মহামারী করোনা
করোনায় আজ ৬৩ মৃত্যু, শনাক্তেও রেকর্ড অক্সফোর্ডের টিকার শিশুদের ওপর ট্রায়াল স্থগিত অক্সফোর্ডের টিকার শিশুদের ওপর ট্রায়াল স্থগিত এবার ভারতে একদিনে করোনা সংক্রমন ছাড়ালো ১লাখের বেশি দেশজুড়ে লকডাউন চলছে করোনা টিকার ২০ লাখ ডোজ আসছে আজ
আব্দুল বারী, নাটোর প্রতিনিধি
প্রকাশ : ৪/৩/২০২১ ৯:২১:৪২ AM

প্রাণ এগ্রোতে ভাগ্য বদলেছে নাটোরের আমেনা বিবিদের!

পরিশ্রম, নিষ্ঠা আর সততাকে পুঁজি করে কাজ শুরু করেছিলেন প্রাণ অ্যাগ্রো-ফ্যাক্টরিতে। নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে আজ স্বাবলম্বী নারী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছেন।

আমেনা বিবি। পরিবারের দারিদ্রতা ও অসচ্ছলতা দূর করতে নাটোরের প্রাণ অ্যাগ্রো ফ্যাক্টরিতে শ্রমিক হিসেবে কাজ শুরু করেন। দীর্ঘ ১৫ বছর সেখানে কাজ করে এখন তিনি এখন স্বাবলম্বী।

কঠোর পরিশ্রম আর দীর্ঘ ধৈর্য ও একাগ্রতায় আজ তিনি জীবনযাপনে সফল হয়েছেন। তিনি মনে করেন, এই প্রতিষ্ঠান আজ তাকে অদম্য একজন নারী হিসেবে দাঁড় করিয়েছে সমাজে।

আমেনা বিবি নাটোর সদর উপজেলার চানপুর গ্রামের বাসিন্দা। এক সময় সংসারে প্রচুর অভাব ছিল। স্বামীর আয়ে সংসার ঠিকমতো চলত না। দুই ছেলেমেয়ে নিয়ে কষ্টে কেটেছে দিন। কোনো দিন এক বেলা খেয়ে না খেয়ে কেটে গেছে। তবুও হাল ছাড়েননি তিনি।

 

https://i.ibb.co/hR7W2rw/Untitled-2-copy.jpg

 

পরিশ্রম, নিষ্ঠা আর সততাকে আশ্রয় করে কাজ শুরু করেছিলেন প্রাণ অ্যাগ্রো-ফ্যাক্টরিতে। নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে ও নানা প্রতিকূলতাকে জয় করে আজ স্বাবলম্বী নারী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছেন।

আমার সংবাদ কে দীর্ঘ পথচলার কথা জানান আমেনা বিবি। তিনি বলেন, কোম্পানিটা এখানে প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় আমরা খুব লাভবান হয়েছি, আমাদের উন্নতি হয়েছে। আগে আমরা ছেলেমেয়েকে নিয়ে ভাত-কাপড়ের জন্য অনেক কষ্ট করেছি।

এখন কোম্পানিটি আসায় আল্লাহর রহমতে ছেলেমেয়েকে লেখাপড়া করাতে পারছি। সুখে জীবনযাপন করতে পারছি। আমরা কিছু টাকা ক্যাশও করতে পারছি। ওই ক্যাশ দিয়ে পাঁচ কাঠা জমি কিনেছি, বাড়ি করেছি। এর আগে অনেক কষ্ট করেছি, কিছুই করতে পারিনি। এখন খুব ভালো আছি।

 

https://i.ibb.co/KsDyYxL/5565.jpg

 

জানা যায়, দেশের উত্তরাঞ্চলে সবচেয়ে বেশি কৃষিজাত পণ্য উৎপাদিত হয়। সে জন্য প্রাণ কোম্পানি নাটোরে অ্যাগ্রো ফ্যাক্টরি স্থাপন করেছে। কৃষিভিত্তিক পণ্য উৎপাদন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে দারিদ্র বিমোচনে সহায়তার লক্ষ্যেই তারা ২০০১ সালে নাটোরের একডালায় স্থাপন করে প্রাণ অ্যাগ্রো ফ্যাক্টরি। সারাদেশে প্রায় আট হাজার মানুষ প্রাণ কোম্পানিতে কাজ করেন।

আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসহ ১২৫ বিঘা আয়তনের প্রাণ কারখানায় জ্যাম-জেলি, মসলা, সস, আচার, চাটনি, নুডলস, সরিষার তেল, চাল, বাদাম, ডাল, দুধ ও লাচ্চাসহ বিভিন্ন পণ্য উৎপাদনের জন্য এখানে প্রোডাকশন লাইন চালু রয়েছে। এছাড়া আম ও টমেটো মৌসুমে সেগুলো সংগ্রহ করে এ ফ্যাক্টরিতে পাল্প তৈরি করা হয়।

বছরজুড়ে প্রাণ অ্যাগ্রো কারখানায় প্রায় সাত হাজার লোক নিয়োজিত থাকেন এসব পণ্য উৎপাদন কাজে। এ ছাড়া আম ও টমেটোর মৌসুমে আরও প্রায় দুই হাজার লোকের বাড়তি কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়। কর্মরত এসব শ্রমিকের অধিকাংশই নারী। ফলে সামাজিকভাবে তারা যেমন প্রতিষ্ঠিত হচ্ছেন, পরিবারেও আসছে সচ্ছলতা। নারী কর্মীদের অধিকাংশই নাটোর ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকায় বসবাস করেন।

 

https://i.ibb.co/6r4SHqS/Untitled-4-copy.jpg

 

এ বিষয়ে একডালা এলাকার স্বাবলম্বী নারী মলিদা বেগম বলেন, আমি ১০ বছর ধরে প্রাণ কোম্পানিতে কাজ করি। এখানে কাজ করে জীবনে ভালোই উন্নতি করেছি। ঘরবাড়ি করেছি, মেয়েকে লেখাপড়া শেখাচ্ছি আরও অনেক কিছু করেছি। কোম্পানিটি আরও উন্নতি হোক ও বড় হোক। আরও মানুষের কর্মস্থান হোক। কোম্পানির উন্নতি হলে আমাদের ও এলাকার উন্নতি হবে।

এ বিষয়ে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও নাটোর-২ আসনের সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম শিমুল বলেন, নাটোরে প্রাণ কোম্পানি প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এলাকার অনেক মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে।

এই এলাকার স্বল্পশিক্ষিত মানুষগুলো কর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়েছে। এ ধরনের শিল্প-কলকারখানা যদি আরও স্থাপিত হয় তাহলে নাটোরের বেকার সমস্যার সমাধান হবে এবং সব মানুষ কর্মমুখী হবে। নাটোরকে বদলে দিয়েছে প্রাণ অ্যাগ্রো লিমিটেড। এ ধরনের প্রতিষ্ঠান আরও বেশি গড়ে উঠুক-এই প্রত্যাশা করি।



সপ্তাহের সর্বাধিক পঠিত খবর সমূহ
অন্যান্য খবর