকুরগাঁও বিমানঘাঁটি এলাকার কৃষক জাকির হোসেন মুক্ত প্রভাতকে জানান, ধান-গম চাষ করে আমরা খুব একটা লাভবান হতে পারেন নি তিনি। বরাবরই ধান চাষ করে লোকসান গুনতে হয়। তাই ফুলকপি চাষ করেছেন তিনি। 

তিনি জানালেন- শীতকালে ফুলকপির ভরা মৌসুমে দাম একটু কম হয়। তবে অন্য সময়ে বেশ ভালো দাম পাওয়া যায়। তাই তারা বছরজুড়েই ফুলকপি চাষ করছেন। এছর তিনি নিজস্ব দুই বিঘা জমিতে আগাম লিডার জাতের ফুলকপির চাষ করেছেন। বিঘায় প্রায় ৬ হাজারের মতো গাছ রয়েছে। খরচ হয়েছে বিঘাপ্রতি ৮-১০ হাজার টাকা। বাজারে এখন যে দাম রয়েছে তাতে আমি বিঘাপ্রতি ৬০-৭০ হাজার টাকা পাবেন তারা।

কৃষক আসাদুল হক বললেন, অন্য ফসলের তুলনায় ফুলকপি চাষ অধিক লাভজনক। তিনি দেড় বিঘা জমিতে আগাম ফুলকপি চাষ করেছেন। জমি থেকেই পাইকারী ক্রেতারা ৩০-৩৫ টাকা কেজি করে ফুলকপি কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। প্রায় এক বিঘা জমিতে ৬০-৭০ হাজার টাকা লাভ হচ্ছে।

সিদ্দিক আলী নামের আরেক কৃষক মুক্ত প্রভাতকে জানান- বিগত সময়ে দেখা যেত শীতকালে জমিতে ফুলকপির চাষ হতো। সে সময় ভালো দাম পাওয়া যেতো না। কৃষি অফিসের পরামর্শে আমরা এখন সারা বছর ফুলকপির চাষ করি।

তিনি আরও জানান, এখানকার ফুলকপি ঢাকা,  চট্টগ্রাম, ও সিলেটে রপ্তানি করি। এছাড়া স্থানীয় হাট-বাজার ও ঠাকুরগাঁও শহরেও বিক্রি করি। ধান, গম, ভুট্টা, আলু, পেঁয়াজের তুলনায় অধিক লাভ এই আগাম ফুলকপিতে। তাই এই ঠাকুরগাঁও অঞ্চলের মানুষ এখন ফুলকপি চাষে ঝুঁকছে।

তবে কৃষি বিপণন কেন্দ্রের মাধ্যমে আমরা ন্যায্য মূল্যে ফসলাদি বিক্রি করতে পাোয় কৃষকরা বেশ খুশি।সমবায় ভিত্তিকভাবেও ফুলকপিসহ অনান্য সবজি চাষাবাদ করে অন্য জেলায় বিক্রি করা যাচ্ছে। এতে সবজির ন্যায্য মূল্য পেয়ে লাভবান হচ্ছেন কৃষক।  

উপজেলা কৃষি অফিস থেকে জানাগেছে- এই অঞ্চলের আবহাওয়া ও মাটি সবজি চাষের জন্য খুবই উপযোগী। এছাড়া কৃষি বিভাগের পরামর্শে এই অঞ্চলের মানুষ আধুনিক চাষের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়েছেন। চাষিরা আগাম জাতের ফুলকপি চাষ করে বেশ লাভবান হচ্ছেন। ফলে তারা ফুলকপি চাষের দিকে ঝুঁকছেন। সাধারণত শীতকালেই আগাম, মধ্যম ও নাবী মৌসুমে বিভিন্ন জাতের ফুলকপি আবাদ করা যায়। এছাড়া গ্রীষ্মকালেও চাষের উপযোগী জাত রয়েছে।

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার  মনোয়ার হোসেন মুক্ত প্রভাতকে জানান, এ বছর ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলায় মোট ২৮১ হেক্টর জমিতে ফুলকপি আবাদ করা হয়েছে। জেলায় মোট ফুলকপির লক্ষমাত্রা ধরা হয়েছে ৪৫০০ মেট্রিকটন। ফলন ভালো হয়েছে। দামও ভালো পাচ্ছেন কৃষকরা। কৃষকদের জন্য তাদের এই পরামর্শ অব্যহত থাকবে।



সপ্তাহের সর্বাধিক পঠিত খবর সমূহ
অন্যান্য খবর