মহামারী করোনা
করোনা টিকার ২০ লাখ ডোজ আসছে আজ করোনা টিকার দ্বিতীয় চালান আসবে ২২ ফেব্রুয়ারি করোনার টিকা নিতে আগ্রহী বাংলাদেশের ৬৬ শতাংশ মানুষ দেশে করোনায় সর্বনিম্ন মৃত্যু টিকায় আস্থা রাখলেন ডা. জাফরুল্লাহ ঢাকার যেসব হাসপাতালে আজ থেকে করোনার টিকা প্রয়োগ হবে
মুক্ত ডেস্ক
প্রকাশ : ১০/২/২০২১ ১২:৩০:১৪ PM

টিকায় সফলতার দিকে বাংলাদেশ

দেশজুড়ে করোনার টিকাদান ঘিরে উৎসব বিরাজ করছে। শুরুতে মানুষের মধ্যে টিকা বিষয়ে ভীতি-আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

গত তিনদিনে হেভিওয়েটদের টিকা গ্রহণ এবং সামান্য কয়েকজনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া পরিলক্ষিত হওয়ায় মানুষ অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার কোভিশিল্ড টিকায় আস্থা রাখতে শুরু করেছে।

গত ২৭ জানুয়ারি ৫৪তম দেশ হিসেবে বাংলাদেশে করোনার টিকাদান শুরু হয়েছে। তারপর গত তিনদিন হলো দেশে গণটিকাদান কর্মসূচি চলছে।

ইতোমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী, সাংসদ, প্রধান বিচারপতি, সচিবসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা টিকা গ্রহণ করেছেন। আগামী সাত দিনের মধ্যে দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের টিকা গ্রহণের জন্য প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। বাদ পড়েনি সুশীলসমাজসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষও। এতে করোনার টিকা বিষয়ে বিভ্রান্তি কাটতে শুরু করেছে।

করোনার টিকা বিষয়ে সাধারণ মানুষের আগ্রহ থেকে বোঝা যাচ্ছে, করোনার টিকা প্রয়োগ বিষয়ে সরকারের পরিকল্পনাও সফলভাবে বাস্তবায়িত হবে। কিন্তু দুই সপ্তাহ আগেও পরিস্থিতি ছিলো ভিন্ন।

মানুষ টিকা গ্রহণে চরমভাবে অনাগ্রহ দেখায়। এতেই টিকাদান পরিকল্পনায় আসে বিপত্তি। সরকার চলতি মাসে ৬০ লাখ ডোজ টিকাদানের পরিকল্পনা করে।

টিকা বিষয়ে মানুষের আগ্রহ কম থাকায় সেখান থেকে সরকার সরে আসে। তারপর সংশোধিত পরিকল্পনায় চলতি মাসে ৩৫ লাখ ডোজ করোনার টিকা প্রয়োগের সিদ্ধান্ত হয়।

সেটি বাস্তবায়নকেও চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। আশার দিক হলো গণটিকাদানের তৃতীয় দিনে সারা দেশে লক্ষাধিক মানুষ টিকা গ্রহণ করেছে।

সে হিসেবে সরকারের টিকাদান পরিকল্পনা অনেকটা সফলতার পথে। টিকা বিষয়ে মানুষের আগ্রহ বাড়ায় ধারণা করা হচ্ছে সরকারের পরিকল্পনা ছাপিয়ে যেতে পারে। জনস্বাস্থ্যবিদরা বলছেন, করোনার গণটিকাদানে খেয়াল রাখতে হবে দেশের অসহায় ও খেটে খাওয়া মানুষ যেনো বাদ না পড়ে।

সেই সাথে টিকাদান সংশ্লিষ্টদের অবহেলায় যেনো ভায়াল নষ্ট না হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেছেন, টিকাদান বিষয়ে সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে গভীরভাবে নজরদারি করা হচ্ছে।

গতকাল দুপুরে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. আবদুল মান্নান ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের টিকাদান কেন্দ্র পরিদর্শন করেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, রাজধানীসহ সারা দেশের এক হাজার পাঁচটি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রের দুই হাজার ৪০০ বুথে গতকাল মঙ্গলবার একদিনেই এক লাখ এক হাজার ৮২ জন করোনার টিকা নিয়েছেন।

তার মধ্যে ৭৪ হাজার ৫৮৬ জন পুরুষ আর ২৬ হাজার ৪৯৬ জন নারী। এছাড়াও ৯৪ জনের শরীরে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।

শুধু ঢাকায় ১২ হাজার ৫১৭ জন নিয়েছে করোনার টিকা। এর আগে সোমবার আরও ৪৬ হাজার ৫০৯ জন এবং গণটিকার উদ্বোধনী দিন রোববার ৩১ হাজার ১৬০ জন টিকা নিয়েছেন। এ পর্যন্ত করোনার টিকা গ্রহণ করেছেন এক লাখ ৭৯ হাজার ৩১৮ জন। তার মধ্যে নারীরা টিকা গ্রহণে পিছিয়ে।

সংখ্যার বিচারে এক লাখ ৩৪ হাজার ৭৩৫ জন পুরুষ ও ৪৪ হাজার ৫৮৩ জন নারী করোনা ভাইরাসের টিকা গ্রহণ করেছেন। তার মধ্যে ২০৭ জনের শরীরে মৃদু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে।

এদিকে গণটিকা প্রয়োগের তৃতীয় দিন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় টিকাদান কেন্দ্রে করোনা ভাইরাসের টিকা গ্রহণ করেছেন সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

টিকা গ্রহণ শেষে তিনি উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে সবাইকে টিকা গ্রহণের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘কিছুই তো টের পাইলাম না। নো ফিলিং অ্যাট অল।

আগে যেসব ইনজেকশন নিতাম, সেগুলোতে যেমন যাতনা হতো, তাও হয়নি। আপনারা সকলে ভ্যাকসিন নেন। এটা আপনার এবং আপনার পরিবারের জন্য প্রয়োজন, সমাজের জন্য প্রয়োজন। ৮৭ বছর বয়স আমার, শেষই হয়ে গেছে জীবন। আমি (টিকা) নিচ্ছি।’

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ করতে হলে সবাইকে টিকা গ্রহণ করতে হবে। এজন্য আমি শুরু থেকেই বলেছি প্রধানমন্ত্রীসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের টিকা গ্রহণ করে আস্থা ফেরাতে হবে।

অনেক মন্ত্রীসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা টিকা গ্রহণ করেছেন। এতে মানুষের আস্থা ফিরতে শুরু করেছে বলেই আজ এত মানুষ টিকা নিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীকে আমি আবারো অনুরোধ করবো আপনি নিজে টিকা নিন দেখবেন কেউ টিকা থেকে বাদ পড়বে না।’ তিনি বলেন, ‘টিকা প্রয়োগে সম্মুখযোদ্ধাদের যেমন গুরুত্ব দিতে হবে। তেমনিভাবে সমাজের অসহায় ও পিছিয়ে পড়া মানুষের টিকা প্রাপ্তির নিশ্চয়তা দিতে হবে।’

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম বলেন, ‘করোনার টিকার একটা ভায়ালে ১০ ডোজ টিকা থাকে। একসাথে ১০ জন না হলে সেটি নষ্ট হবে। এ বিষয়টিতে আমরা সতর্ক আছি।

যেকোনো ক্ষেত্রে ১০ শতাংশ ওয়েস্টেজ ধরেই হিসাব করা হয়। যে সমস্ত জায়গায় এটা ঠিকমতো মানা হবে না সেখানে নষ্টের পরিমাণটা বেশি হবে। তবে আমরা হিসাব করে দেখেছি এটা এখনো ১০ শতাংশের মতো হয়নি।’ 

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. আবদুল মান্নান বলেন, ‘টিকা নিয়ে প্রথমদিকে কারো কারো মধ্যে ভয় থাকলেও এখন তা কেটে গেছে। এখন একেবারেই নেই; একটা উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। টিকাদান কেন্দ্রে মানুষের লাইন আছে।

একের পর এক আসছে এবং টিকা দেয়ার কোনো ঝামেলা নেই। অনেকের কাছে জানতে চেয়েছি, সবাই জানিয়েছেন, টিকা নেয়ার পর কোনো অস্বস্তি তারা বোধ করছেন না। সামনের দিনগুলোতে আরও বেশি মানুষ আসবে এবং সামগ্রিক পরিবেশ আরও বেশি উৎসবমুখর হবে।’

তিনি বলেন, ‘অস্থিরতার কোনো কারণ নেই। টিকাদান কেন্দ্রেও রেজিস্ট্রেশন করার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। পর্যাপ্ত টিকা আছে।

টিকার মূল্য যাই হোক, প্রধানমন্ত্রী সবাইকে সুরক্ষা দিতে মানসিক ও আর্থিকভাবে প্রস্তুতি নিয়েছেন। সব মিলিয়ে দেশে টিকা নিয়ে কোনো সংকট হবে না। বিভিন্ন সোর্স থেকে আমরা আরও টিকা পাচ্ছি।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও গ্যাভির নেতৃত্বাধীন প্ল্যাটফর্ম কোভ্যাক্স থেকেও বাংলাদেশ অক্সফোর্ডের টিকা পাবে। এছাড়া ফাইজারের কিছু টিকাও আসবে।’



সপ্তাহের সর্বাধিক পঠিত খবর সমূহ
অন্যান্য খবর