• |
×
উল্লাপাড়ায় নদীতে ডুবে দুই ভাইয়ের মৃত্যু ইউক্রেনের সেনার আত্মসমর্পণের সংবাদ সুগন্ধার আনাচে কানাচে স্বজনদের খুঁজছেন ৩৬ পরিবার ভ্রমণের আনন্দে বিষাদ! স্বামী ও সন্তানকে জিম্মি করে গৃহবধূকে দলবদ্ধ ধর্ষণ ৬ শতাধিক রোহিঙ্গা সপ্তম দফায় আজ ভাসানচরে যাচ্ছে করোনা সংক্রমণ ঊর্ধ্বমুখী, বেড়েছে মৃত্যু
এবিএস ফরহাদ
প্রকাশ : 6/29/2021, 12:02:29 AM

বিভ্রান্তিকর তথ্য সরবরাহ: কুবি শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) ২০১৯-২০২০ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক প্রথম বর্ষের 'বি' ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে গণমাধ্যমে বিভ্রান্তিমূলক তথ্য সরবারহ করারর অভিযোগে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মাহবুল হক ভূঁইয়া বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থার নির্দেশ দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট। গত রবিবার (২৭ জুন) সন্ধ্যায় সাড়ে ৭টায় অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেটের ৮০তম সভায় এ নির্দেশ দেওয়া হয়। 

রেজিস্ট্রার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ না নিয়ে ১২তম হয়েছেন বলে বিভ্রান্তিকর সংবাদ সরবরাহ করেন প্রবেশপত্র বাচাই কমিটির সদস্য ও গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক মাহবুল হক ভূঁইয়া।

বিষয়টি প্রবেশপত্র বাচাই কমিটি থেকে লিগ হয়েছে। যা আচরণবিধি লঙ্ঘন। পরীক্ষার কাজ চলাকালীন সময়ে কেউ বাইরে ফোন করতে পারেন না।

এ ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি গত সিন্ডিকেটের আগে প্রতিবেদন জমা দেন। তদন্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮০তম সিন্ডিকেট সভায় ওই শিক্ষকের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়। তাই তার বিরোদ্ধে আচরণ ও শৃঙ্খলাবিধি-২০১৮ অনুসারে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। 

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০১৯ সালের ৮ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৯-২০২০ শিক্ষাবর্ষে বি ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ১২ নভেম্বর এ পরীক্ষার ফল প্রকাশ হয়। এরপর ২৯ নভেম্বর বিভিন্ন গণমাধ্যমে 'কুবিতে পরীক্ষা না দিয়ে মেধা তালিকায় ১২ তম' শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ হয়।

এমন সংবাদের প্রেক্ষিতে ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতির শঙ্কা সৃষ্টি হলে ৩০ নভেম্বর বি ইউনিটের ভর্তি কার্যক্রম স্থগিত করে একটি তদন্ত কমিটি করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সৈয়দুর রহমানকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

এরপর একই বছরের ৩ ডিসেম্বর তদন্ত কমিটি সংবাদ সম্মেলন করে জানায় জালিয়াতি নয় বরং অন্য এক শিক্ষার্থী ভুল রোল নাম্বার ভরাট করায় পরীক্ষায় অংশ না নিয়েও ঐ শিক্ষার্থী মেধাতালিকায় ১২ তম হয়। একই সময়ে অভিযোগ উঠে সংশ্লিষ্ট ইউনিটের ভর্তি কার্যক্রমের সাথে সংশ্লিষ্ট কোন এক সদস্য  বিভ্রান্তি ছড়াতে ইচ্ছাকৃতভাবে এ তথ্য সরবারহ করে। 

এ ঘটনায় একই বছরের ৫ ডিসেম্বর উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে গণমাধ্যমে মিথ্যা তথ্য সরবরাহ করে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি বিনষ্টকারী ব্যক্তি বা গোষ্ঠির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে তৎকালীন শিক্ষক সমিতি মানববন্ধন করে। 

পরবর্তীতে বিভ্রান্তিকর তথ্য সরবরাহের ঘটনা তদন্তে সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মোঃ আসাদুজ্জামানকে আহ্বায়ক করে চার সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত শেষে গত বছরের মার্চের দিকে প্রতিবেদন জমা দেন কমিটি। 

এবিষয়ে জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারারের মুঠেফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, গোয়েন্দা সংস্থাসহ সকলের সহযোগিতায় উচ্চতর তদন্ত হয়েছে। কমিটির সকলে এ বিষয়ে একমত ও এটি প্রমাণিত যে মাহবুবুল হক ভূঁইয়া তিনি ওই তথ্য সরবরাহ করেছেন এবং তিনিই এর জন্য দায়ী।

বিভ্রান্তিকর তথ্য সরবরাহ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের মান ক্ষুন্ন করেছেন জানিয়ে নাম প্রকাশ অনিচ্ছুক বিশ্ববিদ্যালয়র এক শিক্ষক বলেন, ব্যক্তিস্বার্থের কারণে কাউকে ফাঁসানাের জন্য উদ্দ্যেশ্যপ্রণদিতভাবে বিশ্ববিদ্যালয়র কার্যক্রমকে প্রশবিদ্ধ করতে যদি বিভ্রান্তিমূলক তথ্য সরবরাহ করা হয় সেটার জন্য অবশ্যই শাস্তি হওয়া উচিৎ। বি ইউনিটর বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে উদ্দ্যশ্যপ্রণাদিতভাবে বিশ্ববিদ্যালয়র ভাবমূর্তি ক্ষুন করা হয়েছে।’

এবিষয়ে জানত চাইলে মাহবুল হক ভূঁইয়া বলেন, ‘আমাকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বা সিন্ডিকেট থেকে কিছুই জানানাে হয়নি। তাই এটা নিয়ে আমি মত্তব্য করতে পারবাে না।’

সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমরান কবির চৌধুরী ডেইলি বাংলাদেশ'কে বলেন, "এবিষয়ে এখনি কথা বলার সময় আসেনি। কারণ এটি একটি নির্দিষ্ট প্রসিডিউর অনুসরন করে অর্থাৎ আচরন ও শৃঙ্খলাবিধি-২০১৮ অনুসারে  আগাতে হবে। যেহেতু এটি একটি নিয়মের মধ্যে আছে।

আদালতে গিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তবে অভিযুক্ত শিক্ষককের নাম জানতে চাইলে তিনি তা এড়িয়ে যান।"