মহামারী করোনা
৭ কোটি ভ্যাকসিন পাবে বাংলাদেশ, প্রতি ডোজের দাম ১৩৮-১৭০ টাকা দেশে করোনায় আরো ৩৯জনের মৃত্যু আগামী ছয়মাসেও দ্বিতীয় সংক্রমণের আশঙ্কা নেই দেশে করোনার সংক্রমন ফের বাড়ছে ফাইজারের টিকা করোনা প্রতিরোধে ৯৫ শতাংশ কার্যকরের দাবি করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবেলায় প্রস্তুত আছি: প্রধানমন্ত্রী
rasel
প্রকাশ : ২৪/১০/২০২০ ১১:১৬:১৪ PM

করোনাকালে পূজার উৎসব

বছর ঘুরে আবারও এসেছে শারদীয় দুর্গোৎসব। সনাতন ধর্মাবলম্বীরাও এ নিয়ে বেশ প্রস্তুতিও নিয়েছেন। যদিও করোনার কারণে আগের বছরের মতো জমকালো আয়োজন থাকছে না। তারপরও উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে তাদের মধ্যে।

বছর ঘুরে আবারও এসেছে শারদীয় দুর্গোৎসব। সনাতন ধর্মাবলম্বীরাও এ নিয়ে বেশ প্রস্তুতিও নিয়েছেন। যদিও করোনার কারণে আগের বছরের মতো জমকালো আয়োজন থাকছে না। তারপরও উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে তাদের মধ্যে।

বিনোদনজগতে সনাতন ধর্মের অনুসারী তারকারাও পূজা উদযাপন নিয়ে তাদের পরিকল্পনা সাজাচ্ছেন নিজেদের মতো করে। কয়েকজন তারকার পূজা উদযাপনের পরিকল্পনা নিয়ে এবারের আয়োজন।

বছরের পর বছর ধরে বেশ সাড়ম্বরেই পালিত হয় হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় আয়োজন দুর্গাপূজা। এর রেশ বিনোদনজগতেও পাওয়া যায়। টিভি চ্যানেলগুলোয় বিভিন্ন অঞ্চলের পূজার অনুষ্ঠান প্রচার করা হয়। তাছাড়া দশমীর দিন টিভি চ্যানেলগুলোয় নাটকের পাশাপাশি বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচার করতে দেখা যায়।

বরাবরের মতো সনাতন ধর্মের অনুসারী বিনোদন তারকারাও এ উৎসবের আনন্দে শামিল হওয়ার জন্য নিজেদের মতো করে পরিকল্পনা সাজাচ্ছেন। তেমনই কয়েকজন তারকা জানিয়েছেন তাদের আয়োজনের কথা।

অপু বিশ্বাস : এবারের দুর্গাপূজা আমার জন্য বিষাদের। কারণ মা এবার আর আমার পাশে নেই। তার মৃত্যুর পর থেকেই সব কিছু ফাঁকা ফাঁকা লাগছে। তাকে অনুভব করছি প্রতিটি ক্ষণে। আমি বড় হলেও ছোটবেলার মতোই মা আমাকে

স্নেহ করতেন ও খোঁজখবর নিতেন। সেগুলো আর পাব না। প্রতি বছর দুর্গাপূজায় অষ্টমীতে মা আর আমি একই ধরনের পোশাক পরে অঞ্জলি দিতে যেতাম, সেটি আর হচ্ছে না। তাছাড়া এবারের পূজা উদযাপনের জন্য আমার কোনো প্রস্তুতি নেই। সেভাবে কোথাও যাওয়ার পরিকল্পনাও নেই। তাছাড়া করোনা পরিস্থিতিও বিপজ্জনক পর্যায়েই আছে।

বিদ্যা সিনহা মিম : প্রতি বছর দুর্গাপূজায় বেশ আনন্দ করতাম। কিন্তু করোনাভাইরাসের কারণে এবারের প্রেক্ষাপট ভিন্ন। সব ওলট-পালট হয়ে গেছে। ভাইরাস থেকে নিরাপদ থাকার জন্য আমি সেভাবে বের হব না। হয়তো সর্বোচ্চ একটি মণ্ডপে যাব। অল্প সময়ের মধ্যেই আবার চলেও আসব। তবে এ পূজায় আমি প্রচুর উপহার পেয়েছি। ৩০টিরও বেশি পোশাক পেয়েছি, যা অন্যসব না পাওয়া খানিকটা ঘুচিয়ে দিয়েছে। সবাইকে সাবধানতা বজায় রেখেই পূজা উদযাপনের জন্য অনুরোধ করছি।

চঞ্চল চৌধুরী : ছোটবেলায় যেভাবে পূজা উদযাপন করতাম, এখন সেভাবে পারি না। কারণ কাজের জন্যই বেশি ব্যস্ত থাকতে হয় এখন। তাছাড়া বয়সও বৃদ্ধি পেয়েছে আগের চেয়ে। তাই দুর্গাপূজা নিয়ে ব্যক্তিগত উচ্ছ্বাসটিও এখন অনেক কম। তারপরও গ্রামের বাড়িতে বাবা-মা থাকেন, তাদের দেখতে যেতে হয়। তারা দু’জনই এখনও সুস্থভাবেই বেঁচে আছেন। প্রতি বছর দুর্গাপূজার সময়টায় গ্রামের বাড়িতে থাকি। সে কারণে এলাকার বন্ধুবান্ধব থেকে শুরু করে প্রতিবেশীরাও আমার সঙ্গে দেখা করতে আসেন। এবার হয়তো করোনার কারণে খুব বেশি সামাজিকতা করতে পারব না। তারপরও কিছু মানুষের সঙ্গে তো দেখা হবেই। এছাড়া এবারও পূজার নাটকে অভিনয়ের প্রস্তাব পেয়েছিলাম। করোনার কারণে সেগুলোয় কাজ করা হয়নি।

কুমার বিশ্বজিৎ : মাকে ছাড়া প্রথম পূজা উদযাপন করব- বিষয়টি খুব কষ্টের। সব কিছুতেই তার শূন্যতা অনুভব করছি। তারপরও হয়তো লৌকিকতা পালন করতে হয়। প্রতি বছর পূজায় মা অনেক কিছুরই আয়োজন করতেন। এবার সেটি আর হবে না। তাছাড়া গত কিছুদিনের মধ্যে আমার কয়েকজন নিকটাত্মীয় মারা গেছেন। সেই শোক এখনও কাটিয়ে উঠতে পারিনি। এর পাশাপাশি করোনাভাইরাস তো আছেই। তাই সব কিছুতেই একটি বিষণ্নভাব অনুভব করছি। এবার পূজায় আমার কোনো আয়োজন কিংবা বিশেষ পরিকল্পনা নেই। ঘরেই থাকব, তাই হয়তো টিভিতে পূজার আনুষ্ঠানিকতা দেখতে হবে।

বাপ্পী চৌধুরী : গত বছর যেভাবে পূজা উদযাপন করেছিলাম, সে রকম এবার হচ্ছে না করোনার কারণে। তারপরও পূজা পালনের প্রস্তুতি আছে আমার। এরই মধ্যে শপিং করেছি। নিজের জন্য তো বটেই, বাবা-মায়ের জন্যও কেনাকাটা করেছি। দাদা বাড়ি কুমিল্লা ও নানা বাড়ি নরসিংদীতে ঘুরতে যাব। আর দশমীর দিন নারায়ণগঞ্জেই থাকব পুরোটা সময়। সব মিলিয়ে চেষ্টা করব, স্বাস্থ্যবিধি মেনেই জনারণ্যে উপস্থিত হওয়ার। কারণ করোনা পরিস্থিতি এখনও বিপজ্জনক পর্যায়েই আছে। তাই সাবধানতার সঙ্গেই যেন সবাই পূজা উদযাপন করেন- এটিই আমার চাওয়া সবার কাছে।

মৌটুসী বিশ্বাস : এবার এমন একটি পূজা উদযাপন করতে হবে, যা কখনই ভাবিনি। করোনার কারণে আমি খুব বেশি কাজও করছি না। তাই পূজা উদযাপন নিয়েও সেভাবে কোনো পরিকল্পনা নেই। কিছু শপিং করেছি, তবে সেটা অনলাইনে। পূজা মণ্ডপে যাওয়ার জন্য কোনো পরিকল্পনা নেই। বাসায় বসেই নিকটাত্মীয়দের সঙ্গে নিয়ে পূজা উদযাপনের ইচ্ছা আছে।

জ্যোতিকা জ্যোতি : পূজার শেষ দিন অর্থাৎ দশমীর দিন আমার গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহের গৌরীপুরে থাকব। সেখানে বাবা-মা, ভাইবোন ও আত্মীয়স্বজনদের সঙ্গে নিয়ে পূজার আনন্দ আয়োজন উপভোগ করব। তবে করোনাভাইরাস না থাকলে এবারের আনন্দটা হয়তো আগের বছরগুলোর চেয়ে বেশি হতো। যদি বেঁচে থাকি তাহলে আগামী বছরের পূজা খুব পরিকল্পনা করে উপভোগ করব।



সপ্তাহের সর্বাধিক পঠিত খবর সমূহ
অন্যান্য খবর