শিরোনাম
সুগন্ধার আনাচে কানাচে স্বজনদের খুঁজছেন ৩৬ পরিবার ভ্রমণের আনন্দে বিষাদ! স্বামী ও সন্তানকে জিম্মি করে গৃহবধূকে দলবদ্ধ ধর্ষণ ৬ শতাধিক রোহিঙ্গা সপ্তম দফায় আজ ভাসানচরে যাচ্ছে করোনা সংক্রমণ ঊর্ধ্বমুখী, বেড়েছে মৃত্যু বিজয়ের ৫০ বছর পূর্তিতে দেশবাসীকে শপথ করালেন প্রধানমন্ত্রী সিংড়ায় শিশুর গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার
×

আবু বকর সিদ্দিক বাবু, উল্লাপাড়া প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১৪/১/২০২২ ৪:০২:৪৮ PM

উল্লাপাড়ায় বিদেশী কুল চাষে সাফল্য

ধান, সরিষা ও সবজি চাষ বাদ দিয়ে বিদেশী জাতের কুল চাষ করে সাফল্য পেয়েছেন উল্লাপাড়ার আদর্শ কৃষক ফজলুল হক।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায় তার বাগানে সারি সারি কুল গাছ। গাছগুলো আকারে ছোট। গাছে গাছে ঝুলছে আকর্ষনীয় সিডলেস ও বল সুন্দরী কুল। কুলের ভারে নুয়ে পড়েছে গাছগুলো।

বাঁশ দিয়ে ঠেস দিয়ে রাখা হয়েছে গাছগুলো। বাগানটি রাস্তার পাশে হওয়ায় প্রতিদিন পথচারীদের দৃষ্টিতে আসছে এই কুল বাগান। 

উল্লাপাড়া উপজেলার চর ঘাটিনা গ্রামের কৃষক ফজলুল হক এবছর তার দুই বিঘা জমিতে বিদেশী জাতের সিডলেস ও বল সন্দুরী কুলের আবাদ করেছেন।

এতে তিনি ৮০টি সিডলেস এবং ৮০টি বল সন্দুরী কলম রোপন করেছেন।

এই কলমগুলো তিনি ভারত থেকে সংগ্রহ করেছেন। গাছগুলোতে প্রচুর কুল ধরেছে। ইতোমধ্যে তিনি কুলগুলো বাজারে বিক্রিও শুরু করেছেন। 
 
শুক্রবার সকালে ঘাটিনা গ্রামে দৃষ্টিনন্দন কুল বাগানে গিয়ে কথা হয় কৃষক ফজলুল হকের সঙ্গে। তিনি জানান, বিদেশী কুল চাষে ভালো সাফল্যের খবরে তিনি তার জমিতে ধান, সরিষা ও সবজি চাষের পরিবর্তে প্রথমবারের মতো কুল চাষ করেছেন।

বিদেশী জাতের এই কুল গাছগুলো সংগ্রহ ও রোপন করতে তার খরচ হয়েছে প্রায় ৫০ হাজার টাকা।

এসব গাছ ৫ বছর পর্যন্ত ফল দেয়। প্রতি মৌসুমে  একটি সিডলেস কুল গাছ ৩০ খেবে ৩৫ কেজি কুল দেয়। অপরদিকে প্রতিটি বল সুন্দরী গাছে কুলের ফলন হয় ৭৫ থেকে ৮০ কেজি।

চলতি কুল মৌসুমে তার কুল থেকে আয়ের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে প্রায় সাড়ে ৩ লাখ টাকা। বর্তমানে তিনি সিডলেস কুল বিক্রি করছেন ৪ হাজার ৪২’শ টাকা মন দরে এবং বল সুন্দরী বিক্রি করছেন ২ হাজার থেকে ২২’শ টাকা মন।

এদিকে ফজলুল হকের কুল চাষের সাফল্যে পার্শ্ববর্তী এলাকার যুবক ও বেকার ছেলেরা কুল চাষে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এই কুল বাগান হওয়ায় কয়েকজন শ্রমিকের কর্মসংস্থানও সৃষ্টি হয়েছে। 

ফজলুল হকের কুল বাগানে দৈনিক হাজিরায় কর্মরত শ্রমিক সোহেল রানার সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, এই কুল বাগানে কাজ করার সুযোগ পেয়ে দু’টি পয়সা আয় করতে পারছেন। 

এ ব্যাপারে উল্লাপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুবর্ণা ইয়াসমিন সুমি জানান, ইতোমধ্যে তিনি ফজলুল হকের কুল বাগান তার সহকর্মীদের নিয়ে পরিদর্শন করেছেন। এবছর ফজলুল হক প্রথম কুল চাষ করেছেন।

কুল চাষে তিনি বেশ সফল হয়েছেন। তাকে দেখে এলাকার বেকার যুবকেরা কুল চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। তিনি আরো জানান, বেকার যুবকেরা কুল চাষ করলে তার দপ্তর থেকে সব রনের সুযোগ সুবিধা দেওয়া হবে।